খুবই খুশি ফ্লাভিও, লুলার বার্তা আসল খেলা শুরু হচ্ছে

ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রথম ধাপে কোনো প্রার্থীই প্রয়োজনীয় ৫০ শতাংশ ভোট পাননি। ফলে নির্বাচন গড়িয়েছে দ্বিতীয় ধাপে। আগামী ২৫ অক্টোবর অনুষ্ঠেয় দ্বিতীয় ধাপের ভোটে মুখোমুখি হবেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা ও সাবেক প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারোর ছেলে ফ্লাভিও বলসোনারো।
রোববার অনুষ্ঠিত প্রথম ধাপের ভোটে দুই প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়েছে। ৯৮ দশমিক ৮১ শতাংশ ভোট গণনা শেষে ফ্লাভিও ৪৭ দশমিক ২৪ শতাংশ ভোট পেয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী লুলা পেয়েছেন ৪৪ দশমিক ৯১ শতাংশ ভোট। ভোটের এই ব্যবধান শেষ পর্যন্ত ফল নির্ধারণের জন্য যথেষ্ট হয়নি। কারণ, ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রথম ধাপে কোনো প্রার্থী ৫০ শতাংশের বেশি ভোট না পেলে শীর্ষ দুই প্রার্থীকে নিয়ে দ্বিতীয় ধাপে ভোট হয়। প্রথম ধাপে পিছিয়ে পড়াকে অপ্রত্যাশিত বলে মন্তব্য করেছেন ৮০ বছর বয়সী লুলা। তবে দ্বিতীয় ধাপে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয় জানিয়েছেন তিনি।
লুলা বলেন, ‘আমি নিশ্চিত ছিলাম, প্রথম ধাপে জয়ী হব। কিন্তু আসল খেলা কেবল শুরু হতে যাচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, এখন তারা ‘খেলার অতিরিক্ত সময়ে’ রয়েছেন এবং এই সময়ে ব্রাজিলের জনগণের মন জয় করতে চান। অন্যদিকে প্রথম ধাপে এগিয়ে থাকায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন ৪৫ বছর বয়সী ফ্লাভিও বলসোনারো। ব্রাজিলের এই সিনেটর দ্বিতীয় ধাপেও জয়ের বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী। ফ্লাভিও বলেন, ‘আর মাত্র তিন সপ্তাহ পর ব্রাজিলের মানুষ আধুনিক একটি সরকার বেছে নেওয়ার মাধ্যমে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে-এ বাস্তব সম্ভাবনা নিয়ে আমি অত্যন্ত আনন্দিত।’ বিশ্লেষকেরা বলছেন, প্রথম ধাপে ফ্লাভিওর ভোটের হার অনেকের প্রত্যাশাকে ছাড়িয়ে গেছে। দ্বিতীয় ধাপেও তার লড়াইয়ের অবস্থান শক্তিশালী হতে পারে বলে তাদের কেউ কেউ মনে করছেন। ফ্লাভিও জয়ী হলে বাবার পথ অনুসরণ করে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট হবেন তিনি। জইর বলসোনারো ২০১৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত দেশটির প্রেসিডেন্ট ছিলেন। ২০২২ সালের নির্বাচনে তাকে হারিয়ে ক্ষমতায় ফেরেন লুলা। এরপর জইর বলসোনারো আইনি জটিলতায় পড়েন। ২০২২ সালের নির্বাচনে পরাজয়ের পর অভ্যুত্থানচেষ্টার পরিকল্পনায় ভূমিকা রাখার অভিযোগে তিনি বর্তমানে ২৭ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন।
ব্রাজিলের এই নির্বাচন লাতিন আমেরিকার রাজনৈতিক গতিপথের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। এ অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে সাম্প্রতিক সময়ে ডানপন্থী রাজনীতির উত্থান দেখা গেছে। ফলে লাতিন আমেরিকার সবচেয়ে বড় দেশ ব্রাজিলের ভোটাররা শেষ পর্যন্ত কোন রাজনৈতিক পথ বেছে নেন, তা জানা যাবে ২৫ অক্টোবরের দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনে।
এনএনবাংলা/এনজেড
