সাম্প্রতিক
বাংলাদেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে ইইউ: মাইকেল মিলার আখতারুজ্জামানের জামিন মেলেনি, কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ এলপিজি ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম বাড়ল ২৫২ টাকা সেপ্টেম্বরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪২৩, প্রতিদিন গড়ে ১৪ জন ভারত-পাকিস্তানের চেয়ে বেশি দিন বাঁচেন বাংলাদেশিরা: ডব্লিউএইচও ‘শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণে আদালতের পাশাপাশি ভারতের রাজনৈতিক সদিচ্ছাও প্রয়োজন’ এখনই বন্ধ হচ্ছে না পদ্মা ব্যাংক দেশে ৩৯৩৮ ভবন ঝুঁকিপূর্ণ, অতি ঝুঁকিতে ৬২২টি ‘৭ শর্ত মানলেই খুলবে হরমুজ’, যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের সাফ বার্তা এবার অটোগ্যাসের দামও বাড়াল বিইআরসি
Skip to content

নারীর অংশগ্রহণ ছাড়া গণতন্ত্র টেকসই হবে না: সিইসি

ছবি: সংগৃহীত

গণতন্ত্র সুসংহত করতে নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। তিনি বলেছেন, শুধু নারী ভোটারদের সংখ্যা বাড়ালে হবে না। তাদের ক্ষমতায়নের পরিধি বাড়াতে হবে।

সোমবার (৫ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর নির্বাচনি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে ইউএন ইলেকটোরাল প্রজেক্টের আয়োজনে জেন্ডার ইকুয়ালিটি নিয়ে কর্মশালায় এসব কথা বলেন তিনি।

জাতিসংঘ বাংলাদেশ ও সংস্থাটির ‘ইউএন ইলেক্টোরাল প্রজেক্ট ব্যালট অ্যান্ড ড্রিপ’-এর সহায়তায় কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়।

সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, ‘আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নারী ভোটারদের বিপুল অংশগ্রহণ হবে। তবে নারী প্রার্থী কম হবে।’ এর কারণ হিসেবে তিনি সামাজিক সংস্কৃতি ও প্রচলিত বিশ্বাসের কথা উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, ‘পরিবর্তন মানুষ সহজে চায় না। পরিবর্তন করতে গেলে আমরা ১০ বার ভাবি। এজন্য সচেতনতা প্রয়োজন, বড় ক্যাম্পেইন করতে হবে। জনগোষ্ঠীর অর্ধেককে বাইরে রেখে আমরা গণতন্ত্রকে সুসংহত করতে পারব না। বিশ্বাসযোগ্য গণতন্ত্রের জন্য নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে।’

নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর বিষয়ে সিইসি বলেন, ‘এখানে পরিবর্তন আনা কঠিন। এজন্য বিশাল পরিসরে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। নারী অংশগ্রহণ বাড়াতে তথ্যনির্ভর নীতি প্রণয়ন করতে হবে।’

জাতিসংঘের ইউএন উইমেনের কান্ট্রি প্রতিনিধি গীতাঞ্জলি সিং বলেন, নির্বাচন প্রক্রিয়ায় নারীদের যুক্ত করতে হলে তাদের আর্থিক, সামাজিক ও প্রযুক্তিগত বাধা দূর করতে হবে।

নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নারীদের যুক্ত হওয়ার অনেক সুযোগ রয়েছে। স্থানীয় সরকারে নারীদের জন্য সংরক্ষিত পদ রয়েছে। সেখানে ভালো করতে পারলে তারা জাতীয় রাজনীতিতেও ভূমিকা রাখার সুযোগ পান।

তিনি বলেন, ‘দুঃখজনকভাবে গত জাতীয় নির্বাচনে নারী প্রার্থী কম ছিল। দলীয় ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানো গেলে প্রার্থীর সংখ্যাও বাড়বে।’

নারীদের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো ভুয়া তথ্য ও অপতথ্য বন্ধে উদ্যোগ নেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, জেন্ডার সমতা নিশ্চিত করতে নারী ভোটারদের নিবন্ধন প্রক্রিয়া সহজ করতে হবে। পাশাপাশি নারী ভোটার ও প্রার্থীদের হয়রানি বন্ধ এবং নারী প্রার্থীদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।

নির্বাচন কমিশনার তাহমিদা আহমেদ বলেন, দেশে নারীর অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অনেক আইন থাকলেও বাস্তবে নিরাপত্তা ও সুশাসনের ঘাটতি রয়েছে। এ অবস্থায় নারীদের বৃহত্তর পরিসরে নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় নিয়ে আসতে হলে সমস্যার গভীরে যেতে হবে।

তিনি বলেন, ‘পাঁচ তারকা হোটেলে বসে কোনো কৌশল নির্ধারণ করলে ফল পাওয়া যাবে না। সমস্যার গভীরে যেতে হবে, গ্রামে যেতে হবে।’

নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, নারীদের সুরক্ষায় দেশে শক্ত আইন রয়েছে। তবে নারীর অধিকার সুরক্ষায় শুধু আইন যথেষ্ট নয়, এর পাশাপাশি সামাজিক পরিবর্তন প্রয়োজন।

এনএনবাংলা/এফএস