অবরোধে অস্থির ফ্রান্স: শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে, বন্ধ ১৬০টির বেশি স্কুল

ফ্রান্সে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী, শিক্ষক সংকট, জরাজীর্ণ স্কুল ভবন ও গরমে অস্বস্তিকর শ্রেণিকক্ষের প্রতিবাদে মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ তীব্র হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দেশটির বিভিন্ন শহরে স্কুলের সামনে অবরোধ, অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এতে ১৬০টির বেশি স্কুল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।
প্যারিস ও মার্সেইয়ের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরাও আন্দোলনে যোগ দিয়ে প্রায় ৩০টি ক্যাম্পাসের প্রবেশপথ অবরোধ করেন। পুলিশ জানিয়েছে, সকালেই দেশজুড়ে প্রায় ৩৪০টি বিক্ষোভ কর্মসূচি চলছিল। এরই মধ্যে কয়েকশ শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়েছে। খবর এএফপির।
সরকার পরিস্থিতিকে ‘নগর সহিংসতা’ হিসেবে দেখছে। বিক্ষোভ মোকাবিলায় বিভিন্ন এলাকায় দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনেজ জানিয়েছেন, তিন শিক্ষার্থীর ওপর পুলিশি বর্বরতার অভিযোগের তদন্তও শুরু হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, অনেক শ্রেণিকক্ষে ৩৫ জনের মতো শিক্ষার্থীকে বসতে হচ্ছে। গ্রীষ্মের তীব্র গরমে পর্যাপ্ত শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নেই। কোথাও ছাদ থেকে পানি পড়ে, আবার কোথাও পর্যাপ্ত শৌচাগার, ক্যাফেটেরিয়া ও শিক্ষক-তত্ত্বাবধায়ক নেই।
তবে বিক্ষোভের পাশাপাশি বিভিন্ন শহরে সহিংসতার ঘটনাও ঘটেছে। নানতেস, স্ট্রাসবুর্গ, তুলুজ ও লিলে ডাস্টবিনে আগুন, রাস্তা অবরোধ, ইট-পাটকেল নিক্ষেপ ও বাসস্টপ ভাঙচুরের খবর পাওয়া গেছে। এসব ঘটনায় সরকার উগ্র-বামপন্থি দল ‘ফ্রান্স আনবাউড’কে (এলএফআই) বিক্ষোভ উসকে দেওয়ার জন্য দায়ী করেছে। দলটির নেতা জ্যাঁ-লুক মেলেনশঁ অবশ্য বলেছেন, তারা সহিংসতাহীন আন্দোলনের আহ্বান জানিয়েছেন।
এদিকে ফ্রান্সের পাশের দেশ বেলজিয়ামের লিয়েজ শহরের কয়েকটি স্কুলেও বিক্ষোভ ও ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এনএনবাংলা/
