সাম্প্রতিক
Skip to content

রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা কতটুকু, বেতন-ভাতাসহ কী কী সুবিধা পাবেন মির্জা ফখরুল

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের সংসদীয় শাসনব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের অভিভাবক এবং সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদমর্যাদার অধিকারী। রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের মধ্যে সমতা ও সংযোগ বজায় রাখার ক্ষেত্রেও রাষ্ট্রপতির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দায়িত্ব নেওয়ার পর তার সাংবিধানিক ক্ষমতা, দায়িত্ব ও সুযোগ-সুবিধা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

রাষ্ট্রপতি কীভাবে নির্বাচিত হন

বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হন না। জাতীয় সংসদের নির্বাচিত সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির কার্যকাল পাঁচ বছর। একজন ব্যক্তি পরপর বা বিরতি দিয়ে সর্বোচ্চ দুই মেয়াদ রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করতে পারেন।

রাষ্ট্রপতি দায়িত্বে থাকাকালে অন্য কোনো লাভজনক পদে অধিষ্ঠিত হতে পারেন না। রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও শিষ্টাচারের দিক থেকে রাষ্ট্রপতি দেশের সর্বোচ্চ পদে থাকলেও সংসদীয় গণতন্ত্রে সরকারের মূল নির্বাহী ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রী ও তার মন্ত্রিসভার হাতে ন্যস্ত।

যেসব ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন

সংবিধানের ৪৮(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতিকে অধিকাংশ সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করতে হয়। তবে দুটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে তিনি স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

প্রথমত, প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ। সংসদ নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক দল স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে সেই দলের সংসদীয় নেতাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি। আর ঝুলন্ত সংসদের ক্ষেত্রে নিজের বিবেচনায় উপযুক্ত সংসদ সদস্যকে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগের সুযোগ রয়েছে।

দ্বিতীয়ত, প্রধান বিচারপতি নিয়োগ। বিচার বিভাগের প্রধান হিসেবে প্রধান বিচারপতিকে রাষ্ট্রপতি সরাসরি ও স্বাধীনভাবে নিয়োগ দেন।

সংসদ ও আইন প্রণয়নে রাষ্ট্রপতির ভূমিকা

সংসদের অধিবেশন আহ্বান, স্থগিত করা এবং নির্দিষ্ট সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সংসদ ভেঙে দেওয়ার ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির রয়েছে। সংসদে কোনো বিল পাস হওয়ার পর তা আইনে পরিণত করতে রাষ্ট্রপতির সম্মতি প্রয়োজন হয়। কোনো বিল পুনর্বিবেচনার জন্য তিনি সংসদে ফেরত পাঠাতেও পারেন।

এ ছাড়া সংসদ অধিবেশন না থাকা অবস্থায় বা সংসদ ভেঙে গেলে জরুরি পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশ জারি করতে পারেন। তবে অধ্যাদেশের ক্ষেত্রেও সংবিধান নির্ধারিত শর্ত ও সীমাবদ্ধতা প্রযোজ্য।

দণ্ড মওকুফের বিশেষ ক্ষমতা

সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির বিশেষ ক্ষমতার মধ্যে অন্যতম হলো দণ্ড মওকুফ, স্থগিত বা কমানোর ক্ষমতা। আদালতের দেওয়া যেকোনো সাজা রাষ্ট্রপতি ক্ষমা করতে, স্থগিত রাখতে বা কমিয়ে দিতে পারেন।

সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক

রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর সর্বাধিনায়ক। একই সঙ্গে দায়িত্ব পালনকালে তিনি বিশেষ সাংবিধানিক দায়মুক্তিও ভোগ করেন।

মেয়াদকালে রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা করা যায় না এবং তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করা যায় না।

তবে সংবিধান লঙ্ঘন, গুরুতর অসদাচরণ কিংবা শারীরিক বা মানসিক অসামর্থ্যের কারণে রাষ্ট্রপতিকে সংসদের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের ভোটে অভিশংসনের মাধ্যমে অপসারণ করা সম্ভব।

রাষ্ট্রপতির বেতন-ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা

বর্তমানে ‘দ্য প্রেসিডেন্টস রেমুনারেশন অ্যান্ড প্রিভিলেজ অ্যাক্ট’ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির মাসিক বেতন ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। এই বেতন সম্পূর্ণ আয়করমুক্ত।

এর পাশাপাশি রাষ্ট্রপতি অনিরীক্ষিত আপ্যায়ন ভাতা এবং অন্যান্য রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকেন। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ হওয়ায় দায়িত্ব পালনের জন্য প্রয়োজনীয় সরকারি বাসভবন, নিরাপত্তা ও অন্যান্য প্রটোকল সুবিধাও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনার আওতায় থাকে।

রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে কী হয়

কোনো কারণে রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে কিংবা রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

সব মিলিয়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির পদটি মূলত সাংবিধানিক ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদার দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদিও নির্বাহী ক্ষমতার বড় অংশ প্রধানমন্ত্রীর হাতে ন্যস্ত, তবু প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ, প্রধান বিচারপতি নিয়োগ, বিল অনুমোদন, অধ্যাদেশ জারি ও দণ্ড মওকুফের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক ভূমিকা রয়েছে।

এনএনবাংলা/