Skip to content

শাহরাস্তিতে খাল দখল করে স্থায়ী ইমারত নির্মাণের হিড়িক: প্রশাসনে একাধিক অভিযোগ দিয়েও মিলছে না প্রতিকার

চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলায় একের পর এক সরকারি খাল দখল করে স্থায়ী ইমারত নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। প্রভাবশালী মহলের দখলদারিত্বের কারণে দিন দিন সংকুচিত হয়ে পড়ছে এলাকার গুরুত্বপূর্ণ পানি নিষ্কাশন খালগুলো।

স্থানীয়রা উপজেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন দপ্তরে একাধিকবার অভিযোগ দায়ের করলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার পৌরসভার বিভিন্ন এলাকা, নিজমেহার, সূচীপাড়া, বিজয়পুর, রগুরামপুর, দশনাপাড়া, নরিংপুর, চিতোষীসহ গুরুত্বপূর্ণ সরকারি খাল ভরাট করে পাকা দোকান, বসতঘর ও বহুতল ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। এতে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে, নষ্ট হচ্ছে কৃষিজমি এবং চরম দুর্ভোগে পড়ছেন সাধারণ মানুষ।

ভুক্তভোগী এলাকাবাসী জানান, খালগুলো একসময় কৃষি সেচ ও বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের প্রধান মাধ্যম ছিল। কিন্তু প্রভাবশালী দখলদারদের কারণে এখন অনেক খালের অস্তিত্বই প্রায় বিলীন। কেউ প্রতিবাদ করলে নানা রকম হুমকির মুখে পড়তে হয় বলেও অভিযোগ করেন তারা।

এ বিষয়ে রায়শ্রী দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য মোঃ শাহ ইমরান (দিপু) বলেন, শাহরাস্তি উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর বিজয়পুর বাজার সংলগ্ন খাল দখল করে দোকান ঘর নির্মাণের বিষয়ে (৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৪খ্রীঃ) লিখিত আবেদন করি। কিন্তু দখলদাররা আগের মতোই স্ব-অবস্থানে বিরাজমান রয়েছে। মনে হচ্ছে প্রশাসন নীরব ভূমিকা পালন করছে।

অন্যদিকে উপজেলার রায়শ্রী দক্ষিন ইউনিয়নের বিজয়পুর গ্রামের বাসিন্দা লায়ন মোহাম্মদ হোসেন (রানা) বলেন, রায়শ্রী দক্ষিণ ইউনিয়নের বিজয়পুর থেকে নাহারা গ্রামের সংযোগ খাল ভরাটের বিষয়ে চাঁদপুর জেলা প্রশাসক বরাবর (১৬ই জুন, ২০২৫ খ্রীঃ) একটি লিখিত অভিযোগ করি।

আবেদন করার পর আমি কোন প্রতিকার পাই নাই।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজিয়া হোসেন বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরে রয়েছে। খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, অবিলম্বে অবৈধ দখল উচ্ছেদ করে সরকারি খাল উদ্ধার না করা হলে ভবিষ্যতে শাহরাস্তি উপজেলায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতা ও পরিবেশগত বিপর্যয় দেখা দিতে পারে।