Sunday, April 26th, 2026, 9:48 pm

২০০৯ সালের পর জন্মগ্রহণকারীদের ধূমপান নিষিদ্ধ, আইন করছে যুক্তরাজ্য

 

জন্মসালভিত্তিক ধূমপান নিষিদ্ধ করার একটি যুগান্তকারী আইন প্রণয়নের পথে রয়েছে যুক্তরাজ্য। প্রস্তাবিত আইন অনুযায়ী, ২০০৯ সালের ১ জানুয়ারি বা তার পর জন্ম নেওয়া কেউই জীবনে কখনো বৈধভাবে সিগারেট কিনতে পারবেন না।

দেশটির পার্লামেন্টের উভয় কক্ষ থেকে অনুমোদন পাওয়ার পর রাজকীয় সম্মতি মিললেই ‘টোবাকো অ্যান্ড ভেপস বিল’ আইনে পরিণত হবে।

এই বিলটি ২০২৪ সালে প্রথম উত্থাপন করেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক। তিনি তখন ঘোষণা দেন, প্রতি বছর ধূমপানের ন্যূনতম বয়স এক বছর করে বাড়ানো হবে। ফলে বর্তমান কিশোর প্রজন্ম কখনোই বৈধভাবে সিগারেট কিনতে পারবে না—এভাবেই ধীরে ধীরে গড়ে উঠবে একটি ‘ধূমপানমুক্ত প্রজন্ম’।

বর্তমানে লেবার পার্টি সরকারের অধীনে বিলটি আইনে পরিণত হওয়ার পথে রয়েছে।

এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য জনস্বাস্থ্য উন্নয়ন। ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস-এর পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে ইংল্যান্ডকে ‘স্মোক-ফ্রি’ দেশে পরিণত করতে ধূমপানের হার ৫ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

গত ৩৫ বছরে যুক্তরাজ্যে ধূমপানের হার প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ২০০৭ সালে পাবলিক স্থানে ধূমপান নিষিদ্ধ এবং ২০১৬ সালে সিগারেটের সাধারণ প্যাকেজিং চালু করার মতো পদক্ষেপগুলো এ অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

তবুও ধূমপান এখনো অসুস্থতা ও অকালমৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে রয়ে গেছে—বিশেষ করে নিম্ন আয়ের ও কম শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর মধ্যে এর প্রভাব বেশি।

আইনটি নিয়ে বিতর্কও কম নয়। সাবেক প্রধানমন্ত্রী লিজ ট্রাস একে ‘রাষ্ট্র সব জানে’ ধরনের হস্তক্ষেপ বলে সমালোচনা করেছেন, যা ব্যক্তিস্বাধীনতার পরিপন্থী।

একইভাবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন এই উদ্যোগকে ‘অযৌক্তিক’ বলে মন্তব্য করেছেন। সমালোচকদের আশঙ্কা, এতে কালোবাজার বাড়তে পারে এবং সরকারের রাজস্ব কমে যেতে পারে।

উল্লেখ্য, নিউজিল্যান্ড ২০২২ সালে একই ধরনের আইন চালু করলেও পরে তা বাতিল করে। অন্যদিকে মালদ্বীপ ২০২৫ সালে ২০০৭ সালের পর জন্ম নেওয়াদের জন্য এমন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করেছে।

নতুন এই আইনে ভেপিং বা ই-সিগারেট নিয়ন্ত্রণেও কঠোর বিধিনিষেধের প্রস্তাব রয়েছে। যদিও অনেকেই এটিকে কম ক্ষতিকর বিকল্প হিসেবে দেখেন, বিশেষজ্ঞদের মতে ভেপিংও পুরোপুরি নিরাপদ নয় এবং এটি ধূমপান ছাড়ার নিশ্চিত সমাধান নয়।

এনএনবাংলা/