রেললাইনে খড় শুকানোয় চাকা স্লিপ করে সকালে তিন ট্রেন বিলম্ব : রেলমন্ত্রী
ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ট্রেনে ঘরমুখী মানুষের চাপ বাড়লেও বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনা বা বিপর্যয়ের আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছেন সড়ক, রেল ও নৌমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেন, পুরোনো রেললাইন ও লোকোমোটিভ দিয়েই সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে ঈদযাত্রা পরিচালনা করা হচ্ছে।
রোববার কমলাপুর রেলস্টেশন পরিদর্শনে এসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী জানান, রেললাইনের ওপর ধানের খড় শুকাতে দেওয়ার কারণে একটি ট্রেনের চাকা পিছলে যায়। এতে সকালে তিনটি ট্রেন বিলম্বিত হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, ঈদের সময় ট্রেনযাত্রার প্রতি মানুষের আগ্রহ অনেক বেশি থাকলেও যাত্রীসংখ্যার তুলনায় ট্রেন ও রেলের সক্ষমতা এখনও সীমিত। সাধারণ সময়ে আন্তনগর ট্রেনে প্রতিদিন প্রায় ৩২ হাজার যাত্রী পরিবহন করা হলেও ঈদ উপলক্ষে অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ টিকিট ছেড়ে এখন প্রায় ৪০ হাজার যাত্রী পরিবহনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “লাখ লাখ মানুষের একসঙ্গে ট্রেনে বাড়ি ফেরার ইচ্ছা থাকে। সেই চাপ সামাল দেওয়া অবশ্যই বড় চ্যালেঞ্জ।”
আকস্মিকভাবে স্টেশন পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, কোনো পূর্বনির্ধারিত পরিকল্পনা ছাড়াই তিনি স্টেশনে গিয়ে দুটি ট্রেনে ওঠেন এবং যাত্রীসেবা ও পরিবেশ সন্তোষজনক পেয়েছেন। পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমও চলমান রয়েছে বলে জানান তিনি।
তবে যাত্রীচাপ সামাল দিতে সিটিং সক্ষমতার বাইরে অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ টিকিট ছাড়তে হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন মন্ত্রী।
সকালের ট্রেন বিলম্বের বিষয়ে তিনি বলেন, খড়ের কারণে একটি ট্রেনের চাকা স্লিপ করায় সেখানে ইঞ্জিন ও কর্মী পাঠিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে হয়েছে। ফলে দুটি থেকে তিনটি ট্রেন দেরিতে চলেছে। এর মধ্যে একটি ট্রেন প্রায় ২০ মিনিট, একটি এক ঘণ্টা এবং আরেকটি প্রায় দুই ঘণ্টা পর্যন্ত বিলম্বিত হতে পারে।
পরদিনের শিডিউলে এর প্রভাব পড়বে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, দিনের মধ্যেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাবে বলে তারা আশা করছেন। অতিরিক্ত সক্ষমতা ও স্পেয়ার লোকোমোটিভ সংশ্লিষ্ট এলাকায় পাঠানো হয়েছে।
রেললাইনের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, দেশে এখনও ১৯৩০, ১৯৪০ ও ১৯৪৫ সালের পুরোনো রেললাইন ব্যবহৃত হচ্ছে। দীর্ঘদিনের পুরোনো লোকোমোটিভ ও কোচ দিয়েই ট্রেন পরিচালনা করতে হচ্ছে। চাহিদা অনুযায়ী রেললাইন, কোচ ও ইঞ্জিন বাড়ানো সম্ভব হয়নি বলেও স্বীকার করেন তিনি।
তিনি জানান, দুর্ঘটনা বা লাইনচ্যুত হওয়ার ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো আগে থেকেই চিহ্নিত করে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটবে না বলেই আশা প্রকাশ করেন তিনি।
রেললাইনের ওপর খড় শুকানোর বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, অনেক এলাকায় কিলোমিটারের পর কিলোমিটারজুড়ে খড় শুকাতে দেওয়া হয়। সেগুলো সরাতে গেলে স্থানীয়দের বিরূপ প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়তে হয়। পাশাপাশি সব স্টেশন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রিত বা নিরাপত্তাবেষ্টিত নয় বলেও জানান তিনি।
রেলমন্ত্রী দাবি করেন, আগের তুলনায় রেলের সার্বিক পরিবেশ ও সেবার মান উন্নত হয়েছে। অনলাইনে যারা আগে টিকিট বুক করেছেন, তারাই টিকিট পেয়েছেন এবং কোনো সিন্ডিকেট বা অনিয়ম হয়নি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ঈদ উপলক্ষে আগামীকাল থেকে পাঁচ জোড়া বিশেষ ট্রেন চালু করা হবে বলে জানান মন্ত্রী। এছাড়া কোরবানির পশু পরিবহনের জন্য তিনটি ক্যাটল ট্রেনও পরিচালনা করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে নতুন করে ৫১টি কোচ যুক্ত করা হয়েছে। বর্তমানে ৮২ থেকে ৮৩টি লোকোমোটিভ সচল রয়েছে। আরও কয়েকটি যুক্ত করা গেলে মোট ৮৫ থেকে ৮৬টি লোকোমোটিভ পরিচালনায় রাখা সম্ভব হবে। এতে যাত্রী পরিবহন আরও স্বাভাবিক ও নির্বিঘ্ন হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এনএনবাংলা/পিএইচ
