সাম্প্রতিক
কুইক রেন্টালের নামে লুটপাটের পরিবর্তে সাশ্রয়ী উপায়ে বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান সম্ভব: প্রধানমন্ত্রী ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বেড়ে ২,০৬০ টাকা বাণিজ্য বৃদ্ধিতে দ্রুত সিইপিএ চুক্তি স্বাক্ষরে বাংলাদেশ ও ইউএইর গুরুত্বারোপ শেখ হাসিনার সম্পদ বাজেয়াপ্ত করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিফ প্রসিকিউটরের চিঠি ঘুসসহ আটক লালবাগ রাজস্ব সার্কেলের সার্ভেয়ার তাহসিফ সাউরি হত্যা: বন্ধু দীপ ফের ৩ দিনের রিমান্ডে ঘরের মধ্যে মুড়ির প্যাকেট বিস্ফো’রণ, জামায়াত নেতা আহত মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা জিতলে সব বিলে ভেটো দেবেন ট্রাম্প নেপালে দুই হেলিকপ্টারের সংঘর্ষে ১ জনের মৃত্যু ইরানে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, ভোরে উপকূলীয় এলাকায় দফায় দফায় বিস্ফোরণ
Skip to content

পোশাকশিল্পে অস্থিরতা: আজও বন্ধ ৩০৬ কারখানা, কাজে নেই ৭ লাখ শ্রমিক

ছবি: শামীম আহমেদ

ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণসহ বিভিন্ন দাবিতে টানা চতুর্থ দিনের মতো আন্দোলন করছেন পোশাকশ্রমিকরা। বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের জেরে দেশের প্রধান তিন শিল্পাঞ্চলে আজ মঙ্গলবারও ৩০৬টি পোশাক কারখানায় উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। এসব কারখানায় কর্মরত শ্রমিকের সংখ্যা প্রায় সাত লাখ।

বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর মিরপুর, গাজীপুর ও সাভার-আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে এসব কারখানা বন্ধ রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিভিন্ন কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।

আজ শ্রমিক বিক্ষোভের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে গাজীপুরে। মহানগরের নাওজোড় এলাকায় সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করেন শ্রমিকরা। এ সময় কোনাবাড়ী, মৌচাক ও তেলিচালা এলাকাতেও বিক্ষোভ হয়। পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় গাজীপুরের ৫০টি পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এর আগে সোমবার একই এলাকায় বিক্ষোভ, অগ্নিসংযোগ ও পুলিশের গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে।

সাভারের আশুলিয়ায় শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। আবদুল্লাহপুর-বাইপাইল সড়কের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। পরিস্থিতির কারণে প্রায় ৪০টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। আরও ১০টি কারখানার শ্রমিকরা কাজ বন্ধ রেখে ভেতরে অবস্থান করেন।

রাজধানীর মিরপুরেও সকাল ১০টার দিকে মিরপুর-১১ মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এতে পল্লবী-মিরপুর-১০ সড়কে যান চলাচল সাময়িক বন্ধ হয়ে যায়। পরে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। এ ঘটনায় অন্তত চারজনকে আটক করেছে পুলিশ। সংঘর্ষের কারণে মিরপুর-১১ মেট্রোরেল স্টেশনে সাময়িকভাবে ট্রেন থামানো বন্ধ রাখা হয়।

এর আগে সোমবার শ্রমিক আন্দোলন ও নিরাপত্তাঝুঁকির কারণে অন্তত ৬৯০টি পোশাক কারখানায় উৎপাদন বন্ধ ছিল। এসব কারখানায় কর্মরত শ্রমিকের সংখ্যা ছিল ১৭ লাখের বেশি। বিজিএমইএর হিসাবে, গাজীপুর ও ময়মনসিংহে ৩৮২টি, সাভার-আশুলিয়া ও জিরাবোতে ২২৩টি এবং মিরপুরে ৬৫টি কারখানায় উৎপাদন বন্ধ ছিল। এ ছাড়া নারায়ণগঞ্জে বিকেএমইএর সদস্যভুক্ত প্রায় ২০টি কারখানাও বন্ধ ছিল।

এর আগের দিন ১ নভেম্বর দেশের পাঁচটি শিল্পাঞ্চলে ৩১৮টি পোশাক কারখানা বন্ধ ছিল। এতে কাজে যোগ দিতে না পারা বা কাজ বন্ধ রাখা শ্রমিকের সংখ্যা ছিল ৭ লাখ ২ হাজার ২৫৫ জন।

এদিকে, দীর্ঘস্থায়ী শ্রমিক অসন্তোষে দেশের তৈরি পোশাকশিল্পের রপ্তানি ও সরবরাহব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। উৎপাদন বন্ধ থাকলে বিদেশি ক্রেতাদের কাছে সময়মতো পণ্য সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে। এতে রপ্তানি চালান বিলম্বিত হওয়া, ক্রেতাদের আস্থা কমে যাওয়া এবং নতুন অর্ডার অন্য দেশে চলে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। একই সঙ্গে পরিবহন, প্যাকেজিং, বস্ত্র, সুতা ও অন্যান্য সহযোগী খাতও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে বিজিএমইএ।

এনএনবাংলা/