সাম্প্রতিক
দ্বিতীয় দিনেই ইনিংস ব্যবধানে টেস্ট হারল বাংলাদেশ বঙ্গভবনে দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু করলেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম বৈধতার দাবিতে বনানীতে স্লিপার বাস মালিকদের সড়ক অবরোধ ঢাকায় বাড়ছে লোডশেডিং, দিনে-রাতে একাধিকবার যাচ্ছে বিদ্যুৎ বঙ্গভবনে আমন্ত্রণ না পাওয়ায় ‘দুঃখিত ও বিব্রত’ চুপ্পু ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানিতে দামের বাইরে নতুন চার্জ দিতে হবে বাংলাদেশকে গুদামের দরজা ভেঙে বিক্ষুব্ধ কৃষকরা নিয়ে গেল ২০২ বস্তা সার ইয়াবা সেবন দেখে ফেলা ও বাধা দেওয়ায় শিক্ষক পরিবারের চারজনকে খুন: পুলিশ ২০২৪-কে চূড়ান্ত লড়াই ভাববেন না, এটি ছিল মহড়া: জামায়াত আমির এল নিনোর প্রভাব, ২০২৭ সালে পড়তে পারে রেকর্ডভাঙা গরম
Skip to content

যুক্তরাজ্যের মেট অফিসের পূর্বাভাস

এল নিনোর প্রভাব, ২০২৭ সালে পড়তে পারে রেকর্ডভাঙা গরম

ছবি: মঈন আহমেদ

আগামী ২০২৭ সালে বিশ্বে গড় তাপমাত্রা নতুন রেকর্ড গড়তে পারে। মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে প্রশান্ত মহাসাগরে তৈরি হওয়া শক্তিশালী এল নিনোর প্রভাব মিলিয়ে আগামী বছর বিশ্বের সবচেয়ে উষ্ণ বছরগুলোর একটি হতে পারে বলে সতর্ক করেছে যুক্তরাজ্যের আবহাওয়া দপ্তর মেট অফিস।

মেট অফিসের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলমান এল নিনো চলতি বছরের শেষ দিকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। এটি সাম্প্রতিক কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী এল নিনো হয়ে উঠতে পারে। এর ফলে বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা আরও বেড়ে ২০২৭ সাল রেকর্ডের সবচেয়ে উষ্ণ বছর হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

মেট অফিসের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস বিভাগের প্রধান অধ্যাপক অ্যাডাম স্কাইফ বলেছেন, এমন শক্তিশালী এল নিনোর সংকেত তিনি আগে কখনো দেখেননি। তার ভাষায়, পরিস্থিতিটি ‘নজিরবিহীন’।

কেন এত শক্তিশালী হতে পারে এল নিনো?

এল নিনো প্রশান্ত মহাসাগরের স্বাভাবিক জলবায়ুচক্রের একটি পর্যায়, যা সাধারণত দুই থেকে সাত বছর পরপর দেখা যায়। এ সময় গ্রীষ্মমণ্ডলীয় প্রশান্ত মহাসাগরের উষ্ণ পানি পূর্ব দিকে সরে আসে। এর ফলে সমুদ্রের তাপ বায়ুমণ্ডলে ছড়িয়ে পড়ে এবং বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা বাড়তে থাকে। একই সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাত ও আবহাওয়ার স্বাভাবিক ধরনেও পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।

বিজ্ঞানীরা সাধারণত প্রশান্ত মহাসাগরের একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা দীর্ঘমেয়াদি গড়ের চেয়ে অন্তত ০.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি হলে এল নিনো ঘোষণা করেন। বর্তমানে ওই অঞ্চলের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি বেশি। মেট অফিসের পূর্বাভাস বলছে, বছরের শেষ দিকে এই পার্থক্য ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যেতে পারে।

মেট অফিস জানিয়েছে, ১৯৫০ সাল থেকে সংরক্ষিত আবহাওয়ার রেকর্ডে এত শক্তিশালী এল নিনো দেখা যায়নি। এমনকি এটি উনিশ শতকের পর সবচেয়ে শক্তিশালী এল নিনোগুলোর একটি হতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

