উত্তর কোরিয়ার কাছে ট্রাম্পের হিসাবে ৫৭টি পরমাণু অস্ত্র আছে, সিউলের ধারণা ১২০

উত্তর কোরিয়ার কাছে ৮০ থেকে ১২০টি পারমাণবিক ওয়ারহেড রয়েছে বলে ধারণা করছে দক্ষিণ কোরিয়া। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী আন গিউ-বেক বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) পার্লামেন্টারি কমিটিতে এ তথ্য জানিয়েছেন। খবর আল আরাবিয়ার।
দক্ষিণ কোরিয়ার এই অনুমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্প্রতি দেওয়া হিসাবের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, উত্তর কোরিয়ার কাছে ৫৭টি ‘অত্যন্ত শক্তিশালী পারমাণবিক অস্ত্র’ রয়েছে।
আন গিউ-বেক বলেন, উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্রের সঠিক সংখ্যা নির্ধারণ করা কঠিন। তবে বিভিন্ন তথ্য ও অনুমানের ভিত্তিতে দেশটির হাতে ৮০ থেকে ১২০টি পারমাণবিক ওয়ারহেড থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে পরে তিনি স্পষ্ট করেন, এই সংখ্যা দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনীর আনুষ্ঠানিক হিসাব নয়। বরং বেসরকারি গবেষণা সংস্থাগুলোর বিভিন্ন অনুমানের ভিত্তিতে এ ধারণা করা হয়েছে। ফলে সিউল আনুষ্ঠানিকভাবে ৮০ থেকে ১২০টি অস্ত্র থাকার তথ্য নিশ্চিত করেনি।
এর আগে বুধবার (১৯ আগস্ট) হোয়াইট হাউসে কিম জং উনের সঙ্গে চলতি বছরের শেষ দিকে সম্ভাব্য বৈঠক নিয়ে আলোচনার সময় ট্রাম্প উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্রের সংখ্যা ৫৭ বলে মন্তব্য করেন। ট্রাম্পের দেওয়া সংখ্যার বিষয়ে জানতে চাইলে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘সংখ্যায় কিছুটা ভিন্নতা দেখা যাচ্ছে।’
তবে ট্রাম্পের মন্তব্য নিয়ে বিস্তারিত কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি আন গিউ-বেক। একই সঙ্গে উত্তর কোরিয়াকে আনুষ্ঠানিকভাবে পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়টিও তিনি প্রত্যাখ্যান করেন।
দক্ষিণ কোরিয়া দীর্ঘদিন ধরে উত্তর কোরিয়ার পরমাণুমুক্তকরণের নীতি অনুসরণ করে আসছে। এ কারণে পিয়ংইয়ংকে আনুষ্ঠানিকভাবে পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না সিউল। আন গিউ-বেক জানান, দক্ষিণ কোরিয়া ভবিষ্যতেও যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক ছাতার ওপর নির্ভর করবে।

সিউলের ধারণা উত্তর কোরিয়ার কাছে ১২০টি পরমাণু অস্ত্র আছে। ছবি: সংগৃহীত
তিনি বলেন, ‘আমরা নিজেরা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারি না এবং মার্কিন কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্র পুনঃমোতায়েন গ্রহণ করাও আমাদের উচিত হবে না।’
এমন সময়ে দক্ষিণ কোরিয়ার এই বক্তব্য সামনে এলো, যখন উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে নতুন করে কূটনৈতিক যোগাযোগ শুরুর চেষ্টা করছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়ার পরিধি কমানোর নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। ট্রাম্প এসব মহড়াকে উত্তর কোরিয়ার প্রতি ‘শত্রুতামূলক’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
তবে ওয়াশিংটনের এই উদ্যোগে এখনো খুব একটা আগ্রহ দেখায়নি পিয়ংইয়ং। উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের বোন কিম ইয়ো জং বলেছেন, সামরিক মহড়ার পরিধি কমানো হলেও এগুলো মূলত উসকানিমূলক ও আক্রমণাত্মকই থেকে গেছে।
২০১৮ ও ২০১৯ সালে ট্রাম্প ও কিম জং উনের মধ্যে ধারাবাহিক শীর্ষ বৈঠকের পর উত্তর কোরিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে মতবিরোধের কারণে কূটনৈতিক আলোচনা স্থবির হয়ে পড়ে। চলতি বছরের শেষ দিকে সেই আলোচনা আবারও শুরু করতে আগ্রহী ট্রাম্প। এর মধ্যেই উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্রের সংখ্যা নিয়ে ওয়াশিংটন ও সিউলের হিসাবের পার্থক্য নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
এনএনবাংলা/

