যুদ্ধকালীন বিভাজনকে ঘিরে প্রচারণা, বসনিয়ায় ভোট

বছরের পর বছর রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সংস্কার প্রক্রিয়া থমকে থাকার পর রোববার বসনিয়ায় সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
১৯৯০-এর দশকের যুদ্ধ থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া জাতিগত বিভাজনকে কেন্দ্র করেই এবারও নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছে প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলগুলো।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
দেশটির জটিল রাজনৈতিক কাঠামোর বিভিন্ন স্তরে বিপুলসংখ্যক প্রতিনিধি নির্বাচিত করবেন ভোটাররা। ১৯৯৫ সালের শান্তিচুক্তির পর বিভক্ত এই দেশকে একসঙ্গে ধরে রাখার ক্ষেত্রে এই জটিল ব্যবস্থাই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
এবারের নির্বাচনে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে তিন সদস্যের প্রেসিডেন্সি পরিষদ নিয়ে। এই পরিষদে বসনীয় মুসলিম বা বসনিয়াক, সার্ব ও ক্রোয়াট— এই তিন জাতিগোষ্ঠীর একজন করে প্রতিনিধি থাকেন।
এবারের নির্বাচনে প্রধান প্রার্থীদের মধ্যে একদিকে রয়েছে ঐক্যবদ্ধ বসনিয়ার ধারণা, অন্যদিকে সার্ব-নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলের আরও বেশি স্বায়ত্তশাসনের দাবি, আবার একই সঙ্গে ক্রোয়াটরা আরও বেশি রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব পাওয়ার চেষ্টা করছে।
তবে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর বারবার যুদ্ধকালীন বক্তব্য ও বিভাজনের রাজনীতিতে ফিরে যাওয়ায় অনেক ভোটার হতাশ।
বিক্ষোভকারী সংগঠন কার্টন রেভলিউশনের কর্মী আদি সেলমান ভোটের আগে উত্তর বসনিয়ার তুজলা শহরে এএফপিকে বলেন, ‘আমি মনে করি না, বসনিয়ার এই নতুন নির্বাচন কোনো কিছু পরিবর্তন করবে।’
৩৪ বছর বয়সী সেলমান বলেন, ‘পছন্দের সুযোগ সীমিত। যে রাজনৈতিক দলগুলো গত ৩০ বছর ধরেই রয়েছে, তারাই মূলত যুদ্ধ, উত্তেজনা, বিভাজন ও অতীতের কথা বারবার তুলে ধরে ভোট নেয়।’
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ১৯৯৫ সালের ডেটন শান্তিচুক্তি ১৯৯২-১৯৯৫ সালের যুদ্ধের অবসান ঘটায়। তবে চুক্তিটি দেশটির জাতিগত ও রাজনৈতিক বিভাজনকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়, যা প্রায়ই সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়াকে অচল করে দেয়।
চুক্তির মাধ্যমে বসনিয়াকে দুটি আধা-স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলে ভাগ করা হয়—সার্ব-নিয়ন্ত্রিত রিপাবলিকা সার্পস্কা (আরএস) ও মুসলিম-ক্রোয়াট ফেডারেশন।
দুটি অঞ্চলকে একটি তুলনামূলক দুর্বল কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে রাখা হয়েছে।
