সাম্প্রতিক
নিউ গিনি প্রপার্টিজে হামলা: সাবেক মেজর জেনারেল গোলাম মহিউদ্দিন গ্রেপ্তার মিরপুরে হামলা-অগ্নিসংযোগের কাজ ‘ফ্যাসিজমের দোসরদের’: ডিএনসিসি প্রশাসক আপস মীমাংসায় প্রথম স্ত্রীর জামিন, গাজী নজরুলের জামিনেও বাদীর আপত্তি নেই কানাডা থেকে ৮ মাসে ৩৪০ বাংলাদেশি বহিষ্কার, প্রক্রিয়ায় আরও ১,৩৬৮ জাতিসংঘে জাইমার নিয়োগে সরকারের সম্পৃক্ততা নেই: মাহদী আমিন অক্টোবরে অপরিবর্তিত থাকছে জ্বালানি তেলের দাম রাড্ডা ক্লিনিকে হামলা: এমপি মিষ্টির বিরুদ্ধে অভিযোগ, যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বৃহস্পতিবার রাজধানীর যেসব এলাকায় ৬ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না এলপিজিতে কৃত্রিম সংকট তৈরি করলে ব্যবস্থা, ডিসিদের নির্দেশ গরম বাড়তেই আবারও বেড়েছে লোডশেডিং
Skip to content

গরম বাড়তেই আবারও বেড়েছে লোডশেডিং

ফাইল ছবি: বিবিসি নিউজ বাংলা

তীব্র গরমের মধ্যে দেশে আবারও বেড়েছে লোডশেডিং। সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে পরিস্থিতি কিছুটা সহনীয় থাকলেও মাসের শেষ দিকে তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং কয়েকটি বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন কমে যাওয়ায় জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুতের ঘাটতি বেড়েছে।

পাওয়ার গ্রিডের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টায় দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৫ হাজার ৮৬০ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে সরবরাহ হয়েছে ১৪ হাজার ২৪৩ মেগাওয়াট। ফলে ওই সময়ে ঘাটতি ছিল ১ হাজার ৬১৭ মেগাওয়াট।

এর আগে দুপুর ১২টার ডে-পিকে ১৫ হাজার ৩২৮ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে বিদ্যুৎ সরবরাহ ছিল ১৩ হাজার ৯২১ মেগাওয়াট। অর্থাৎ ওই সময়ে ঘাটতি ছিল ১ হাজার ৪০৭ মেগাওয়াট।

এর আগের দিন মঙ্গলবার রাত ৯টার ইভিনিং পিকে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ৯৮৭ মেগাওয়াট। বিপরীতে সরবরাহ হয় ১৬ হাজার ৯ মেগাওয়াট। তখন লোডশেডিং ছিল ৯৭৮ মেগাওয়াট। রাত ১টায় বিদ্যুতের ঘাটতি আরও বেড়ে দাঁড়ায় ২ হাজার ৩৮৭ মেগাওয়াটে।

আগস্টে রেকর্ড লোডশেডিং

দেশে তীব্র লোডশেডিং শুরু হয় চলতি বছরের আগস্ট থেকে। ওই মাসের ১০ আগস্ট দেশে রেকর্ড ৩ হাজার ৬৭১ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়েছিল। সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলেও মাসের শেষ দিকে আবারও লোডশেডিং বাড়তে শুরু করেছে।

বিদ্যুৎ না থাকায় তীব্র গরমে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় ব্যাহত হচ্ছে ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্পকারখানার উৎপাদন। একই সময়ে সেচ মৌসুম শুরু হওয়ায় বিদ্যুৎ সংকটে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরাও।

বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে উৎপাদন কম

বিদ্যুৎ উৎপাদনে ঘাটতির অন্যতম কারণ কয়েকটি বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রের কম উৎপাদন। রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রে ১ হাজার ২৩৫ মেগাওয়াট উৎপাদন সক্ষমতার বিপরীতে বুধবার দুপুরে উৎপাদন হয়েছে ৭৫০ মেগাওয়াট। কেন্দ্রটিতে কয়লার সংকট রয়েছে।

একই কারণে ভারতের আদানি বিদ্যুৎকেন্দ্রেও উৎপাদন কমে ৫০০ থেকে ৭০০ মেগাওয়াটে নেমেছে। স্বাভাবিক সময়ে কেন্দ্রটি বাংলাদেশে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করে।

অন্যদিকে কারিগরি ত্রুটির কারণে পায়রা ও মাতারবাড়ী তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদনও কমেছে। এ ছাড়া কারিগরি ত্রুটি ও জ্বালানি সংকটের কারণে আরও কয়েকটি বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতায় চলতে না পারায় জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ ঘাটতি তৈরি হয়েছে।

গ্যাসের সরবরাহ সীমাবদ্ধতাও গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদনে প্রভাব ফেলছে।

ছোট শহর ও গ্রামে ভোগান্তি বেশি

বিদ্যুৎ সংকটে সবচেয়ে বেশি ভুগছেন ছোট শহর ও গ্রামের মানুষ। কোথাও দিনে-রাতে পালাক্রমে লোডশেডিং হচ্ছে, আবার কোথাও চাহিদার অর্ধেকেরও কম বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। তীব্র গরমের মধ্যে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বেড়েছে।

এনএনবাংলা/