শ্রীমঙ্গলে গভীর রাতে বসতঘরে শঙ্খিনী, আতঙ্কের মধ্যে নিরাপদে উদ্ধার
রাতের নীরবতা ভেঙে হঠাৎ ঘরের ভেতর বিষধর সাপের উপস্থিতি। আতঙ্কে ছোটাছুটি শুরু করেন পরিবারের সদস্যরা। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে সাপটি নিরাপদে উদ্ধার করেন বন্যপ্রাণী সংরক্ষণকর্মীরা। ঘটনাটি ঘটেছে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের পূর্বাশা আবাসিক এলাকায়।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে গোপাল গোস্বামীর বসতঘরে সাপটি দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। পরে বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে এলে নাহিদ নামে এক ব্যক্তি বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনকে খবর দেন।
খবর পেয়ে ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল ও পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। দীর্ঘ পর্যবেক্ষণের পর সাপটি শনাক্ত করে তাঁরা জানান, এটি বিষধর শঙ্খিনী বা শাঁখামুটি (Banded Krait)।
পরে সতর্কতার সঙ্গে সাপটিকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার শেষে শঙ্খিনীটি শ্রীমঙ্গল বন বিভাগের রেঞ্জ কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়েছে।
বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন সূত্রে জানা গেছে, শ্রীমঙ্গলের বিভিন্ন আবাসিক এলাকা ও বসতবাড়ি থেকে এর আগেও বেশ কয়েকটি শঙ্খিনী সাপ উদ্ধার করা হয়েছে। বর্ষাকালে খাবার ও নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে বিভিন্ন প্রজাতির সাপ লোকালয়ে ঢুকে পড়ার প্রবণতা বাড়ে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিষধর সাপ দেখলেই আতঙ্কিত হয়ে সেটিকে পিটিয়ে মারা কোনো সমাধান নয়। বরং নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে দ্রুত বন বিভাগ কিংবা প্রশিক্ষিত সাপ উদ্ধারকারী দলের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত। এতে যেমন মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে, তেমনি গুরুত্বপূর্ণ বন্যপ্রাণীটিও রক্ষা পাবে।
এনএনবাংলা/

