সাম্প্রতিক
জাসদ কার্যালয়ে গোপন বৈঠক, আ. লীগ সন্দেহে আটক শতাধিক আন্দোলন উত্তাল চুয়েট, নতুন ভিসিকে ‘রেড কার্ড’ দেখালেন শিক্ষার্থীরা ধানমন্ডিতে নিষিদ্ধ আ. লীগের মিছিল, ককটেল বিস্ফোরণ, আটক ৩ নেপালে ভয়াবহ বন্যার এক মাস: নিহত ১,৪৫৩, এখনো নিখোঁজ প্রায় ৬ হাজার ডেঙ্গুতে বেড়েই চলছে মৃত্যু, একদিনে ৮ প্রাণহানি বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা: ‘যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যে চুক্তি সই’ এমি অ্যাওয়ার্ডসে মনোনয়ন পেল আল-জাজিরার ‘হাসিনা: ৩৬ ডেইজ ইন জুলাই’ রিসোর্ট ভাড়া নিয়ে ডিজে পার্টি, আড়ালে মাদক বিক্রি, গ্রেপ্তার ৪ হরমুজ খুলতে ইরানের ৭ দিনের রোডম্যাপ, সরাসরি ‘না’ ট্রাম্পের যুক্তরাষ্ট্রে প্রধানমন্ত্রীর পাঁচ দিনের সফরে কী কী হলো?
Skip to content

৫৩৮ কোটি টাকা আত্মসাৎ: সালমান এফ রহমান-শায়ানসহ ২৫ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

ছবি: সংগৃহীত

৫৩৮ কোটি টাকা আত্মসাত ও অর্থপাচারের অভিযোগে বেক্সিমকো গ্রুপের সাবেক চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমান, তার ছেলে আহমেদ শায়ান ফজলুর রহমানসহ ২৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অভিযোগটি আইএফআইসি ব্যাংক থেকে নেওয়া ঋণকে কেন্দ্র করে।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুদকের ব্রিফিংয়ে কমিশনের সচিব সাইদুর রহমান খান গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান।

দুদকের অনুসন্ধান অনুযায়ী, ঋণ নেওয়ার সক্ষমতা যথাযথভাবে যাচাই না করেই স্কাইমার্ক ইন্টারন্যাশনাল নামের একটি প্রতিষ্ঠানের নামে আইএফআইসি ব্যাংক থেকে তিন দফায় ৫৪৫ কোটি টাকার ওভারড্রাফট (ওডি) ঋণ অনুমোদন করা হয়। এর মধ্যে ৫৩৮ কোটি ১৬ লাখ ২৪ হাজার ৪৮২ টাকা নগদ উত্তোলন ও বিভিন্ন হিসাবে স্থানান্তরের মাধ্যমে আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে সংস্থাটি।

দুদকের ভাষ্য, অর্থের প্রকৃত উৎস ও গন্তব্য আড়াল করতে নগদ উত্তোলন, স্থানান্তর, হস্তান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে ওই অর্থ পাচার করা হয়েছে।

তিন দফায় বাড়ানো হয় ঋণের সীমা

দুদকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের ২৩ আগস্ট স্কাইমার্ক ইন্টারন্যাশনালের নামে প্রথমে ৯০ কোটি টাকার ওডি ঋণ অনুমোদন করা হয়। পরের বছর ১০ জানুয়ারি ঋণের সীমা বাড়িয়ে ১৪৫ কোটি টাকা করা হয়। এরপর ২০২৪ সালের ২৫ জুন তৃতীয় দফায় ঋণের সীমা বাড়িয়ে ৫৪৫ কোটি টাকা করা হয়।

দুদকের অভিযোগ, শেষ দফায় ঋণের সীমা বাড়ানোর সময় ৬৫০ শতাংশ জমি বন্ধক রাখার প্রস্তাব দেওয়া হলেও সেই বন্ধক নেওয়ার বিষয়টি স্থগিত রাখা হয়। পরে ওই বন্ধক আর সম্পন্ন হয়নি।

ঋণ দেওয়ার আগে যাচাই হয়নি যেসব তথ্য

দুদকের অনুসন্ধানে বলা হয়েছে, ঋণ অনুমোদনের আগে স্কাইমার্কের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও গুদাম পরিদর্শন করা হয়নি। উদ্যোক্তাদের পরিচিতি ও কেওয়াইসি, ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা, আর্থিক সক্ষমতা, সম্পদ ও দায়, নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী এবং আয়কর পরিশোধের তথ্যও যথাযথভাবে যাচাই করা হয়নি।

একইভাবে ঋণের প্রকৃত উদ্দেশ্য, আগের ঋণের ব্যবহার এবং ঋণের সীমা বাড়ানোর যৌক্তিকতাও যাচাই করা হয়নি বলে জানিয়েছে দুদক।

ঋণের স্থিতি ৬০৪ কোটি টাকা

দুদকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ২৩ জুলাই পর্যন্ত ওই ঋণে সুদ ও অন্যান্য চার্জের পরিমাণ ছিল ৬৬ কোটি ৫৩ লাখ ৪০ হাজার ৯৯৪ টাকা ৩ পয়সা। ওই দিন ঋণের মোট স্থিতি দাঁড়ায় ৬০৪ কোটি ৬৯ লাখ ৬৫ হাজার ৪৭৬ টাকা ৩ পয়সায়। এই অর্থকে ব্যাংকের আর্থিক ক্ষতি হিসেবে দেখিয়েছে দুদক।

মামলার আসামিদের মধ্যে সালমান এফ রহমান আইএফআইসি ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা। তার ছেলে আহমেদ শায়ান ফজলুর রহমান ব্যাংকটির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন।

অন্য আসামিদের মধ্যে স্কাইমার্ক ইন্টারন্যাশনালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আব্দুল্লাহ আল-মনজুর ও পরিচালক ইশরাত জাহান এবং আইএফআইসি ব্যাংকের সাবেক ও বর্তমান কয়েকজন পরিচালক ও কর্মকর্তা রয়েছেন।

৭ হাজার ১২৯ কোটি টাকার ঋণের অভিযোগও অনুসন্ধানে

সালমান এফ রহমান ও আহমেদ শায়ান ফজলুর রহমানের বিরুদ্ধে আইএফআইসি ব্যাংক থেকে মোট ১৪টি ‘ভুয়া ও কাগুজে’ প্রতিষ্ঠানের নামে ৭ হাজার ১২৯ কোটি টাকা ঋণ অনুমোদন, বিতরণ ও আত্মসাতের অভিযোগও অনুসন্ধান করছে দুদক।

দুদকের চলমান ওই অনুসন্ধানেরই একটি অংশ হিসেবে স্কাইমার্ক ইন্টারন্যাশনালের নামে নেওয়া ৫৩৮ কোটি টাকার ঋণের বিষয়টি উঠে এসেছে।

এনএনবাংলা/