বাংলা সিনেমার মতো ‘ঘটনা ঘটার পরে পুলিশ এসেছে’: আসিফ মাহমুদ

রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলার ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, ভাঙচুরের সময় পুলিশ ঘটনাস্থলে থাকলেও তা ঠেকাতে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। তার ভাষায়, ‘বাংলা ছায়াছবিতে একটা বিষয় আছে না, ঘটনা ঘটার পরে পুলিশ আসছে। তো এখানেও ঘটনা ঘটার পরে পুলিশ এসেছে পরিদর্শন করতে।’
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মিরপুরে হামলার শিকার বেসরকারি সংস্থা রাড্ডা এমসিএইচের কার্যালয় ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন আসিফ মাহমুদ।
প্রায় ৫০ বছর ধরে বিনামূল্যে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, প্রসূতি ও শিশু সেবাসহ বিভিন্ন কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল রাড্ডা এমসিএইচ। বৃহস্পতিবার রাতে প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয় ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ ওঠে। ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে চারটি ভবনসহ পুরো স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। পরে সেখানে ‘সমমনা দোকানদার সমিতি লিমিটেড’-এর নামে একটি সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দেওয়া হয় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে এসেছে।
রোববার পরিদর্শনের সময় এনসিপির কর্মীরা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ধ্বংসস্তূপে থাকা ওই সাইনবোর্ডটি সরিয়ে দেন। একই সঙ্গে দোকানদার সমিতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও কিছু নিদর্শনও সরিয়ে দেওয়া হয়।
পরিদর্শন শেষে রাড্ডা কেন্দ্র থেকে ওষুধ, ইনজেকশন ও চিকিৎসা সরঞ্জাম লুটের অভিযোগ করেন আসিফ মাহমুদ। এমনকি শিশুদের জন্য রাখা টিকাও লুট করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘এখানে আমরা ভেতরে দেখলাম যে, মেডিসিন, ইনজেকশন, ইকুইপমেন্ট—এই জিনিসগুলো পর্যন্ত লুট করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এই যে গরিব মানুষের গরিব বাচ্চাদের এই যে টিকা, এইটা লুট করে আপনারা কী প্রমাণ করতে চান?’
এ সময় তিনি রাজধানীর ইসিবি এলাকায় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুরের প্রসঙ্গও টানেন। তার অভিযোগ, রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মতো সেখানেও ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের ‘মবতন্ত্রের কবর রচনা’ সংক্রান্ত বক্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে আসিফ মাহমুদ বলেন, বাস্তবে রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওসহ কয়েকটি ঘটনায় এর বিপরীত চিত্র দেখা গেছে বলে তিনি মনে করেন।
পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, একটি এক্সকেভেটর ও ট্রাক এনে স্থাপনা ভাঙার কাজ চালানো হলেও পুলিশ তা বন্ধ করেনি। তার ভাষ্য, এক্সকেভেটর দিয়ে কোনো স্থাপনা ভাঙতে হলে অনুমতির বিষয়টি পুলিশকে যাচাই করার কথা।
আসিফ মাহমুদের অভিযোগ, ভাঙচুর শুরু হওয়ার সময় পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়। তার দাবি, সিসিটিভি ফুটেজেও পুলিশ সদস্যদের ঘটনাস্থলে অবস্থান করতে দেখা গেছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানান তিনি।
রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং ইসিবি এলাকায় সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুরের ঘটনায় একটি ‘নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি’ গঠনের দাবি জানিয়েছেন এনসিপির এই নেতা। তার বক্তব্য, ঘটনার সঙ্গে জড়িত এবং দায়িত্বে অবহেলা করা—উভয় পক্ষের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নিতে হবে।
একই সঙ্গে রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয় দাবি করে আসিফ মাহমুদ এ ঘটনায় বিএনপির একজন সংসদ সদস্য, সিটি করপোরেশনের প্রশাসন ও স্থানীয় পুলিশের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তোলেন। তবে এসব অভিযোগ তার বক্তব্য হিসেবেই এসেছে; এ বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুরের ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ারও দাবি জানান আসিফ মাহমুদ। পাশাপাশি রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি পুনর্নির্মাণ করে সেখানে আবার স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম চালুর আহ্বান জানান তিনি।
এনএনবাংলা/
