সাম্প্রতিক
দ্বিতীয় দিনেই ইনিংস ব্যবধানে টেস্ট হারল বাংলাদেশ বঙ্গভবনে দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু করলেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম ঢাকায় বাড়ছে লোডশেডিং, দিনে-রাতে একাধিকবার যাচ্ছে বিদ্যুৎ ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানিতে দামের বাইরে নতুন চার্জ দিতে হবে বাংলাদেশকে গুদামের দরজা ভেঙে বিক্ষুব্ধ কৃষকরা নিয়ে গেল ২০২ বস্তা সার ইয়াবা সেবন দেখে ফেলা ও বাধা দেওয়ায় শিক্ষক পরিবারের চারজনকে খুন: পুলিশ ২০২৪-কে চূড়ান্ত লড়াই ভাববেন না, এটি ছিল মহড়া: জামায়াত আমির এল নিনোর প্রভাব, ২০২৭ সালে পড়তে পারে রেকর্ডভাঙা গরম সাংবাদিক দম্পতি শাকিল-রুপার সম্পদের হিসাব চেয়েছে দুদক হুমকির খবরে ঢাকার কূটনৈতিক এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার
Skip to content

গিনিতে আবর্জনার স্তূপ ধসে একই পরিবারের ৫ জনসহ নিহত ৩০

ছবি: সংগৃহীত

পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গিনির রাজধানী কোনাক্রিতে আবর্জনার বিশাল স্তূপ ধসে অন্তত ৩০ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ২২ জন। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও মানুষ আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করছে কর্তৃপক্ষ। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

রোববার (২৩ আগস্ট) রাজধানীর দার-এস-সালাম এলাকায় এ ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। রাতভর ভারি বৃষ্টির পর স্থানীয় সময় রাত ২টার দিকে পাহাড়ের মতো উঁচু হয়ে থাকা বিশাল বর্জ্যের স্তূপটি হঠাৎ ধসে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে বিপুল পরিমাণ আবর্জনার নিচে চাপা পড়ে যায় আশপাশের বেশ কয়েকটি বসতঘর।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুর্ঘটনায় আহত ২২ জনের মধ্যে ছয়জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আবর্জনার স্তূপের পাশে দীর্ঘদিন ধরে বহু মানুষ ঝুপড়ি ঘর তৈরি করে বসবাস করে আসছিলেন।

গিনির সরকার জানিয়েছে, দুর্ঘটনার আগে পুরো রাতজুড়ে ভারী বৃষ্টি হয়েছিল। অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে আবর্জনার স্তূপের স্থিতিশীলতা নষ্ট হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ধসের পর ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে সামরিক বাহিনীসহ বিপুলসংখ্যক উদ্ধারকর্মী ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম মোতায়েন করা হয়েছে।

উদ্ধারকারীদের জন্য পরিস্থিতি সহজ নয়। বিশাল পরিমাণ আবর্জনা, বৃষ্টিতে নরম হয়ে যাওয়া মাটি এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে মানুষের অবস্থান সম্পর্কে অনিশ্চয়তা উদ্ধারকাজকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে।

ঘটনাস্থলে উদ্ধারকর্মীদের খননযন্ত্র দিয়ে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে নিখোঁজদের সন্ধান করতে দেখা যায়। এ সময় বিপুলসংখ্যক স্থানীয় বাসিন্দাও ঘটনাস্থলে জড়ো হন। উদ্ধার অভিযান তদারকি ও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন গিনির প্রধানমন্ত্রী মামাদু উরি বাহ।

স্থানীয় গণমাধ্যমকে এক নারী জানিয়েছেন, এই দুর্ঘটনায় তার পাঁচ সন্তান নিহত হয়েছে। একটি পরিবারের পাঁচ সন্তানের একসঙ্গে প্রাণ হারানোর ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দুর্ঘটনার পর স্বজনেরা প্রিয়জনদের খোঁজে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। কেউ অপেক্ষা করছেন কোনো জীবিত মানুষকে উদ্ধারের আশায়, আবার কেউ খুঁজছেন নিখোঁজ স্বজনের মরদেহ।

স্থানীয় নেতা লানসিনে সিলা বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে ১৮টি মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৩০ জনে দাঁড়িয়েছে।

দীর্ঘদিনের অনিয়ন্ত্রিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং বর্ষাকালে ভারি বৃষ্টিপাতকে এই বিপর্যয়ের প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। আবর্জনার স্তূপের আশপাশে অপরিকল্পিতভাবে বসতি গড়ে ওঠায় দুর্ঘটনায় প্রাণহানি আরও বেড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, ২০১৭ সালেও একই স্থানে আবর্জনার স্তূপ ধসে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছিল।

এনএনবাংলা/এফএস