সাবেক তথ্যমন্ত্রী ইনুর মৃত্যুদণ্ড চেয়ে আপিল

সাবেক তথ্যমন্ত্রী ও জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুকে দেওয়া ১০ বছরের কারাদণ্ডের সাজা বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার দাবিতে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আপিল করেছে রাষ্ট্রপক্ষ।
সোমবার (৫ অক্টোবর) সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ আপিল আবেদন করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম।
এর আগে জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় হাসানুল হক ইনুকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এ কারণে ট্রাইব্যুনালের দেওয়া ১০ বছরের কারাদণ্ডের সাজা বাড়িয়ে হাসানুল হক ইনুকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার জন্য আপিল বিভাগে আবেদন করেছে রাষ্ট্রপক্ষ।
প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৫ মার্চ থেকে হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। দীর্ঘ তদন্ত শেষে একই বছরের ১১ সেপ্টেম্বর চিফ প্রসিকিউটরের কাছে প্রতিবেদন জমা দেন সংস্থাটির কর্মকর্তারা। আর এ প্রতিবেদন যাচাই-বাছাইয়ের পর ২৫ সেপ্টেম্বর ট্রাইব্যুনালে ফরমাল চার্জ বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। একইদিন আমলে নিয়ে ইনুর বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল-২। এরপর প্রসিকিউশন-আসামিপক্ষের দীর্ঘ শুনানি শেষে ২ নভেম্বর সুনির্দিষ্ট আটটি অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেয় আদালত।
গত বছরের ৩০ নভেম্বর এ মামলায় সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করে প্রসিকিউশন। সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয় ১ ডিসেম্বর। তদন্ত কর্মকর্তাসহ জাসদের এই নেতার বিরুদ্ধে মোট ১০ জন সাক্ষ্য দেয়। আসামিপক্ষে সাফাই সাক্ষ্য নেওয়া হয় দুজনের। সাক্ষ্যগ্রহণের এ ধাপের পর চলতি বছরের ২ এপ্রিল থেকে চলতে থাকে যুক্তিতর্ক। এ মামলায় প্রথমেই যুক্তি উপস্থাপন করে আসামিপক্ষ। এরপর প্রসিকিউশনের যুক্তি তুলে ধরা হয়। আর এ পর্ব সম্পন্ন হয় ১৪ মে। ওই দিনই রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখে ট্রাইব্যুনাল-২। এরপর ২২ জুন রায় ঘোষণার জন্য দিন নির্ধারণ করা হয়
গত ৩০ জুন মানবতাবিরোধী অপরাধের তিন মামলায় ইনুকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। তিনটি সাজা একসঙ্গে চলবে বলে রায়ে উল্লেখ করায় সব মিলিয়ে ১০ বছর কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে তাকে।
ট্রাইব্যুনালের রায় অনুযায়ী, ইনুর বিরুদ্ধে আনা আটটি অভিযোগের মধ্যে ৩, ৬ ও ৭ নম্বর অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। এসব অভিযোগে প্রতিটিতে তাকে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে দুটি অভিযোগে এক লাখ টাকা করে জরিমানার আদেশও দেওয়া হয়।
রাইসুল হকসহ অন্যান্য ভুক্তভোগীকে গুরুতর আহত করা, নির্যাতন ও রাজনৈতিক কারণে নিপীড়নের অভিযোগ ইনুর বিরুদ্ধে প্রমাণিত হয়েছে বলে রায়ে জানানো হয়। এছাড়া মানবতাবিরোধী অপরাধের ষড়যন্ত্র, প্ররোচনা ও দুষ্কর্মে সহযোগিতার দায়েও তাকে দণ্ডিত করা হয়। অপর একটি অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের ষড়যন্ত্র ও চুক্তির দায় প্রমাণিত হওয়ায় তাকে সাজা দেওয়া হয়।
তবে তার বিরুদ্ধে আনা ১, ২, ৪, ৫ ও ৮ নম্বর অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় এসব অভিযোগ থেকে তাকে খালাস দেন ট্রাইব্যুনাল। এখন খালাস পাওয়া অভিযোগসহ প্রমাণিত অভিযোগে দেওয়া সাজা বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার আবেদন জানিয়েছে প্রসিকিউশন। আবেদনটি এখন আপিল বিভাগ বিবেচনা করবে।
এনএনবাংলা/এফএস
