রাষ্ট্রের স্বার্থ ও জনগণের কল্যাণে ‘নির্মোহভাবে’ দায়িত্ব পালনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন নতুন অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল।
রোববার (২৯ মার্চ) নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি বলেন, সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে কোনো রাজনৈতিক আদর্শ তাকে প্রভাবিত করবে না।
তিনি বলেন, “আমি রাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিযুক্ত হয়েছি। রাষ্ট্রের স্বার্থে, রাষ্ট্রের কল্যাণে এবং রাষ্ট্রের পক্ষে সবসময় কথা বলে যাব।”
২৫ মার্চ দায়িত্বপ্রাপ্ত হলেও রোববার আনুষ্ঠানিকভাবে দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু করেন তিনি।
রাষ্ট্র ও সরকারের সম্পর্ক প্রসঙ্গে কাজল বলেন, রাষ্ট্র একটি বিমূর্ত ধারণা হলেও এটি সরকারের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। তাই সরকারের নীতি, সততা, কর্মনিষ্ঠা ও দেশপ্রেমের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জনগণের স্বার্থে কাজ করবেন তিনি।
বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে তিনি বলেন, রাষ্ট্রের তিনটি অঙ্গ—নির্বাহী বিভাগ, আইনসভা ও বিচার বিভাগ—স্বাধীনভাবে কাজ করে এবং প্রত্যেকটি নিজ নিজ ক্ষেত্রে সার্বভৌম।
আসন্ন বিভিন্ন ইস্যু আদালতে গড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, একজন অভিজ্ঞ আইনজীবী হিসেবে তিনি কোনো চাপ অনুভব করেন না। বরং তার নিয়োগকে তিনি পেশাগত দক্ষতার স্বীকৃতি হিসেবে দেখছেন।
অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়কে কার্যকর করতে সাংবাদিকদের ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন কাজল। তিনি বলেন, অবাধ তথ্যপ্রবাহে তিনি বিশ্বাসী, তবে অপতথ্য ও এআই-ভিত্তিক বিভ্রান্তি প্রতিরোধে সতর্ক থাকার প্রয়োজন রয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার সংকুচিত হওয়ার বিষয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এ বিষয়ে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে কথা বলে সমাধানের আশ্বাস দেন তিনি।
রুহুল কুদ্দুস কাজলের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
১৯৭০ সালের ১৯ নভেম্বর ঝিনাইদহের মহেশপুরে জন্মগ্রহণ করেন রুহুল কুদ্দুস কাজল। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন।
১৯৯৫ সালে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর যুক্তরাজ্যে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন এবং ২০০৬ সালে ব্যারিস্টার-অ্যাট-ল ডিগ্রি অর্জন করেন।
তিনি লন্ডনে বাংলাদেশ হাই কমিশনে সেকেন্ড সেক্রেটারি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। দেশে ফিরে আইন পেশায় সক্রিয় হন এবং ২০০৮ সালে আপিল বিভাগে ওকালতির অনুমতি পান।
ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত কাজল জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের ১৫ বছরে বিএনপি নেতাকর্মীদের পক্ষে আইনি লড়াইয়ে কাজলের ভূমিকা ছিল প্রথম সারিতে। খালেদা জিয়া ও তারেক রকমানের পক্ষে মামলা লড়তে বিএনপির আইনজীবী দলে ছিলেন তিনি।
সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনের ভোট গণনা নিয়ে হট্টগোল ও মারামারির মামলায় ২০২৪ সালের মার্চে কাজলকেও গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। পরে তিনি জামিনে মুক্তি পান।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য ছিলেন কাজল। পরে তার নেতৃত্বে বিএনপির আইনি সহায়তা সাব-কমিটি করা হয়। এবার তিনি অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পেয়েছেন।
এনএনবাংলা/


আরও পড়ুন
২০০৯ সালের পর জন্মগ্রহণকারীদের ধূমপান নিষিদ্ধ, আইন করছে যুক্তরাজ্য
তিন বছরে ৪০০ পোশাক কারখানা বন্ধ, আরও বহু ঝুঁকিতে: বিজিএমইএ
মাথাপিছু আয়ে ভারতকে ছাড়িয়ে যেতে পারে বাংলাদেশ: আইএমএফ