বাবুগঞ্জে মে দিবসে অমৃত কনজুমার ফুড প্রডাক্টস্ শ্রমিক ইউনিয়নের বর্ণাঢ্য র্যালী

শ্রমিক-মালিক গড়বো দেশ সবার আগে বাংলাদেশ-এ প্রতিপাদ্যকে ধারণ করে বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার পাংশায় অবস্থিত অমৃত কনজুমার ফুড প্রডাক্টস্ শ্রমিক ইউনিয়নের আন্তর্জাতিক মহান মে দিবস- ২০২৬ উপলক্ষ্যে বর্ণাঢ্য র্যালী ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১ মে) সকালে একটি বর্ণাঢ্য র্যালী ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের ক্যাডেট কলেজ সংলগ্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে ফ্যাক্টরিতে এসে শেষ হয়। পরে সেখানে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাবুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও বরিশাল দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য ইসরত হোসেন কচি তালুকদার। অমৃত কনজুমার ফুড প্রোডাক্টস্ শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুল জলিল -এর সভাপতিত্বে এবং শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মোঃ আলাউদ্দিন-এর সঞ্চালনায়, বর্ণাঢ্য র্যালী ও সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা য্দুলের সাবেক সভাপতি মোঃ আওলাদ হোসেন,বাবুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মোঃ সেলিম সরদার, মাধবপাশা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোঃ মাহবুব তালুকদার,উপজেলা শ্রমিক দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মোঃ আলমগীর হাওলাদার,দেহেরগতি ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি মিলন খান, অমৃত কনজুমার ফুড প্রোডাক্টস্ শ্রমিক ইউনিয়নের সহ-সভাপতি মোঃ মাহবুব, সহ-সাধারণ সম্পাদক মোঃ স্বপন হাওলাদার, সাংগঠনিক সম্পাদক লিটন হাওলাদার। বর্ণাঢ্য র্যালী ও সমাবেশে এ সময়ে আরো উপস্থিত ছিলেন, শ্রমিক ইউনিয়নের কোষাদক্ষ কাজী মুক্তাল, প্রচার সম্পাদক মোঃ সজিব তালুকদার, সদস্য মোঃ সুমন, মোঃ জালাল শরীফ, ক্যাশিয়ার তারেক বাবু, সমাজসেবক সুমন মিত্র, শ্রমিক হেনা বেগম, মোঃ কবির, মোঃ আরিফ প্রমূখ। প্রধান অতিথির বক্তব্য ইসরত হোসেন কচি বলেন বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বিশ্বাস করতেন শ্রমিকের দু’টি হাতই রাষ্ট্র ও সমাজের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির মূল চাবিকাঠি। শ্রমজীবীদের কল্যাণে তিনি গ্রহণ করেছিলেন নানা যুগান্তকারী পদক্ষেপ। বিএনপি সরকার রাষ্ট্র পরিচালনায় থাকাকালীন প্রতিবার শ্রমজীবী মানুষের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। সংগঠনের সভাপতি আব্দুল জলিল বলেন, দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে শ্রমিকরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও তাদের ন্যায্য অধিকার আজও পুরোপুরি নিশ্চিত হয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, অনেক প্রতিষ্ঠানে এখনও ন্যূনতম মজুরি কাঠামো মানা হয় না, সময়মতো বেতন পরিশোধ করা হয় না, এবং অতিরিক্ত কাজের জন্য যথাযথ পারিশ্রমিক দেওয়া হয় না। এছাড়া কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা ব্যবস্থা অপর্যাপ্ত, যা প্রায়ই দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি বৃদ্ধি, কর্মঘণ্টা নির্ধারণ, স্বাস্থ্যসেবা ও বাসস্থানের সুবিধা নিশ্চিত করার দাবিও তিনি জোরালোভাবে তুলে ধরেন তিনি। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মোঃ আলাউদ্দিন বলেন আজকের এই ঐতিহাসিক দিনে আমরা সেইসব শ্রমিক শহীদদের গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি, যারা ন্যায্য অধিকার আদায়ের সংগ্রামে জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। তাদের আত্মত্যাগের ফলেই আমরা আজ শ্রমঘণ্টা নির্ধারণ, ন্যায্য মজুরি এবং শ্রমিক অধিকার নিয়ে কথা বলার সুযোগ পেয়েছি। কিন্তু দুঃখজনকভাবে বলতে হয়, এখনও আমাদের দেশের অসংখ্য শ্রমিক ন্যায্য মজুরি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, অনিরাপদ কর্মপরিবেশে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন এবং তাদের মৌলিক অধিকার পুরোপুরি নিশ্চিত হয়নি। আমরা এই পরিস্থিতির পরিবর্তন চাই। আমরা চাই প্রতিটি শ্রমিক যেন তার প্রাপ্য সম্মান, নিরাপত্তা এবং অধিকার পায়। আমি জোর দিয়ে বলতে চাই, শ্রমিকদের ছাড়া কোনো দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই সরকার, মালিকপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে শ্রমিকবান্ধব নীতি গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে শ্রমিক ভাই-বোনদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই আপনারা ঐক্যবদ্ধ থাকুন। ঐক্যই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। সমাবেশে বক্তারা বলেন, ‘আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবসের ইতিহাস আত্মত্যাগ ও সংগ্রামের ইতিহাস। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধসহ সকল আন্দোলন-সংগ্রামে শ্রমিকেরা অংশগ্রহণ করেছে। শ্রমিকেরাই এদেশের প্রাণশক্তি, শ্রমিকদের ঘামে গড়ে ওঠে অর্থনৈতিক ভিত। কিন্তু দেখা যায়, সকল সংকটে শ্রমিকেরাই থাকে সবচেয়ে বেশি অবহেলিত ও বঞ্চিত, যা অত্যন্ত দু:খজনক। অসহায় খেটে খাওয়া শ্রমজীবি মানুষের অধিকার আদায়ের আন্দোলনকে বেগবাদ করতে মহান মে দিবসের চেতনায় সকলকে উদ্বুদ্ধ থাকতে হবে। অংশগ্রহণকারীরা শ্রমিকদের অধিকার রক্ষা, ন্যায্য মজুরি নিশ্চিতকরণ এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। র্যালিতে বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী, শ্রমিক ও সমর্থকরা অংশগ্রহণ করেন। অংশগ্রহণকারীদের হাতে ছিল ব্যানার-ফেস্টুন, যেখানে মে দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরা হয়। শ্রমিকদের অধিকার রক্ষায় সরকারের প্রতি কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানানো হয়।
