সাম্প্রতিক
হরমুজ প্রণালি বন্ধের শঙ্কায় বিশ্ববাজারে ফের বাড়ল তেলের দাম নেপালের মানবিক সংকটে বাংলাদেশের ১ মিলিয়ন ডলার অনুদান আমানত ফেরত পেতে প্রথম দিনেই ১৮ হাজার আবেদন, পুরো টাকা চান ২,৩৬৭ গ্রাহক আসিফ মাহমুদসহ চারজনের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান শুরু ১৫ দিনের মধ্যে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি উন্নতি হবে: সংসদে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী ছয় মাসে দুই লাখ বাংলাদেশি নেওয়ার খবর নাকচ করল মালয়েশিয়া তনু হত্যা মামলায় দুই সাবেক সেনাসদস্যের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ লিটনের নেতৃত্বে এশিয়ান গেমস খেলবে বাংলাদেশ সারাদেশে বিশেষ অভিযান শুরু হচ্ছে: র‍্যাবের মহাপরিচালক গ্যাস সংকট সামাল দিতে চার জাহাজ এলএনজি কিনছে সরকার
Skip to content

তনু হত্যা মামলায় দুই সাবেক সেনাসদস্যের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ

সোহাগী জাহান তনু। ফাইল ছবি

কুমিল্লার আলোচিত সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় অবসরপ্রাপ্ত দুই সেনাসদস্য মো. জাহিদুজ্জামান ও মো. শাহীন আলমের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোল। পলাতক এই দুই অভিযুক্তকে শনাক্ত, তাদের অবস্থান নির্ণয় এবং সংশ্লিষ্ট দেশের আইনের আওতায় গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) পুলিশ সদর দপ্তরের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তনু হত্যা মামলার তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) অনুরোধে বাংলাদেশ পুলিশের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি)-ঢাকা ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির প্রক্রিয়া শুরু করে। প্রয়োজনীয় তথ্য ও নথিপত্র যাচাই-বাছাই শেষে মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) জাহিদুজ্জামান ও শাহীন আলমের বিরুদ্ধে পৃথক রেড নোটিশ জারি করে ইন্টারপোল।

তদন্তে পাওয়া তথ্য ও সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে জাহিদুজ্জামান ও শাহীন আলমকে মামলার গুরুত্বপূর্ণ অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তদন্তকারী সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার পরবর্তী সময়ে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের প্রয়োজন দেখা দিলে তাদের নমুনা দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে বর্তমানে তাদের অবস্থান অজ্ঞাত এবং তারা পলাতক রয়েছেন।

তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানায়, তনু হত্যাকাণ্ডের সময় মো. জাহিদুজ্জামান কুমিল্লা সেনানিবাসে সার্জেন্ট এবং মো. শাহীন আলম সৈনিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

তনু হত্যা মামলায় আরেক সাবেক সেনাসদস্য গ্রেপ্তার

এ মামলায় গত ২১ এপ্রিল ঢাকার কেরানীগঞ্জের নিজ বাসা থেকে অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি বর্তমানে কুমিল্লা কারাগারে রয়েছেন। হাফিজুর রহমান সেনাবাহিনীর সাবেক সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার। ২০২৩ সালে তিনি সেনাবাহিনী থেকে অবসর নেন। তনু হত্যাকাণ্ডের সময় তিনি কুমিল্লা সেনানিবাসে কর্মরত ছিলেন।

যেভাবে হত্যা করা হয় তনুকে

২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে একটি বাসায় টিউশনি করতে গিয়ে আর বাড়ি ফেরেননি সোহাগী জাহান তনু। পরে স্বজনেরা খোঁজাখুঁজি করে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের অদূরে একটি ঝোপের মধ্যে তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। প্রাথমিকভাবে তনুকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছিল বলে প্রতীয়মান হয়।

পরদিন তনুর বাবা ইয়ার হোসেন, যিনি ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের অফিস সহায়ক ছিলেন এবং বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত, বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে কুমিল্লার কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন।

মামলার তদন্তে ২০১৬ সালের ৪ এপ্রিল ও ১২ জুন দুই দফা ময়নাতদন্ত করা হয়। তবে দুই দফা ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনেই তনুর মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ খুঁজে না পাওয়ার তথ্য জানায় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগ।

দীর্ঘদিন পরও বহুল আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শেষ হয়নি। বর্তমানে মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্তাধীন।

এনএনবাংলা/