কালকিনিতে বিএনপি নেতার কুপরামর্শে স্ত্রীকে ঘরে ফিরতে বাধার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন
মাদারীপুরের কালকিনিতে ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন শিকদারের স্ত্রীকে কুপরামর্শ দিয়ে ঘরে ফিরতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ শ্বশুর বাড়ীর লোকজনসহ এক ইউনিয়ন বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। বুধবার সকালে উপজেলার সাহেবরামপুর আন্ডারচর এলাকার ভুক্তভোগী স্বামী আনোয়ার হোসেন শিকদার স্ত্রীকে ফিরে পেতে দুই সন্তান নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এমন অভিযোগ করেন তিনি।অভিযুক্ত বিএনপি নেতা স্বপন মোলা কালকিনি উপজেলার রমজানপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি বলে জানাগেছে। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ১৪ বছর আগে উপজেলার সাহেবরামপুর ইউনিয়নের আন্ডারচর এলাকার মৃত আলাউদ্দিন সিকদারের ছেলে আনোয়ার শিকদারের সাথে একই উপজেলার রমজানপুর ইউনিয়নের সেকান্দার পাইকের মেয়ে রেখা বেগমের পারিবারিক ভাবে বিয়ে হয়। দীর্ঘ ১৪ বছর সংসার জীবনে তাদের একটি ছেলে ও একটি মেয়ে সন্তান রয়েছে। প্রায় ৩ মাস আগে পারিবারিক কলহের জের ধরে রেখা বেগম তার বাপের বাড়ি চলো যায়।এরপর থেকেই আনোয়ার শিকদারের শ্বশুর বাড়ীর লোকজন এবং ইউনিয়ন বিএনপি নেতা স্বপন মোল্লা কুপরামর্শ দিয়ে রেখা বেগমকে তার স্বামী বাড়িতে যেতে বাধা প্রদান করে এবং স্ত্রীর রেখা বেগমও তাদের যোগসাজসে সায় দেয় এবং আনোয়ার শিকদার তার স্ত্রী সন্তানদের আনতে তার শ্বশুর বাড়ি গিয়ে সন্তানদের নিয়ে আসে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে স্ত্রী রেখা বেগম আনোয়ার শিকদারের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপহরণের অভিযোগ তুলে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার চালায়। এর পাশাপাশি ইউনিয়ন বিএনপি নেতা স্বপন মোল্লা আনোয়ার শিকদারের স্ত্রী রেখার সাথে শালিস মীমাংসার মাধ্যমে আবার ঘরে তুলে দিবেন বলে আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময় তার কাছ থেকে নগদ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী স্বামী আনোয়ার হোসেন শিকদার। এ নিয়ে প্রতিবেশী ও স্থানীয়রা বেশ কয়েকবার মীমাংসার চেষ্টা করলেও কোনো সুরাহা মেলেনি। এই ঘটনায় শ্বশুরবাড়ির লোকজন ও বিএনপি নেতার সুষ্ঠু বিচার দাবি করে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে ভুক্তভোগী আনোয়ার হোসেন ও তার দুই শিশু সন্তান। সংবাদ সম্মেলন স্বামী আনোয়ার হোসেন শিকদার বলেন,আমার দীর্ঘদিনের সংসার ভাঙ্গার চেষ্টা করছে আমার শ্বশুর বাড়ির লোকজন ও বিএনপি নেতা স্বপন মোল্লা। আমার স্ত্রী তার বাবার বাড়িতে বেড়াতে গেলে আমি আমার সন্তানসহ আমার স্ত্রীকে আমার বাড়িতে আনার জন্য শশুর বাড়িতে যাই এরপরে আমার স্ত্রী আমার সাথে আসবে না এমনটা জানালে আমি আমার দুই সন্তানকে নিয়ে আমার বাড়িতে চলে আসি। কিন্তু আমি আসার পরেই শুনতে পাই আমার স্ত্রী শশুর বাড়ির লোকজন ও বিএনপি নেতার কথায় আমার বিরুদ্ধে করে অপহরণের অভিযোগ আনে যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। আমি কোন তালাকের কাগজ পাইনি। এসআই লাভলু সরেজমিনে গিয়ে আমার স্ত্রীকে তালাক নোটিশের কথা কথা জিজ্ঞেস করেছেন কিন্তু তালাকের কোন নোটিশ আমি পাইনি তা প্রমান পেয়েছেন। আমার স্ত্রী ওই বিএনপি নেতার কুপরামর্শে শুধু মুখে বলে আসছে তালাক দিয়েছে। আমি আমার স্ত্রীকে ফেরত চাই এবং যারা এর পিছনে ষড়যন্ত্র করেছে তাদের সুষ্ঠু বিচার চাই। এবিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে রমজানপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি স্বপন মোল্লা বলেন,এটুকুই বলতে পারি আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগগুলো করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। মীমাংসার কথা বলে নগদ অর্থ নেওয়ার ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি টাকা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন এবং তাছাড়া আমি এখন আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ব্যস্ত আছি পরে আপনাদের সাথে দেখা করে কথা বলবো। তবে অভিযুক্ত স্ত্রী রেখা বেগমের দাবি, স্বামী আনোয়ার হোসেন তাকে নির্যাতন করেছে বিধায় তালাক দিয়েছে। এ ব্যাপারে কালকিনি থানার উপপরিদর্শক এসআই লাবলু জানান, আমি অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। আনোয়ার তার স্ত্রী সন্তানদের দেখতে বা বাড়িতে ফিরিয়ে নিতে অনুরোধ করতে পারে এটা স্বাভাবিক। এনিয়ে দফায় দফায় শালিশ মিমাংসা হয়েছে। কিন্তু কোন সমাধানে আসেনি। তবে আনোয়ার জানিয়েছে আমাকে সে কোন তালাকের নোটিশ পায়নি।
