অত্যন্ত শক্তিশালী ‘এল নিনো’র বিষয়ে জাতিসংঘের সতর্কবার্তা

আগামী মাসগুলোতে এল নিনো ‘অত্যন্ত শক্তিশালী’ হয়ে উঠতে পারে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘের বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও)।
সংস্থাটি জানিয়েছে, চলতি বছরের শেষ দিকে এই প্রাকৃতিক জলবায়ু প্রক্রিয়া সর্বোচ্চ তীব্রতায় পৌঁছাতে পারে এবং এর প্রভাব আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ডব্লিউএমও জানায়, এল নিনোর কারণে বৃষ্টিপাত ও তাপমাত্রার বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। এর ফলে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যা, খরা ও তীব্র তাপপ্রবাহের ঝুঁকি বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। জলবায়ুতে এর প্রভাব ২০২৭ সাল পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে বলেও সতর্ক করেছে সংস্থাটি।
এল নিনো কী?
এল নিনো একটি প্রাকৃতিক জলবায়ু প্রক্রিয়া। এ সময় মধ্য ও পূর্ব নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের পানির তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। এর প্রভাবে বিশ্বজুড়ে বায়ুচাপ ও বৃষ্টিপাতের স্বাভাবিক ধরনে ব্যাপক পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।
সাধারণত প্রতি দুই থেকে সাত বছর পরপর এল নিনো ফিরে আসে এবং এটি প্রায় ৯ থেকে ১২ মাস স্থায়ী হয়। তবে এল নিনো সরাসরি জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্টি হয় না।
বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানোর কারণে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা এমনিতেই বেড়েছে। এর মধ্যে শক্তিশালী এল নিনো বৈশ্বিক তাপমাত্রাকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। একই সঙ্গে বিভিন্ন অঞ্চলে চরম আবহাওয়ার ঘটনাও আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, এল নিনো চোখের সামনে বড় ও শক্তিশালী রূপ নিচ্ছে। সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা বাড়ছে এবং বৈশ্বিক তাপমাত্রাও ক্রমাগত ঊর্ধ্বমুখী। এর পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় প্রতিযোগিতা চলছে। এই প্রতিযোগিতায় মানবজাতিকেই জয়ী হতে হবে।
অর্থনীতিতে বড় ধাক্কার আশঙ্কা
সাধারণত বছরের শেষ দিকে এল নিনো সর্বোচ্চ তীব্রতায় পৌঁছায়। এ সময় সমুদ্রের অতিরিক্ত তাপ ধীরে ধীরে বায়ুমণ্ডলে ছড়িয়ে পড়ে। এর প্রভাবে পরবর্তী বছর বৈশ্বিক তাপমাত্রা আরও বেড়ে যাওয়ার প্রবণতা দেখা যায়।
রেকর্ড অনুযায়ী, সর্বশেষ এল নিনোর পর ২০২৪ সাল ছিল বিশ্বের উষ্ণতম বছর।
ডব্লিউএমওর মহাসচিব সেলেস্তে সাউলো বলেন, এল নিনো বিশ্বের বিভিন্ন সম্প্রদায় ও অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধাক্কা দেওয়ার সক্ষমতা রাখে। খরা ও বন্যার কারণে ইতোমধ্যে বিভিন্ন অঞ্চলে বিপর্যয় ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এল নিনো আরও তীব্র হলে এসব প্রভাব আরও বাড়তে পারে।
তিনি কৃষি, স্বাস্থ্য, জ্বালানি ও পানির মতো জলবায়ু-সংবেদনশীল খাতগুলো নিয়ে বিশেষভাবে সতর্ক করেছেন। একই সঙ্গে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষগুলোকে দ্রুত প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
এনএনবাংলা/
