মধ্যপ্রাচ্যে চলমান চরম উত্তেজনা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল নিয়ে বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশের জন্য স্বস্তির বার্তা দিয়েছে ইরান। তেহরান জানিয়েছে, ‘বন্ধুপ্রতিম’ হিসেবে বিবেচিত দেশগুলোর বাণিজ্যিক জাহাজকে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে নিরাপদে চলাচলের বিশেষ সুযোগ দেওয়া হবে।
বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের এই সময়ে ইরানের এমন সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এতে দেশের জ্বালানি আমদানি ও সরবরাহ চেইন সচল রাখতে বড় ধরনের সহায়তা মিলতে পারে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের স্থবিরতা দেখা দেয়। তবে বর্তমানে ইরান বাছাই করা কিছু দেশকে এই রুট ব্যবহারের অনুমতি দিচ্ছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ করা হয়নি। অনেক দেশ ও জাহাজ মালিক নিরাপদে পারাপারের জন্য তেহরানের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করছে।
তিনি জানান, যেসব দেশকে ইরান ‘বন্ধু’ হিসেবে বিবেচনা করে, তাদের জাহাজের জন্য ইরানি সশস্ত্র বাহিনী নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে। ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই তালিকায় রয়েছে চীন, রাশিয়া, পাকিস্তান, ইরাক, ভারত এবং বাংলাদেশ।
ইতোমধ্যে ভারতের দুটি জাহাজ এই সুবিধা নিয়ে প্রণালি অতিক্রম করেছে এবং বাংলাদেশের সঙ্গেও এ বিষয়ে সমন্বয় করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আরাঘচি।
তবে ‘বন্ধু’ দেশগুলোর জন্য সুবিধা থাকলেও শত্রু রাষ্ট্রগুলোর ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ইরান। আরাঘচি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যেসব দেশকে ইরান প্রতিপক্ষ মনে করে বা যারা চলমান যুদ্ধে সরাসরি জড়িত, তাদের কোনো জাহাজ এই পথ ব্যবহার করতে পারবে না।
তিনি আরও বলেন, পুরো অঞ্চলটি এখন কার্যত যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে এবং ইরান ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে এই জলপথের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে। এর ফলে বিশ্ববাজারের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও এলএনজি সরবরাহ কার্যত তেহরানের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
শিপিং প্ল্যাটফর্ম ‘লয়েডস লিস্ট’এবং বিশ্লেষণ সংস্থা ‘কেপলার’- এর তথ্য অনুযায়ী, ১ মার্চ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় ৯৫ শতাংশ কমে গেছে। স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন যেখানে প্রায় ১২০টি জাহাজ চলাচল করে, সেখানে চলতি মাসে মাত্র ১৫৫টি জাহাজ এই পথ অতিক্রম করেছে।
এর বেশিরভাগই ছিল তেল ও গ্যাসবাহী জাহাজ, যা পূর্বমুখী ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের ১৫ দফা প্রস্তাব এবং ইসরায়েলের হামলার প্রেক্ষাপটে ইরান এই জলপথকে কৌশলগত হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।
এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য ইরানের এই বিশেষ সুবিধা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সূত্র: এনডিটিভি
এনএনবাংলা/


আরও পড়ুন
২০০৯ সালের পর জন্মগ্রহণকারীদের ধূমপান নিষিদ্ধ, আইন করছে যুক্তরাজ্য
তিন বছরে ৪০০ পোশাক কারখানা বন্ধ, আরও বহু ঝুঁকিতে: বিজিএমইএ
মাথাপিছু আয়ে ভারতকে ছাড়িয়ে যেতে পারে বাংলাদেশ: আইএমএফ