সমুদ্রের গভীরে জমে আছে অস্বাভাবিক উষ্ণ পানি

এবারের এল নিনোকে আরও শক্তিশালী করে তুলতে পারে প্রশান্ত মহাসাগরের গভীরে জমে থাকা অস্বাভাবিক উষ্ণ পানি। কিছু এলাকায় সমুদ্রপৃষ্ঠের প্রায় ১০০ মিটার নিচে পানির তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি।

এই অতিরিক্ত উষ্ণ পানি সমুদ্রপৃষ্ঠে উঠে এলে এল নিনোর শক্তি আরও বেড়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের জলবায়ুবিজ্ঞানী জেক হাউসফাদার বলেন, এল নিনো এখনো বিকশিত হচ্ছে এবং সামনে আরও কয়েক মাস সময় রয়েছে। ফলে এটি রেকর্ড গড়তে পারে—এমন আশঙ্কা আরও জোরালো হয়েছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে এল নিনোর সম্পর্ক কতটা?

তবে এল নিনো জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আরও ঘন ঘন বা আরও শক্তিশালী হচ্ছে—এমন প্রমাণ নেই বলে জানিয়েছে বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও)। এ বিষয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে এখনো গবেষণা ও বিতর্ক চলছে।

জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক সংস্থা আইপিসিসির ২০২১ সালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ১৯৫০ সালের পর এল নিনোর তীব্রতা বেড়েছে বলে মনে হতে পারে। তবে কয়েক হাজার বছরের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এল নিনোর শক্তি স্বাভাবিকভাবেই সময়ের সঙ্গে ওঠানামা করেছে। ফলে সাম্প্রতিক পরিবর্তনের সঙ্গে বৈশ্বিক উষ্ণায়নের সরাসরি সম্পর্ক নিশ্চিত করা কঠিন।

তবে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা এখন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি। ফলে এরই মধ্যে উষ্ণ হয়ে ওঠা জলবায়ুর ওপর শক্তিশালী এল নিনোর প্রভাব পড়লে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে চরম আবহাওয়ার ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।

দক্ষিণ এশিয়ায় কমতে পারে বৃষ্টি, বাড়তে পারে খরা

এল নিনোর প্রভাবে দক্ষিণ এশিয়ায় দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। চলতি বছরও এ অঞ্চলের বিভিন্ন জায়গায় স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টিপাত হয়েছে।

এ ছাড়া দক্ষিণ আমেরিকার উত্তরাঞ্চল ও অস্ট্রেলিয়ায় খরা এবং দাবানলের ঝুঁকি বাড়তে পারে। অন্যদিকে পেরু, ইকুয়েডর ও যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলে অতিবৃষ্টি ও বন্যার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।

খাদ্যপণ্যের দামেও পড়তে পারে প্রভাব

এল নিনোর প্রভাব শুধু আবহাওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। অতীতের শক্তিশালী এল নিনোর সময় বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কফি, চাল ও কোকোর উৎপাদন কমে গিয়েছিল। এর ফলে খাদ্যের দাম বেড়েছে এবং কৃষি উৎপাদন ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

চলতি মাসের শুরুতে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থাও সতর্ক করেছে, শক্তিশালী এল নিনো ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর কোটি কোটি মানুষের খাদ্যনিরাপত্তার ওপর চাপ তৈরি করতে পারে।

সব অঞ্চলে একই প্রভাব ফেলবে না এল নিনো

তবে এল নিনোর প্রভাব বিশ্বের সব অঞ্চলে একই রকম হয় না। ক্যারিবীয় অঞ্চল ও গ্রীষ্মমণ্ডলীয় আটলান্টিকে এটি হারিকেনের তৎপরতা কমিয়ে দিতে পারে। চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত ওই অঞ্চলে মাত্র তিনটি নামকরণ করা ঝড় তৈরি হয়েছে।

ফলে ২০২৭ সালে বৈশ্বিক তাপমাত্রার নতুন রেকর্ড তৈরি হবে কি না, তা অনেকটাই নির্ভর করবে এল নিনোর শেষ পর্যন্ত কতটা শক্তিশালী হয় এবং এর সঙ্গে অন্যান্য জলবায়ুগত প্রভাব কীভাবে কাজ করে তার ওপর।

এনএনবাংলা/