নেপালে ভয়াবহ বন্যার এক মাস: নিহত ১,৪৫৩, এখনো নিখোঁজ প্রায় ৬ হাজার

নেপালে ভয়াবহ বন্যার এক মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ৫ হাজার ৬৪৪ জন। এ পর্যন্ত ১ হাজার ৪৫৩টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে পরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় অধিকাংশ মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা সম্ভব হয়নি।
নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, উদ্ধার করা মরদেহের মাত্র ১১২টি স্বজনদের কাছে দেওয়া হয়েছে। পরিচয় শনাক্ত না হওয়া ১ হাজার ৩৩৩টি মরদেহ সাময়িকভাবে দাফন বা সৎকার করা হয়েছে। নিখোঁজদের মধ্যে অন্তত ২৬১ জন বিদেশি নাগরিক রয়েছেন বলে চীন সীমান্তের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
নিখোঁজদের অনেকে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ছয়টি সুড়ঙ্গে আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্যদিকে ডিএনএ পরীক্ষায় দীর্ঘসূত্রতার কারণে অনেক পরিবার এখনো স্বজনদের মরদেহের অপেক্ষায় রয়েছে। নেপালের পাশাপাশি ভারত, চীন, যুক্তরাষ্ট্র, সিঙ্গাপুর ও দক্ষিণ কোরিয়ার ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা পরিচয় শনাক্তে সহায়তা করছেন।
সন্তান হারানো পরিবারে শোক
২৬ আগস্টের ভয়াবহ বন্যায় বহু পরিবার স্বজন, ঘরবাড়ি ও জীবিকা হারিয়েছে। নুওয়াকোটের ৩২ বছর বয়সী পাসং মায়া তামাং তার ছোট ছেলেকে হারিয়েছেন। তিন দিন পর শিশুটির মরদেহ উদ্ধার হলেও দুর্গম যোগাযোগের কারণে তিনি শেষবারের মতো ছেলেকে দেখতে পারেননি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, বন্যার সময় অনেক শিক্ষার্থী স্কুলে ছিল। বড় শিক্ষার্থীরা দ্রুত উঁচু স্থানে উঠতে পারলেও ছোট শিশুরা পানির তীব্র স্রোতে ভেসে যায়।
পুনর্গঠনে প্রয়োজন ৪.৭৭ বিলিয়ন ডলার
নেপাল সরকারের প্রাথমিক হিসাবে, বন্যার পর পুনর্গঠন ও পুনর্বাসনে প্রায় ৪.৭৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রয়োজন হবে। এতে প্রায় ৩৩ হাজার মানুষ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং সাড়ে ৭ হাজারের বেশি ঘরবাড়ি আংশিক বা পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে।
ধ্বংস হয়ে যাওয়া সড়ক ও সেতু দুর্গম এলাকাগুলোতে ত্রাণ পৌঁছানোর প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই বিচ্ছিন্ন পাহাড়ি অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল করতে সেনাবাহিনী ও প্রকৌশলীরা কাজ করছেন। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় দ্রুত ত্রাণ পৌঁছাতে অস্থায়ী বেইলি ব্রিজও নির্মাণ করা হচ্ছে।
এদিকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ বন্যাকে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকির সতর্কবার্তা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, ‘এই বিপর্যয়টি কেবল একটি আঞ্চলিক ট্র্যাজেডি নয়, বরং সমগ্র বিশ্বের জন্য একটি স্পষ্ট সতর্কবার্তা। আমি আজ আপনাদের কাছে প্রশ্ন রাখতে চাই—আমরা কি সত্যিই সেই সতর্কবার্তা শুনতে পেরেছি?’
জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে নেপালের জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তা বৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক দুর্যোগ মোকাবিলায় দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার আহ্বান জানান তিনি। বালেন্দ্র শাহ আরও বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তন কোনো সীমান্ত চেনে না। হিমবাহ গলে যাওয়া কিংবা বন্যা পাসপোর্ট-ভিসা দেখে কোনো দেশে প্রবেশ করে না।’
তথ্যসূত্র: এপি
এনএনবাংলা/
