এই বছর হচ্ছে না বিপিএল: তামিম

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) আয়োজন নিয়ে বড় সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি তামিম ইকবাল। তিনি জানিয়েছেন, এ বছর বিপিএল মাঠে গড়াচ্ছে না। জোড়াতালি দিয়ে টুর্নামেন্ট আয়োজনের পরিবর্তে ঘরোয়া ক্রিকেটের জন্য নতুন একটি কাঠামো তৈরির কাজ করছে বিসিবি।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তামিম ইকবাল বলেন, ‘এ বছর বিপিএল মাঠে গড়াচ্ছে না। আমরা একটি নতুন ফর্মুলা নিয়ে কাজ করছি। যখন ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়ে যাবে, তখন আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেব যে আমাদের ঘরোয়া ক্রিকেটের ক্যালেন্ডারটি আমরা কীভাবে সাজাচ্ছি। এটি বেশ ভিন্নধর্মী ও রোমাঞ্চকর হতে চলেছে।’
বিপিএল আয়োজন থেকে সরে আসার পেছনে কয়েকটি বড় কারণ রয়েছে বলেও জানান বিসিবি সভাপতি। ফ্র্যাঞ্চাইজি দলগুলোর নিয়ম না মানা, বকেয়া পরিশোধে জটিলতা এবং দলগুলোর দায়িত্ব নিয়ে তৈরি হওয়া বিভিন্ন সমস্যাকে টুর্নামেন্টের জন্য বড় ঝুঁকি হিসেবে দেখছেন তিনি।
তামিম বলেন, ‘আমি আগেই বেশ কয়েকবার ইঙ্গিত দিয়েছিলাম যে আমি বিপিএল এভাবে পরিচালনা করব না। এখানে মূলত দুই-তিনটি বড় ইস্যু রয়েছে। প্রথমত, আমাদের মূল এজেন্ডা ছিল যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচন সম্পন্ন করা।’
বিপিএলের বর্তমান ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর অবস্থাও তুলে ধরেন তিনি। তামিমের ভাষায়, ‘রংপুর ও রাজশাহী ছাড়া বাকি দলগুলোর অবস্থা কী? কিছু ক্ষেত্রে নিয়ম-কানুন ও নীতিমালা ভাঙা হয়েছে। যদিও রাজশাহী পেমেন্ট ক্লিয়ার করেছে, তবুও তাদের ক্ষেত্রেও যে শতভাগ কমপ্লায়েন্স বা নিয়মের কড়াকড়ি রক্ষা করা হয়েছে, তা নয়।’
গত দুই বছরে বিপিএল থেকে বিসিবির প্রায় ৪০ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে বলেও জানান তামিম। তার মতে, ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট থেকে বোর্ডের লাভ হওয়ার কথা, লোকসান নয়।
তিনি বলেন, ‘যদি কোনো দল টুর্নামেন্ট থেকে সরে দাঁড়ায় বা কমপ্লায়েন্স পূরণ না করে, তবে বিসিবিকে সেই দলের দায়িত্ব নিতে হয়। গত দুই বছরে বিসিবির প্রায় ৪০ কোটি টাকার মতো লোকসান হয়েছে। ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট থেকে তো বিসিবির লাভ করার কথা, লোকসান নয়।’
তাই সমস্যাগুলোর সমাধান না করে শুধু বিপিএল চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে নন বিসিবি সভাপতি। তবে টুর্নামেন্ট বন্ধ করে দেওয়াই বোর্ডের চূড়ান্ত লক্ষ্য নয় বলেও স্পষ্ট করেছেন তিনি।
তামিম বলেন, ‘এটি বাস্তবায়নের জন্য আমাদের ইচ্ছা এক হাজার শতাংশ রয়েছে। তবে আমি কোনো তাড়াহুড়ো করতে চাই না। আমি কাজটি সঠিকভাবে করতে চাই, সেজন্য যদি ৬ বা ১২ মাস সময়ও লাগে, আমি তা নেব।’
ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর সঙ্গে ইতোমধ্যে যোগাযোগ শুরু হয়েছে বলেও জানিয়েছেন বিসিবি সভাপতি। নিয়ম ভঙ্গ, বকেয়া অর্থ, ব্যাংক গ্যারান্টিসহ বিভিন্ন সমস্যা ধাপে ধাপে সমাধানের চেষ্টা চলছে। বিসিবির মূল লক্ষ্য, পুরো ব্যবস্থাকে এমনভাবে সাজানো যাতে লাভজনক ও টেকসই কাঠামোর মাধ্যমে বিপিএল পরিচালনা করা যায়।
তামিম আরও বলেন, ‘আমি চাইলে কালকেই পাঁচটি দল দাঁড় করিয়ে দিতে পারি, কিন্তু আমি তা করব না। আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো প্রতিযোগিতামূলক ফেয়ার ক্রিকেট নিশ্চিত করা এবং বিসিবির সম্মান ও মর্যাদা বজায় রাখা। এর জন্য যদি আমাকে কোনো সমালোচনাও শুনতে হয়, তবুও আমি রাজি।’
উল্লেখ্য, বাংলাদেশের ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের ইতিহাসে এর আগেও বিপিএল বন্ধ থাকার নজির রয়েছে। ২০১৪ সালে ফিক্সিং কেলেঙ্কারির কারণে টুর্নামেন্টটি আয়োজন করা হয়নি। এরপর করোনাভাইরাস মহামারির কারণে ২০২১ সালেও মাঠে গড়ায়নি বিপিএল।
এনএনবাংলা/

