ডিসেম্বরে হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে যা বললেন হর্ষবর্ধন শ্রিংলা

বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা এবং তার সাম্প্রতিক বিভিন্ন বক্তব্য নিয়ে মন্তব্য করেছেন ভারতের সাবেক পররাষ্ট্র সচিব ও রাজ্যসভার সদস্য হর্ষবর্ধন শ্রিংলা।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) উত্তর ২৪ পরগনার বারাসাতে অ্যাডামাস বিশ্ববিদ্যালয়ের রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর অডিটোরিয়ামে ‘ইন্ডিয়া অ্যান্ড ব্রিকস: দ্য ওয়ে এহেড’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন তিনি। অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন শ্রিংলা।
শেখ হাসিনার বিভিন্ন বক্তব্য এবং আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ঘোষণার বিষয়ে জানতে চাইলে শ্রিংলা বলেন, শেখ হাসিনা কী বলছেন, সেটি তার নিজের এবং বাংলাদেশের মধ্যকার বিষয়। ভারতের সরকারও একাধিকবার জানিয়েছে, শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলন বা বক্তব্যের সঙ্গে ভারত সরকারের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
ভারত সবসময় প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে চায় উল্লেখ করে শ্রিংলা বলেন, ভারতীয় ও বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থেই দুই দেশের মধ্যে ভালো সম্পর্ক থাকা প্রয়োজন।
ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের এবং ঐতিহাসিক। উভয় দেশের মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করতে ভারত ও বাংলাদেশকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
এদিকে দিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ভারতের আমন্ত্রণ জানানোর বিষয়েও কথা বলেন শ্রিংলা। তার ভাষ্য, ভারত তার ‘সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ অংশীদারদের’ সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানিয়েছে। এর আগে জি-৭ সম্মেলনেও বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।
ব্রিকস সম্মেলনে বাংলাদেশ অংশ নেবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের—এমন মন্তব্য করে শ্রিংলা বলেন, সম্মেলনে অংশ নিলে বাংলাদেশের জন্য বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও মতবিনিময়ের ভালো সুযোগ তৈরি হবে।
শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্কে যে শীতলতা তৈরি হয়েছে, তা ভবিষ্যতে কাটবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে শ্রিংলা বলেন, কোনো না কোনো একসময় দুই দেশকে একসঙ্গে কাজ করতেই হবে।
তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় রয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একটি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিত্ব করছেন। জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে সরকার ক্ষমতায় এসেছে। তাই ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের কাজ করাটা স্বাভাবিক বিষয়। এতে একটি ইতিবাচক বার্তাও যাবে বলে মনে করেন তিনি।
ভবিষ্যতে ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্ক আবারও স্বাভাবিক ও সহযোগিতামূলক পথে এগিয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন ভারতের সাবেক এই পররাষ্ট্র সচিব।
এনএনবাংলা/
