‘৭ শর্ত মানলেই খুলবে হরমুজ’, যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের সাফ বার্তা

ইসলামাবাদ স্মারকপত্রের ভিত্তিতে দেওয়া সাতটি শর্ত যুক্তরাষ্ট্র পুরোপুরি মেনে না নেওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি খুলবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে ইরান। একই সঙ্গে ওয়াশিংটনকে সতর্ক করে তেহরান বলেছে, অহেতুক সময়ক্ষেপণ কিংবা একতরফাভাবে শর্ত চাপিয়ে দেওয়ার দিন শেষ হয়ে গেছে।
ইরানি সংবাদমাধ্যম নূরনিউজের বরাতে আলজাজিরা জানিয়েছে, রোববার (৪ অক্টোবর) ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার ও শীর্ষ রাজনৈতিক নেতা মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এসব কথা বলেন।
গালিবাফ জানান, মার্কিন প্রস্তাবের জবাবে ইরান কূটনৈতিক রোডম্যাপ পাঠানোর কয়েক দিন পর মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটন নতুন কিছু প্রস্তাব দিয়েছে। তবে ইরানের অবস্থান নিয়ে কোনো পরিবর্তন হয়নি।
তিনি বলেন, ইসলামাবাদকেন্দ্রিক সমঝোতা স্মারকের ভিত্তিতে ইরানের দেওয়া সাতটি শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করা হবে না। একই সঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরান যুদ্ধের ময়দানে পূর্ণ শক্তি নিয়ে প্রস্তুত রয়েছে এবং প্রয়োজন হলে শত্রুপক্ষকে নতুন ‘সারপ্রাইজ’ বা চমকের মুখোমুখি করা হবে।
ইরানের স্পিকার আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র একদিকে আলোচনার কথা বলছে, অন্যদিকে হুমকির কৌশল অবলম্বন করছে। তবে ওয়াশিংটনের এসব মনস্তাত্ত্বিক চাপ ইরানকে বিচলিত বা ভীত করতে পারছে না। যুদ্ধ ও কূটনীতি—দুই পথেই এগিয়ে যাওয়ার জন্য ইরান প্রস্তুত বলেও জানান তিনি।
এদিকে তেহরানে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও কূটনীতিকদের এক সমাবেশে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, নিজেদের নিরাপত্তার বিষয়ে ইরান যেমন কঠোর, তেমনি কূটনৈতিক সমাধানের ক্ষেত্রেও আন্তরিক। তবে যুক্তরাষ্ট্র আবার সামরিক পদক্ষেপের পথ বেছে নিলে আগের চেয়েও দ্বিগুণ প্রস্তুতি নিয়ে কঠোরভাবে জবাব দেওয়া হবে বলে সতর্ক করেন তিনি।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এসমাইল বাঘাই বলেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনকে কাজে লাগিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ বন্ধে ইরানের অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে। ওয়াশিংটন যেখানে পারমাণবিক আলোচনাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে, সেখানে তেহরানের প্রধান লক্ষ্য হরমুজ প্রণালিতে নৌচলাচল স্বাভাবিক করা।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক হামলার পর থেকে সাত মাসেরও বেশি সময় ধরে হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ এবং নৌচলাচল বিঘ্নিত হয়ে আছে। শান্তিপূর্ণ সময়ে বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পর সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে।
এনএনবাংলা/
