ইরানের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান ট্রাম্পের

ইরানের প্রস্তাবিত যুদ্ধবিরতি চুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তেহরান বলেছিল, প্রস্তাবটি গ্রহণ করা হলে এক সপ্তাহের মধ্যে জাহাজ চলাচলের জন্য কৌশলগত হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া সম্ভব।
বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি এখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। প্রায় সাত মাস ধরে চলা এই সংঘাত বর্তমানে অচলাবস্থায় রয়েছে।
ওয়াশিংটন থেকে এএফপি জানায়, শনিবার হোয়াইট হাউসের বাইরে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘আমি তাদের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করছি। তারা এমন একটি চুক্তি করতে চায়, যার মাধ্যমে অবিলম্বে প্রণালিটি খুলে দেওয়া হবে, কারণ তারা খুব খারাপভাবে হেরে যাচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘তারা একটি চুক্তি করতে চায় এবং আমি মনে করি, সেটি ভালো। আমিও চুক্তি করতে পছন্দ করি।’
এদিকে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক সফর শেষে তেহরানে ফেরার পথে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সিবিএস নিউজকে বলেন, সর্বোচ্চ নেতা মুজতবা খামেনির সঙ্গে ‘সমন্বয় করে’ প্রস্তাবটি তৈরি করা হয়েছে। ইরানের গণমাধ্যমে প্রচারিত তাঁর সাক্ষাৎকারের একটি অংশে এ কথা বলা হয়।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি বলেন, তেহরানের পরিকল্পনায় লেবাননসহ মধ্যপ্রাচ্যে সব ধরনের শত্রুতা বন্ধের প্রস্তাব রয়েছে। সপ্তাহের শুরুতে তিনি ট্রাম্পের দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে বৈঠক করেন।
আরাকচি বলেন, প্রস্তাবের শর্তগুলো চলতি বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত একটি সমঝোতা স্মারকে নির্ধারিত শর্তেরই অনুরূপ। ওই সমঝোতায় জব্দ থাকা ইরানি সম্পদ ছেড়ে দেওয়া, ইরানের তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধের অবসানের কথা বলা হয়েছিল।
প্রস্তাব অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির সপ্তম দিনে ইরান হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেবে। পেজেশকিয়ান সিবিএসকে বলেন, ‘তারা যেদিন এটি গ্রহণ করবে, সেদিন থেকেই প্রক্রিয়া শুরু হবে।’
নিউইয়র্কে পেজেশকিয়ান জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে বৈঠক করেন বলে তাঁর কার্যালয় জানিয়েছে। বৈঠকে তিনি বলেন, ‘ইরান আলোচনার টেবিল থেকে সরে যায়নি। তবে অতীত অভিজ্ঞতার কারণে এখন আর যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বাস করে না।’
এর আগে জাতিসংঘে আরাকচি বলেন, ‘ইরান কাতারের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সাত দিনের একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা পৌঁছে দিয়েছে। প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ হলে সাত দিনের মধ্যে প্রণালিটি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং স্বাভাবিক নৌ চলাচল পুনঃস্থাপন করা সম্ভব।’
তিনি আরও বলেন, ‘এখন সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের হাতে। ইরান জবরদস্তি, হুমকি বা ভয়ভীতি গ্রহণ করে না এবং চাপের মুখে ইরান তার সার্বভৌম অধিকার সমর্পণ করবে না।’
তবে আরাকচির এসব বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানায়, তেহরান ট্রাম্পের দাবিগুলো পূরণ করবে কি না, সে বিষয়ে তিনি সন্দিহান। পত্রিকাটি আরও জানায়, ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের বোমা হামলা পুনরায় শুরু করার প্রত্যাশা করছেন।
এদিকে ট্রাম্প তাঁর ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে হরমুজ প্রণালিকে গোল করে ‘ট্রাম্প স্ট্রেইট’ লেখা একটি মানচিত্রের ছবিও পোস্ট করেছেন।
ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডসের মুখপাত্র হোসেইন মোহেবিকে উদ্ধৃত করে তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানায়, তিনি বলেছেন, ‘ইরানের সাতটি শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমরা যুক্তরাষ্ট্রকে শাস্তি দেওয়া বন্ধ করব না।’
মোহেবি মঙ্গলবার এএফপিকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ইয়েমেনে শত্রুতা বন্ধ করাও তেহরানের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে।
হরমুজ ঘিরে সংঘাত
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান জুনে একটি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেছিল। এর লক্ষ্য ছিল যুদ্ধের অবসান, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা শুরু করা।
তবে এর অল্প সময়ের মধ্যেই ওই সমঝোতা ভেঙে পড়ে। হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে অনুমোদিত পথ থেকে বিচ্যুত হওয়ার অভিযোগে ইরান সেগুলোর ওপর হামলা চালানোর পর পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটে।
নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের কারণ দেখিয়ে ইরান প্রণালিটি দিয়ে চলাচলের আগে জাহাজগুলোকে অনুমতি নিতে বাধ্য করে।
যেসব জাহাজ এ নির্দেশ মানতে অস্বীকৃতি জানায়, সেগুলো নিয়মিত হামলার শিকার হয়। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রও প্রতিশোধ হিসেবে ইরানের উপকূলীয় এলাকায় মাঝে মাঝে বোমা হামলা চালায়।
এনএনবাংলা/ইএস
