জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশনের ১৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা, অভিযোগ তদন্তে সিআইডি

প্রতারণা, মারধর ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের ১৪ জনের বিরুদ্ধে ঢাকার একটি আদালতে মামলা করা হয়েছে। অভিযোগটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলমের আদালতে ‘জুলাই যোদ্ধা’ গিয়াস উদ্দিন মামলাটির আবেদন করেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী ইয়ামিন মিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, আদালত বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করে অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলায় অভিযুক্ত ১৪ জন হলেন—জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের সিনিয়র ভেরিফিকেশন অফিসার ইফতেখার হোসেন, এক্সিকিউটিভ মেম্বার সাবরিনা আফরোজ সেবন্তী, সাইদুর রহমান শাহিদ, মেহেদী হাসান প্রিন্স, সাগর, আফজালুর রহমান সায়েম, হারুন অর রশীদ, কামরুল হোসেন, আলিফ, জাহিদ, মোমেনুজ্জামান দিপু, সাজ্জাদ মোস্তফা, ফাতেমা আফরিন পায়েল ও ইয়াছিন মোল্লা।
মামলায় যা অভিযোগ করা হয়েছে
মামলার অভিযোগে গিয়াস উদ্দিন দাবি করেন, তিনি ‘জুলাই যোদ্ধা’ হিসেবে জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন থেকে চেক নিতে যান। চেক না পেয়ে তিনি বাংলামোটরে এনসিপি কার্যালয়ে গিয়ে ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক সারজিস আলম, হাসনাত আব্দুল্লাহ, তাসনিম জারা ও স্নিগ্ধকে বিষয়টি জানান।
অভিযোগে বলা হয়, তারা গিয়াস উদ্দিনকে আশ্বস্ত করে বলেন, জুলাই ফাউন্ডেশনে গেলে তাকে চেক দেওয়া হবে। এরপর তিনি ফাউন্ডেশনে গেলেও অভিযুক্তরা তাকে বিভিন্নভাবে সময়ক্ষেপণ করে ‘আজ নয়, কাল আসতে’ বলেন।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত বছরের ৩ মে চেক নিতে গিয়াস উদ্দিন রমনা মডেল থানাধীন জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনে যান। সেখানে অভিযুক্তরা তাকে জানান, চেকে উল্লেখ করা ৩ লাখ টাকার ৫০ শতাংশ অর্থাৎ দেড় লাখ টাকা দিলে তিনি ব্যাংক থেকে চেকটি নগদায়ন করে নিতে পারবেন।
গিয়াস উদ্দিন ওই টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে অভিযুক্তরা কৌশলে তাকে একটি গোপন কক্ষে নিয়ে যান বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। সেখানে মেহেদী হাসান প্রিন্স ও সাগর তার দুই হাত ধরে রাখেন এবং সাইদুর রহমান শাহিদ ও আফজালুর রহমান সায়েম তাকে কিল-ঘুষি ও লাথি মারেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অভিযোগে আরও বলা হয়, একপর্যায়ে তাকে পাশের দেয়ালে ফেলে দেওয়া হলে তিনি রডের সঙ্গে মাথায় আঘাত পান এবং অজ্ঞান হয়ে যান। পরে অভিযুক্তরা তাকে সুস্থ করার চেষ্টা করেন। জ্ঞান ফেরার পর গিয়াস উদ্দিন দেখতে পান, তার শরীর থেকে রক্ত ঝরছে।
তিনি চিৎকার ও কান্নাকাটি করলে শাহিদ, সায়েম ও কামরুল তাকে কিল-ঘুষি দিয়ে সেখান থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করেন বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। পরে হারুন অর রশীদ ও কামরুল হোসেন তাকে ফাউন্ডেশনের লিফটের সামনে রেখে যান বলে অভিযোগ করেন বাদী।
পরে তার ছেলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা করান বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় আদালতের নির্দেশে অভিযোগটি তদন্ত করছে সিআইডি।
এনএনবাংলা/

