নিষেধাজ্ঞা শেষে পর্যটকদের জন্য আজ খুললো সুন্দরবন

টানা তিন মাস বন্ধ থাকার পর আজ ১ সেপ্টেম্বর থেকে পর্যটক ও বনজীবীদের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে সুন্দরবন। দীর্ঘ বিরতির পর বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বনভূমিতে ফিরেছে কর্মব্যস্ততা। তবে সুন্দরবন ভ্রমণের আগে যাতায়াত, নৌযান, খরচ, অনুমতি ও বন বিভাগের নিয়মকানুন সম্পর্কে জানতে হবে।
আজ থেকে সরকারি নিয়ম মেনে বৈধ পাস ও অনুমতি নিয়ে জেলে-বাওয়ালি ও পর্যটকবাহী নৌযান সুন্দরবনে প্রবেশ করতে পারবে।
বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, সুন্দরবনে প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার পাশাপাশি অবৈধভাবে মাছ শিকার, বিষ প্রয়োগ, বন্য প্রাণী শিকার এবং নিষিদ্ধ এলাকায় প্রবেশ ঠেকাতে নজরদারি অব্যাহত থাকবে। বনে প্রবেশের ক্ষেত্রে বন বিভাগের নির্ধারিত নিয়ম মেনে চলতে হবে। সুন্দরবনের পশ্চিম বিভাগের খুলনা ও সাতক্ষীরা রেঞ্জের জন্য এবার ৬ হাজার নৌযানকে বোট লাইসেন্স সার্টিফিকেট দেওয়া হচ্ছে।
সুন্দরবনের প্রায় ৭০ শতাংশ এলাকা অভয়ারণ্য হিসেবে সংরক্ষিত। এসব এলাকায় সাধারণভাবে মাছ ধরা বা প্রবেশের সুযোগ নেই। তাই সুন্দরবনে প্রবেশের অনুমতি মিললেও অভয়ারণ্য এলাকায় ইচ্ছেমতো ঘোরাফেরা করা যাবে না। নির্ধারিত পর্যটন এলাকা ও অনুমোদিত পথেই চলতে হবে।
কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে, যেমন- সুন্দরবনে ভ্রমণের সময় পরিবেশের ক্ষতি হয়, এমন কোনো সামগ্রী বা কার্যক্রম থেকে বিরত থাকতে হবে। বিশেষ করে ওয়ানটাইম প্লাস্টিকের গ্লাস, প্লেটসহ পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর সামগ্রী নিয়ে বনে না যাওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে বন বিভাগ।
পর্যটকদের ব্যবহৃত বোতল, খাবারের প্যাকেট বা অন্য কোনো বর্জ্যও বনে ফেলা যাবে না। নির্দিষ্ট স্থানে থাকা ওয়েস্ট বিনে এসব বর্জ্য ফেলার জন্য পর্যটকদের অনুরোধ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য প্রতি বছর মাছের প্রজনন মৌসুম ও সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সুন্দরবনে পর্যটক ও জেলে-বাওয়ালিদের প্রবেশ বন্ধ থাকে।
এনএনবাংলা/এফএস

