নেপালে ৪০০ পর্যটক নিখোঁজ, নিহত বেড়ে ৯৫

নেপালে ভূমিকম্প ও তুষারধসের পর আকস্মিক বন্যায় অন্তত ৪০০ পর্যটক নিখোঁজ হয়েছেন। দেশটির ট্যুরিজম বোর্ডের বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, নিখোঁজদের মধ্যে ২৯১ জন বিদেশি নাগরিক। তাদের মধ্যে ১০৫ জন ভারতীয়। আরও ১১১ জনের পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত এই দুর্যোগে ৯৫ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ ও হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। শনাক্ত হওয়া নিখোঁজদের মধ্যে নেপালের স্থানীয় নাগরিকের পাশাপাশি যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিক রয়েছেন।
একই বন্যার প্রভাবে প্রতিবেশী তিব্বতেও ব্যাপক হতাহত ও নিখোঁজের খবর পাওয়া গেছে। চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, নেপালের অংশে বন্যার কারণে তিব্বতের গিরং বন্দরে বহু মানুষ হতাহত ও নিখোঁজ হয়েছেন।
দ্য কাঠমান্ডু পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিব্বতের কৈলাস-মানসসরোবরে যাওয়া প্রায় ৪০০ তীর্থযাত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। তবে তিব্বতে নিহত বা আহতের নির্দিষ্ট সংখ্যা এখনো জানা যায়নি।

নেপালের নুয়াকোট জেলায় এক ব্যক্তিকে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকারীরা। ছবি: এএফপি
বুধবার ভোরে নেপালের রাসুওয়া জেলার চীন সীমান্তবর্তী কয়েকটি গ্রামে আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়। এতে সড়কসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল পার্লামেন্টে জানিয়েছেন, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী হিমালয়ঘেঁষা চীন-নেপাল সীমান্ত এলাকায় সকালে ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ার পর তুষারধস হয়। এরপরই আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএসের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৩৭ মিনিটে তিব্বত অঞ্চলে ৪ দশমিক ৪ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। শিশির খানাল জানান, উদ্ধার তৎপরতায় নেপাল চীনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে। এখন পর্যন্ত ২৬ জন পুলিশ সদস্য, ৯ জন সশস্ত্র পুলিশ সদস্য এবং ৪৪ জন সামরিক সদস্য নিখোঁজ রয়েছেন।
কাঠমান্ডু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও জলবায়ু গবেষক রিজন ভক্ত কায়স্থ দ্য কাঠমান্ডু পোস্টকে জানিয়েছেন, প্রাথমিক মূল্যায়নে ধারণা করা হচ্ছে, তুষারধসের কারণে লহেন্দে নদীর প্রবাহ আটকে যায়। পরে সেই পানি ভোতেকোশি নদীতে আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি করতে পারে। একই সময় ওই এলাকায় ভূমিকম্পও অনুভূত হয়েছে।
নেপাল পুলিশ ও এএফপির প্রকাশিত ছবিতে বন্যার ভয়াবহতা ফুটে উঠেছে। প্রবল স্রোতে নদীর আশপাশের বাড়িঘর ভেসে যেতে দেখা গেছে। কোথাও কাদামাটির মধ্যে একটি বাড়ির শুধু ওপরের তলা দৃশ্যমান রয়েছে।

নেপালে চলছে উদ্ধার অভিযান। ছবি: রয়টার্স
পরিস্থিতি মোকাবিলায় নেপালের সেনাবাহিনী ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় হেলিকপ্টার ও দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রশিক্ষিত সদস্য পাঠিয়েছে। উদ্ধার অভিযানও চলছে।
বন্যায় দেশটির বিদ্যুৎ অবকাঠামোও বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে। জলবিদ্যুৎ ও সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ প্রায় ৪৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে নেপালের বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ। বন্ধ হয়ে গেছে বেশ কয়েকটি মহাসড়কও।
এদিকে চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, নেপালে বন্যার প্রভাবে তিব্বতের গিরং বন্দরে ব্যাপক হতাহত হয়েছে এবং অনেকে নিখোঁজ রয়েছেন।
সিনহুয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সর্বাত্মক উদ্ধার অভিযান চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত তিব্বতে হতাহত মানুষের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি।
এনএনবাংলা/

