দেশে ৩৯৩৮ ভবন ঝুঁকিপূর্ণ, অতি ঝুঁকিতে ৬২২টি

অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি কমাতে ভবনের অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিতে নিয়মিত পরিদর্শন করছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স। ২০২৫ সালে সারা দেশে ১০ হাজার ৫৩৩টি স্থাপনা পরিদর্শন করে ৩ হাজার ৩১৬টিকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ এবং ৬২২টিকে ‘অতি ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অর্থাৎ মোট ৩ হাজার ৯৩৮টি স্থাপনা ঝুঁকির তালিকায় রয়েছে।
পরিদর্শনে জরুরি বহির্গমন পথ, ব্যবহারযোগ্য সিঁড়ি, অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম, পানির রিজার্ভার, ফায়ার পাম্প, স্প্রিংকলার, ফায়ার ডোর, প্রশিক্ষিত জনবলসহ বিভিন্ন বিষয় যাচাই করা হয়। ভবনের বৈধ অনুমোদন ও লাইসেন্সও দেখা হয়। রাজউক অনুমোদিত নকশা লঙ্ঘন করে অতিরিক্ত তলা নির্মাণ এবং অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতিকে গুরুতর ঝুঁকি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, পরিদর্শন করা স্থাপনাগুলোর মধ্যে ৬ হাজার ৫৯৫টি সন্তোষজনক ছিল। হাসপাতাল ও ক্লিনিকের ১ হাজার ৫৩টির মধ্যে ৪৩২টি ঝুঁকিপূর্ণ এবং ৭৬টি অতি ঝুঁকিপূর্ণ। রেস্টুরেন্টের ১ হাজার ৭১টির মধ্যে ৩৭২টি ঝুঁকিপূর্ণ ও ১৪৫টি অতি ঝুঁকিপূর্ণ। শপিংমল ও মার্কেটের ১ হাজার ১৭১টির মধ্যে ৩৪৫টি ঝুঁকিপূর্ণ এবং ১০৩টি অতি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। কেমিক্যাল গোডাউনের ৯১টির মধ্যে ৪২টি ঝুঁকিপূর্ণ এবং ৩৮টি অতি ঝুঁকিপূর্ণ।
ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, তাদের পরিদর্শন মূলত অগ্নিনিরাপত্তাকেন্দ্রিক। ভবনের কাঠামোগত নিরাপত্তা যাচাইয়ের জন্য সংস্থাটির নিজস্ব ইঞ্জিনিয়ারিং উইং নেই। বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড (বিএনবিসি) অনুসরণ করে নির্ধারিত চেকলিস্টের ভিত্তিতে ভবনের ঝুঁকির মাত্রা নির্ধারণ করা হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিজাস্টার সায়েন্স অ্যান্ড ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. জিল্লুর রহমান বলেন, অনেক ভবনে অগ্নিনিরাপত্তার সরঞ্জাম থাকলেও সেগুলোর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ হয় না। ফায়ার হাইড্রেন্ট, অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র, আগুন শনাক্তকারী সেন্সর, ফায়ার ডোর ও জরুরি বহির্গমন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নিয়মিত মনিটরিং প্রয়োজন।
ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ জাহেদ কামাল বলেন, অগ্নিনিরাপত্তার দিক থেকে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে আগুন লাগলে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা বেশি। বিএনবিসি অনুসরণ করে ভবন নির্মাণ এবং ফায়ার সেফটি প্ল্যান বাস্তবায়নের মাধ্যমে এ ঝুঁকি কমানো সম্ভব।
এনএনবাংলা/
