সাম্প্রতিক
এক মাসে ৬০০ বস্ত্র কারখানায় উৎপাদন বন্ধ, বিটিএমএ সভাপতির দাবি চট্টগ্রামগামী বিমানে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে নারী যাত্রীর মৃত্যু, মাসকটে জরুরি অবতরণ বাঘাবাড়ি ঘি ও বম্বে সুইটসের মসলাসহ ১০ পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ অর্থের অভাবে কোনো নাগরিকের চিকিৎসা বন্ধ হবে না: সমাজকল্যাণ মন্ত্রী নেপালে ৪০০ পর্যটক নিখোঁজ, নিহত বেড়ে ৯৫ কক্সবাজারে বোটডুবি, ৩২ ঘণ্টা পর নিউজিল্যান্ডের কিশোরের মরদেহ উদ্ধার ‘মক্কা চুক্তি’তে বাংলাদেশ যোগ দিলে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জটিল হতে পারে: রয়টার্স গ্রিন কার্ডের অপেক্ষায় থাকা বাংলাদেশিদের স্বস্তি এনে দিল F2A ভিসা কাট-অফ চাঁদপুরে স্বর্ণ ব্যবসায়ী সপরিবারে নিখোঁজ নাকি আত্মগোপনে? ডিমের দাম চড়া, কিনতে হিমশিম নিম্ন আয়ের মানুষ
Skip to content

বন্ধক রাখা স্বর্ণ নিয়ে উদ্বেগ

চাঁদপুরে স্বর্ণ ব্যবসায়ী সপরিবারে নিখোঁজ নাকি আত্মগোপনে?

চাঁদপুর শহরের ‘এস কে শিল্পালয়ের’ স্বত্বাধিকারী পিন্টু দাস, তার স্ত্রী রিমি এবং তাদের দুই ছেলে প্রিয়ম ও রুপম। ছবি: সংগৃহীত

চাঁদপুর শহরের একটি জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী পিন্টু দাস, তার স্ত্রী ও দুই ছেলেকে গত ২০ আগস্ট থেকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে স্বর্ণালংকার বন্ধক রেখে নির্ধারিত সময়ে তা ফেরত দিতে না পারায় পরিবার নিয়ে আত্মগোপনে যেতে পারেন পিন্টু দাস। তবে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা নিখোঁজ নাকি আত্মগোপনে রয়েছেন, তা এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।

নিখোঁজ ব্যক্তিরা হলেন চাঁদপুর শহরের আখন্দ মার্কেটের নিচতলায় ‘এস কে শিল্পালয়’-এর স্বত্বাধিকারী পিন্টু দাস, তার স্ত্রী রিমি দাস এবং তাদের দুই ছেলে—দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী প্রিয়ম দাস ও রুপম দাস।

বুধবার (২৬ আগস্ট) পিন্টু দাসের নিকটাত্মীয় ও চাঁদপুর শহরের গুয়াখোলা রোডের বাসিন্দা উপমা দে স্থানীয় সাংবাদিকদের বিষয়টি জানান। তিনি বলেন, পিন্টু দাস পরিবার নিয়ে চাঁদপুর শহরে ভাড়া বাসায় থাকতেন। বিভিন্ন কারণে তিনি ঋণগ্রস্ত ছিলেন এবং অনেকেই তার কাছে স্বর্ণ বন্ধক রেখেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। গত ২০ আগস্ট থেকে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তারাও পিন্টুর কোনো খোঁজ পাচ্ছেন না।

স্থানীয় একাধিক ব্যক্তির ভাষ্য, পিন্টু দাস স্বর্ণ বন্ধক রাখার ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তার কাছে বিভিন্ন ব্যক্তির স্বর্ণ বন্ধক ছিল। নির্ধারিত সময়ে এসব স্বর্ণ ফেরত দিতে না পারার পাশাপাশি বিভিন্ন সমিতি থেকেও তিনি ঋণ নিয়েছিলেন। এ অবস্থায় পরিবার নিয়ে তিনি আত্মগোপনে চলে যেতে পারেন বলে ধারণা করছেন তারা।

স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, একাধিক জায়গায় দোকান পরিবর্তনের পর সর্বশেষ চাঁদপুর শহরের কুমিল্লা সড়কের আখন্দ মার্কেটের নিচতলায় ‘এস কে শিল্পালয়’ নামে ব্যবসা পরিচালনা করতেন পিন্টু দাস। অভিযোগ রয়েছে, অল্প পরিমাণ টাকা নিয়ে তিনি স্থানীয় অনেকের স্বর্ণালংকার বন্ধক রাখতেন।

চাঁদপুর সদর উপজেলার রঘুনাথপুর এলাকার বাসিন্দা মনসুর খানের ছেলে রাসেল খান জানান, তিনি পিন্টু দাসের কাছে প্রায় আড়াই ভরি স্বর্ণালংকার ৫০ হাজার টাকায় বন্ধক রেখেছিলেন। গত ১৯ আগস্ট ৫০ হাজার টাকা ফেরত দিয়ে স্বর্ণালংকার নিতে গেলে পিন্টু তাকে পরদিন আসতে বলেন। পরদিন দোকানে গিয়ে তিনি তালা দেখতে পান। পরে পিন্টুর বাসায় গিয়েও তালাবদ্ধ অবস্থায় দেখতে পান। এরপর স্থানীয়দের কাছ থেকে পিন্টু সপরিবারে আত্মগোপনে যাওয়ার কথা জানতে পারেন। এ ঘটনায় বুধবার চাঁদপুর সদর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তিনি।

এ ছাড়া চাঁদপুর শহরের দক্ষিণ গুণরাজদীর বাসিন্দা জাহিদুল ইসলাম ১২ আনা এবং শুভঙ্কর মজুমদার ১০ আনা স্বর্ণ পিন্টু দাসের কাছে বন্ধক রাখার কথা জানিয়েছেন। বন্ধক রাখা স্বর্ণ ফেরত পাওয়া নিয়ে তারাও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

বাজারের দুই ব্যবসায়ী জানান, প্রায় পাঁচ-ছয় মাস আগে আখন্দ মার্কেটে দোকান ভাড়া নিয়ে ব্যবসা শুরু করেছিলেন পিন্টু দাস। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায়।

এদিকে পিন্টু দাস ও তার পরিবারের চার সদস্যের হঠাৎ করে খোঁজ না মেলায় এলাকায় নানা আলোচনা চলছে। স্থানীয়দের কেউ কেউ এটিকে আত্মগোপন বললেও বিষয়টি এখনো নিশ্চিত নয়।

চাঁদপুর সদর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ফেরদৌস বলেন, পিন্টু দাস সপরিবারে আত্মগোপনে থাকলে তাকে খুঁজে পাওয়া কঠিন। তার পরিবারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো জিডিও করা হয়নি।

চাঁদপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়েজ আহমেদ বলেন, পিন্টু দাসসহ তার পরিবারের চার সদস্যকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না—বিষয়টি বুধবারই জানতে পেরেছেন তারা। পিন্টুর কাছে স্থানীয় লোকজনের টাকা পাওনা রয়েছে এবং অনেকে তার কাছে স্বর্ণালংকার বন্ধক রেখেছেন বলেও জানতে পেরেছেন। তবে এসব কারণে তারা আত্মগোপনে গেছেন নাকি অন্য কোনো কারণে তাদের পাওয়া যাচ্ছে না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

এনএনবাংলা/