সাম্প্রতিক
বিএনপি চাঁদাবাজ দল—এটা ‘ঢালাও’ অভিযোগ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলা সিনেমার মতো ‘ঘটনা ঘটার পরে পুলিশ এসেছে’: আসিফ মাহমুদ সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুর: মূল পরিকল্পনাকারীসহ গ্রেপ্তার ৪ ৫৩৮ কোটি টাকা আত্মসাৎ: সালমান এফ রহমান-শায়ানসহ ২৫ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা ভারতের উত্তর প্রদেশে ভারি বৃষ্টিতে ৫৬ মৃ’ত্যু, ক্ষতিগ্রস্ত হাজারের বেশি বাড়িঘর সংবিধান সংশোধনে আবারও গণভোট হবে: বিশেষ কমিটি ক্যান্টনমেন্ট থানার সাবেক ওসি রাকিবুলের সঙ্গে আ’লীগের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নারীদের যাতায়াত সুবিধায় সড়কে নামছে আরও ১০০ পিংক বাস আগামী দুই মাসে জাপান, তুরস্ক ও সৌদি আরব সফরের প্রস্তুতি প্রধানমন্ত্রীর রাজধানীতে ৮ মাসে ৭২৩ চাঁদাবাজির মামলা, তদন্তে প্রমাণ মিলেছে ৮৫ শতাংশের
Skip to content

নভেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশে কাতারের এলএনজি সরবরাহ বন্ধ

ছবি: সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি পরিবহনে সংকটের কারণে এশিয়া ও ইউরোপের কয়েকটি দেশে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি সরবরাহ স্থগিতের মেয়াদ বাড়িয়েছে বিশ্বের অন্যতম প্রধান এলএনজি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কাতারএনার্জি।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সংস্থাটি তাদের অনিবার্য পরিস্থিতির নোটিশের মেয়াদ বৃদ্ধি করে এ কথা জানান।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের কিছু নির্ধারিত এলএনজি কার্গো নভেম্বর পর্যন্ত বাতিল থাকতে পারে। ভারতের অন্তত একজন ক্রেতাকেও একই ধরনের সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। অন্যদিকে ইতালির জ্বালানি কোম্পানি এডিসন জানিয়েছে, কাতার থেকে তাদের এলএনজি সরবরাহ ডিসেম্বরের শুরু পর্যন্ত স্থগিত থাকবে।

মূলত তাদের নিজস্ব উৎপাদন ও রপ্তানি প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, কাতারএনার্জির পক্ষ থেকে এলএনজি রপ্তানি প্রায় ৯৬ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেয়েছে। বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে এই আকস্মিক ঘাটতির কারণে শীতকালকে সামনে রেখে ইউরোপ এবং এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সীমিত পরিমাণ গ্যাস সংগ্রহের প্রতিযোগিতা তীব্র আকার ধারণ করেছে। এর ফলে বাংলাদেশসহ এশিয়ার উন্নয়নশীল দেশগুলো জ্বালানি আমদানিতে মারাত্মক বৈষম্যের শিকার হচ্ছে।

দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং শিল্পকারখানার উৎপাদনে গ্যাসের চাহিদা মেটাতে এলএনজি আমদানির বিকল্প নেই। কিন্তু কাতার থেকে নিয়মিত চালান বন্ধ থাকায় দেশের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, যদি দ্রুত বিকল্প কোনো ব্যবস্থার মাধ্যমে গ্যাসের সরবরাহ নিশ্চিত করা না যায়, তবে আসন্ন মাসগুলোতে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং সার কারখানাগুলোতে উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হলেও কাতারের এলএনজি সরবরাহ আগের অবস্থায় ফিরতে কিছুটা সময় লাগতে পারে। এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও ভারতের মতো এশীয় আমদানিকারকদের জন্য বিকল্প উৎস থেকে এলএনজি সংগ্রহের প্রয়োজন বাড়তে পারে। একই সঙ্গে শীতকালীন চাহিদা ও সীমিত বৈশ্বিক সরবরাহের কারণে আন্তর্জাতিক গ্যাস বাজারে অস্থিরতা আরও কিছুদিন অব্যাহত থাকার ঝুঁকি রয়েছে।

উল্লেখ্য, হরমুজ প্রণালির সংকট শুরুর পর থেকেই কাতারএনার্জি নিয়মিতভাবে গ্রাহকদের সরবরাহ পরিস্থিতি সম্পর্কে জানিয়ে আসছে। প্রায় প্রতি মাসেই নির্ধারিত কিছু এলএনজি কার্গো বাতিল বা সরবরাহ স্থগিত করা হচ্ছে। ‘ফোর্স ম্যাজিউর’ নোটিসের আওতায় এ ধরনের পরিস্থিতিতে যুদ্ধ বা অন্য নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা কারণে চুক্তিবদ্ধ সরবরাহ দিতে না পারার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু দায় থেকে সাময়িক অব্যাহতির সুযোগ থাকে।

হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলতি মাসে কাতারের এলএনজি পরিবহন কিছুটা বেড়েছে। তবে যুদ্ধের আগের স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় সরবরাহ এখনও অনেক কম। রয়টার্স এর হিসাব অনুযায়ী, আগস্টের শেষ নাগাদ কাতার মাত্র ১৮টি এলএনজি কার্গো রফতানি করতে পেরেছিল, যেখানে গত বছরের একই সময়ে সংখ্যা ছিল ৫০৯।

এনএনবাংলা/এফএস