Skip to content

Upcoming
France
0-0
Spain
Source: ESPN

জাতীয় সংসদ প্রাঙ্গণে চিরনিদ্রায় শায়িত ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার

ছবি: বিএনপি মিডিয়া সেল

সাবেক স্পিকার, সাবেক ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারকে জাতীয় সংসদ ভবন চত্বরে দাফন করা হয়েছে। রোববার (১২ জুলাই) সন্ধ্যা ৭টার দিকে দুটি জানাজা শেষে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।

প্রথম জানাজা রাজধানীর ধানমণ্ডির ত্বাকওয়া মসজিদে অনুষ্ঠিত হয়। পরে বাদ আসর জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ, ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুল ইসলাম, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য এবং সংসদ সদস্যরা অংশ নেন। বিএনপি আগামীকাল একদিনের শোক কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।

এর আগে রোববার ভোর ৪টা ১৯ মিনিটে বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় রাজধানীর শ্যামলীর বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

তার মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ, বিরোধী দলীয় নেতা, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান, ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলামসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্য গভীর শোক প্রকাশ করেন।

ব্যারিস্টার মুহাম্মদ জমির উদ্দিন সরকার বাংলাদেশের একজন বিশিষ্ট আইনজীবী, রাজনীতিবিদ, সাবেক স্পিকার এবং সাবেক ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ছিলেন। তিনি ২০০১ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত অষ্টম জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০২ সালে রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর পদত্যাগের পর নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন। বিএনপির প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই তিনি দলের অন্যতম নেতা এবং দীর্ঘদিন স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলেন।

১৯৩১ সালের ১ ডিসেম্বর তৎকালীন জলপাইগুড়ি জেলার (বর্তমান পঞ্চগড়) তেঁতুলিয়া উপজেলার নয়াবাড়ি গ্রামে তার জন্ম। বাবা মৌলভী আলী বক্স ও মা বেগম ফখরুন্নেছা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে সম্মান ও স্নাতকোত্তর এবং এলএলবি সম্পন্ন করার পর ১৯৬০ সালে আইন পেশায় যোগ দেন। ১৯৬১ সালে যুক্তরাজ্যের লন্ডনের লিংকনস ইন থেকে ব্যারিস্টার-অ্যাট-ল ডিগ্রি অর্জন করে দেশে ফিরে সুপ্রিম কোর্টে সংবিধান, দেওয়ানি ও ফৌজদারি আইন বিষয়ে দীর্ঘদিন সুনামের সঙ্গে আইন পেশা পরিচালনা করেন।

রাজনৈতিক জীবনে তিনি ছাত্ররাজনীতির মাধ্যমে যাত্রা শুরু করেন। পরে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক উদ্যোগে যুক্ত হয়ে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের একজন হন। তিনি একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং ভূমি, শিক্ষা, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কসহ গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন।

২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর তিনি স্পিকার নির্বাচিত হন এবং ২৫ জানুয়ারি ২০০৯ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। স্পিকার হিসেবে সংসদীয় রীতি-নীতি অনুসরণ, নিরপেক্ষতা এবং সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের জন্য তিনি বিশেষভাবে প্রশংসিত ছিলেন। এছাড়া ২০০২ সালের ২১ জুন থেকে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন।

আইন ও আন্তর্জাতিক বিষয়ে তার গভীর আগ্রহ ছিল। আন্তর্জাতিক আইন, সমুদ্র আইন, জাতিসংঘ এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস নিয়ে তিনি একাধিক গ্রন্থ রচনা করেন। নিজ জন্মভূমি পঞ্চগড়ে ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার কলেজিয়েট ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শিক্ষাক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।

ব্যক্তিগত জীবনে তিনি বেগম নুর আখতারের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের এক মেয়ে ও দুই ছেলে রয়েছে। দুই ছেলেই সুপ্রিম কোর্টে ব্যারিস্টার হিসেবে আইন পেশায় নিয়োজিত।

বাংলাদেশের আইন, সংসদীয় গণতন্ত্র ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান বিকাশে ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের অবদান দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

এনএনবাংলা/