আসন্ন পাবলিক পরীক্ষাগুলোতে ‘নীরব বহিষ্কার’ বা সাইলেন্ট এক্সপেল পদ্ধতির কোনো সুযোগ রাখা হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
তিনি বলেন, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া বা ডিউ প্রসেস অনুসরণ ছাড়া কাউকে বহিষ্কার করা আইনসম্মত নয়। এ কারণে শিক্ষা বোর্ডের পুরনো নীতিমালায় থাকা বিতর্কিত ২৯ নম্বর ধারা অবিলম্বে বাতিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শনিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আসন্ন এসএসসি, এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা-২০২৬ সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে অংশীজনদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে বাসসকে এসব তথ্য জানান মন্ত্রী।
‘নীরব বহিষ্কার’ বিষয়ে বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “নীরব বহিষ্কার বলে কোনো শব্দ থাকতে পারে না। ১৯৮০ সালের পাবলিক পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ আইন দিয়েও আমরা পরীক্ষা পরিচালনা করেছি, সেখানে এমন কোনো বিধান ছিল না। এটি সম্পূর্ণ আইনবিরুদ্ধ একটি বিষয়।”
মন্ত্রী আরও বলেন, কাউকে শাস্তি দিতে হলে স্বচ্ছ ও নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই তা করতে হবে। কোনো শিক্ষার্থী পরীক্ষা কক্ষে নকল করেছে কি না, তা সেখানেই প্রমাণ করতে হবে। নীরবে বাড়িতে বসে কাউকে বহিষ্কার করার বিষয়টি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
তিনি জানান, বর্তমানে পরীক্ষা কেন্দ্রে বড় ধরনের গোলযোগের আশঙ্কা নেই বলে সরকার আত্মবিশ্বাসী। তাই নীতিমালায় থাকা এ অনুচ্ছেদটি দ্রুত সংশোধনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘নীরব বহিষ্কার’ নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, সে বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষা পরিচালনা সংক্রান্ত নীতিমালাটি ১৯৬১ সালে প্রণীত। এর পুরনো কোনো অসংগতিপূর্ণ কপি থেকেই এ ধরনের বিভ্রান্তি ছড়িয়ে থাকতে পারে।
ড. এহছানুল হক মিলন আরও জানান, এ বিষয়ে দ্রুত একটি স্পষ্টীকরণ বিজ্ঞপ্তি জারি করবে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি।
বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ২ জুলাই থেকে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হবে এবং টানা পাঁচ সপ্তাহের মধ্যে পরীক্ষা সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এ ছাড়া, আগামী ২১ এপ্রিল থেকে শুরু হতে যাওয়া এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে বলেও জানান তিনি।
শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করে মন্ত্রী বলেন, এবার যে কড়াকড়ি আইন প্রয়োগ করা হচ্ছে, তা মূলত শিক্ষার্থীদের জন্য নয়; বরং শিক্ষক ও কেন্দ্র সচিবদের দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করার জন্য।
তিনি বলেন, সরকার পরীক্ষার্থীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে চায় না; বরং শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন এবং মানসম্মত পাঠদান নিশ্চিত করতে শিক্ষক ও সংশ্লিষ্টদের দক্ষতা ও জবাবদিহিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।
শিক্ষার মান উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এনটিআরসিএ’র মাধ্যমে প্রধান শিক্ষক ও অধ্যক্ষ নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে, যা শিক্ষা ব্যবস্থার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
উল্লেখ্য, এ বৈঠকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি জুম প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে দেশের সব জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তা এবং শিক্ষক প্রতিনিধিরাও যুক্ত ছিলেন।
এনএনবাংলা/পিএইচ


আরও পড়ুন
২০০৯ সালের পর জন্মগ্রহণকারীদের ধূমপান নিষিদ্ধ, আইন করছে যুক্তরাজ্য
তিন বছরে ৪০০ পোশাক কারখানা বন্ধ, আরও বহু ঝুঁকিতে: বিজিএমইএ
মাথাপিছু আয়ে ভারতকে ছাড়িয়ে যেতে পারে বাংলাদেশ: আইএমএফ