পশ্চিমবঙ্গে এক সপ্তাহে ৩ খুন, নিহত সবাই মুসলিম

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে পরপর তিন মুসলিম হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ ও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বাঁকুড়া ও নদীয়া জেলায় ঘটে যাওয়া এসব নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর প্রশাসনের ভূমিকা, রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন এবং উগ্রবাদী তৎপরতা নিয়ে জনমনে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন সরকারের বিরুদ্ধে উঠেছে প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও উগ্রবাদীদের প্রতি তোষণের অভিযোগ।
বাঁকুড়ার ইন্দাসের কারিশুন্ডা গ্রামে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) কর্মী আবদুল হাফিজের বৃদ্ধ বাবা মোহাম্মদ মাফিককে নিজ বাড়িতে পিটিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডের পর সিজেপির শীর্ষ নেতা আশুতোষ রাঙ্কা রাজ্য সরকারকে ১০ দিনের আল্টিমেটাম দিয়েছেন। তিনি দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার করে কঠোর শাস্তির পাশাপাশি পুলিশের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে আদালতের তত্ত্বাবধানে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
নিহত মাফিকের পরিবারও রাজ্য সরকারের আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রত্যাখ্যান করেছে। এর পরিবর্তে তারা মাফিকের স্মরণে আন্তর্জাতিক মানের একটি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আসামিদের গ্রেপ্তার করা না হলে জেলা প্রশাসনিক ভবন ঘেরাওয়েরও হুঁশিয়ারি দিয়েছে পরিবারটি।
এদিকে নদীয়া জেলায় রাজনৈতিক সহিংসতার আরও ভয়াবহ চিত্র সামনে এসেছে। গত শনিবার রাতে প্রবীণ কংগ্রেস নেতা ও নদীয়া জেলা সম্পাদক আনিসুর রহমান (৫৪) এবং তাঁর ছেলে, পেশায় আইনজীবী আবু সুফিয়ানকে (২৩) গুলি ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। রেলওয়ে আন্ডারপাসের কাছে তাঁদের গাড়ির গতিরোধ করে পরিকল্পিতভাবে এ জোড়া হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
ঘটনার পর স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেসের পঞ্চায়েত প্রধান ফাতেমা বিবি এবং তাঁর সহযোগী সাহেব আলী মণ্ডল ও মিঠু শেখকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। তবে এ হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে আরও গভীর রাজনৈতিক ও উগ্রবাদী ষড়যন্ত্র থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এরই মধ্যে এসব চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের পাশাপাশি রাজ্য বিধানসভার সাবেক ডেপুটি স্পিকার আশিষ বন্দ্যোপাধ্যায়ের আত্মহত্যার ঘটনাও পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।
এনএনবাংলা/

