রামিসা হত্যার রায় তিন মাসের মধ্যে কার্যকর সম্ভব : আইনমন্ত্রী
পল্লবীর শিশু রামিসা আক্তারের ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায় সব আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা গেলে তিন মাসের মধ্যেই কার্যকর করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
রবিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, মামলার বিচার মাত্র ছয় কার্যদিবসের মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এখন আইন অনুযায়ী পরবর্তী ধাপগুলো দ্রুত শেষ করা গেলে তিন মাসের মধ্যেই রায় কার্যকর করা সম্ভব হবে।
আইনমন্ত্রী জানান, আইনে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা বেঁধে দেওয়া না থাকলেও মামলার প্রতিটি ধাপ যথাযথভাবে অনুসরণ করে বিচার সম্পন্ন করা হয়েছে। রায়ে সরকার সন্তুষ্ট বলেও উল্লেখ করেন তিনি। একই সঙ্গে আশা প্রকাশ করেন, উচ্চ আদালতেও এই রায় বহাল থাকবে।
রায় কার্যকর করার বিষয়ে তিনি বলেন, আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে তড়িঘড়ি করে কোনো সিদ্ধান্ত নিলে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। আসামিরা চাইলে উচ্চ আদালতে আপিল করতে পারবেন এবং সেক্ষেত্রে প্রচলিত আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, আইনি বিধান অনুযায়ী সাত দিনের মধ্যে মামলার নথি ডেথ রেফারেন্স কনফার্মেশনের জন্য হাইকোর্টে পাঠানো হবে। এরপর সুপ্রিম কোর্টের তত্ত্বাবধানে পেপার বুক প্রস্তুত করা হবে এবং নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় শুনানি শেষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে।
এর আগে রবিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে আসামি স্বপ্না আক্তারকে আদালতে আনা হয়। পরে সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে প্রিজনভ্যানে করে আদালতে হাজির করা হয়। এরপর তাদের আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়।
গত ৪ জুন রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হলে আদালত ৭ জুন রায়ের দিন নির্ধারণ করেন। মাত্র চার কার্যদিবসে বিচারকাজ সম্পন্ন হয়। রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আদালত প্রাঙ্গণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল।
এর আগে ১ জুন সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। ২ জুন মামলার ১৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়। পরদিন ৩ জুন আত্মপক্ষ সমর্থনের সময় আসামিরা নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন।
ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন রায়ে সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড দেন। পাশাপাশি সোহেলকে পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নাকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া তাদের সম্পত্তি বিক্রি করে সেই অর্থ ভুক্তভোগী পরিবারের কাছে হস্তান্তরের নির্দেশ দেন আদালত।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ১৯ মে সকালে পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা আক্তার বাসা থেকে বের হয়। অভিযোগ রয়েছে, তাকে কৌশলে নিজের বাসায় ডেকে নেয় স্বপ্না আক্তার। পরবর্তীতে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এনএনবাংলা/পিএইচ
