সাম্প্রতিক
তিতাসের ‘সিস্টেম লস’ বছরে ১০ কার্গো এলএনজির সমপরিমাণ গ্যাস হাম ও উপসর্গে আরও ৩ মৃত্যু, প্রাণহানি ছাড়াল ১ হাজার জুলাই জাদুঘরে অশ্রুসজল রাষ্ট্রপতি, বললেন ‘মূল্য দিয়েছি অনেক বেশি’ সালমান শাহর মৃত্যু: ডনের বিরুদ্ধে ‘গুরুত্বপূর্ণ তথ্য’ গোপনের অভিযোগ ইতালীয় গণমাধ্যমে বাঁধনের ওপর হামলার খবর, তদন্তে বিশেষ পুলিশ ‘দিগোস’ মেট্রোরেলের ২৭ বিয়ারিং প্যাড ‘ক্রিটিক্যাল’, ৪৬ পিলারে ফাটল: সংসদে মন্ত্রী আশির দশকে ফিরছে সোশ্যাল মিডিয়া, এআই ছবির ট্রেন্ডে নেটিজেনরা বিএনপি ক্ষমতায় আর বিদ্যুৎ-গ্যাসের সংকট হবে না, দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হবে না— সেটা হতে পারে না: রুমিন ফারহানা ডিসেম্বরে হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে যা বললেন হর্ষবর্ধন শ্রিংলা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তৈরি শ্বেতপত্রের আলোকেই পদক্ষেপ গ্রহণ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী
Skip to content

সরিষা ফুলের মিষ্টি গন্ধে ভাসছে খাটুয়াডাঙ্গা

নিজস্ব প্রতিবেদক:

যশোর জেলার মনিরামপুর উপজেলার খাটুয়াডাঙ্গা গ্রাম যেন প্রকৃতির এক টুকরো কবিতা। শীতের এই সময়ে গ্রামজুড়ে সরিষা ক্ষেতের হলুদ আভা যেন মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে যায়। বিস্তীর্ণ মাঠে ঝলমলে রোদে সরিষা ফুলের হলুদ রং, এক অদ্ভুত মায়া তৈরি করেছে। দূর থেকে দেখলে মনে হবে যেন হলুদ গালিচা বিছানো হয়েছে প্রকৃতির আঁচলে।

সরিষার ক্ষেতের সৌন্দর্যে শুধু গ্রামের মানুষ নয়, আশপাশের এলাকা থেকে অনেকেই এখানে আসেন। প্রকৃতিপ্রেমী ও আলোকচিত্রীদের কাছে এ সময়ে খাটুয়াডাঙ্গা গ্রামের সরিষা ক্ষেত বিশেষ আকর্ষণ। এখানে দাঁড়ালে শীতল বাতাসে সরিষার মিষ্টি গন্ধ মনে এনে দেয় এক নতুন সতেজ অনুভূতি।

সরিষার ক্ষেতজুড়ে মৌমাছি আর প্রজাপতির ব্যস্ত আনাগোনা ক্ষেতটির সৌন্দর্য ও কার্যকারিতা আরও বাড়িয়ে তোলে। মৌমাছিরা ফুলের মধু সংগ্রহ করতে করতে পরাগায়ণের কাজও করে। এদের কর্মতৎপরতার ফলে সরিষার ফলন বাড়ে।

সরিষা ফুলের মিষ্টি গন্ধে ভাসছে খাটুয়াডাঙ্গা

কৃষক জানালেন, মৌমাছি আর প্রজাপতির আনাগোনা ফলনের জন্য আশীর্বাদ। প্রকৃতির এই দান আমাদের চাষাবাদে অনেক সুবিধা এনে দেয়।

সরিষার হলুদ ফুলে নানা রঙের প্রজাপতিরা যেন নৃত্য করে। বিশেষ করে লাল, নীল, সাদা রঙের প্রজাপতির উপস্থিতি এক মোহনীয় পরিবেশ সৃষ্টি করে। এরা ফুলে বসে, ডানা মেলে, আবার উড়ে যায়। বাতাসে ফুলের মিষ্টি গন্ধ আর প্রজাপতির ডানার ঝাপটা এক সুরেলা ছন্দ তোলে।

সরিষা ফুলের মিষ্টি গন্ধে ভাসছে খাটুয়াডাঙ্গা

স্থানীয় কৃষকরা জানিয়েছেন, সরিষা চাষ শুধু তাদের জীবিকা নির্বাহের মাধ্যম নয়, বরং এটি তাদের সংস্কৃতির একটি অংশ। গ্রামের মানুষেরা সরিষার তেল বানিয়ে পরিবারের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি বিক্রিও করেন।
ক্ষেতের যত্ন নেওয়ার গল্প বলতে গিয়ে হাসান বললেন, ‘এবার ফলন ভালো হবে বলে আশা করছি। হলুদ সরিষার ক্ষেত শুধু আমাদের আয়ই বাড়ায় না, গ্রামের সৌন্দর্যও বাড়িয়ে দেয়।’

সরিষা ফুলের মিষ্টি গন্ধে ভাসছে খাটুয়াডাঙ্গা

সরিষা ক্ষেতে দাঁড়িয়ে সূর্যাস্ত দেখার অভিজ্ঞতা যেন আরও রোমাঞ্চকর। লালচে সূর্যের আলো যখন সরিষার ফুলের ওপর পড়ে, তখন পুরো ক্ষেত যেন সোনালি আভায় আলোকিত হয়ে ওঠে। মৌমাছি আর প্রজাপতির উপস্থিতি সেই মুহূর্তগুলোকে আরও জীবন্ত করে তোলে।

খাটুয়াডাঙ্গা গ্রামের সরিষা ক্ষেত শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্যই নয়, এটি যেন গ্রামীণ জীবনের সরলতার প্রতীক। যারা ব্যস্ত শহরের কোলাহল থেকে মুক্তি পেতে চান, তাদের জন্য খাটুয়াডাঙ্গা গ্রাম হতে পারে এক আদর্শ গন্তব্য।