কিংবদন্তি অ্যামব্রোসের ৩৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে শরিফুলের ৭ উইকেট

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলা সফরকারী ব্যাটারদের জন্য যেমন কঠিন, তেমনি চ্যালেঞ্জিং বোলারদের জন্যও। কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে অনেক সময়ই বেগ পেতে হয় পেসারদের। তবে অস্ট্রেলিয়ায় নিজের প্রথম টেস্টেই সেই কঠিন কন্ডিশনকে জয় করে ইতিহাস গড়েছেন বাংলাদেশের বাঁহাতি পেসার শরিফুল ইসলাম।
অস্ট্রেলিয়াকে ২১০ রানে অলআউট করতে ৪৮ রানে ৭ উইকেট নিয়েছেন শরিফুল। টেস্ট ক্যারিয়ারে এর আগে কখনো পাঁচ উইকেটও পাওয়া হয়নি তার। অথচ ক্যারিয়ারসেরা বোলিংয়ে এক ম্যাচেই ৭ উইকেট নিয়ে দেশের হয়ে গড়েছেন নতুন রেকর্ড।
শরিফুলের ৪৮ রানে ৭ উইকেট এখন দেশের বাইরে কোনো বাংলাদেশি বোলারের সেরা বোলিং ফিগার। শুধু তাই নয়, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে যেকোনো ভেন্যুতে বাংলাদেশের কোনো বোলারের এটিই সেরা বোলিং। টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশি পেসারদের মধ্যেও এটাই এখন সেরা বোলিং ফিগার।
এই কীর্তিতেই আনন্দিত হওয়ার যথেষ্ট কারণ ছিল শরিফুলের। তবে তার এই পারফরম্যান্সের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরও বড় এক ইতিহাস। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে কোনো সফরকারী বোলারের ৭ উইকেট নেওয়ার ঘটনা ঘটল ৩৩ বছর পর।
১৯৯৩ সালে পার্থের ওয়াকা গ্রাউন্ডে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিংবদন্তি পেসার কার্টলি অ্যামব্রোস মাত্র ২৫ রানে ৭ উইকেট নিয়েছিলেন। তার সেই ঐতিহাসিক স্পেলে এক পর্যায়ে মাত্র ১ রান খরচায় ৭ উইকেট নিয়েছিলেন ক্যারিবীয় ডানহাতি পেসার। এবার ৭ উইকেট নিয়ে সেই তালিকায় নিজের নাম তুললেন শরিফুলও।
এর আগের দিনই ৬ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ মাত্র ৬৪ রানে অলআউট হলেও ব্যাট হাতে দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ১৪ রান করেন শরিফুল। এরপর বল হাতে নেমে একের পর এক উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচের চিত্রই বদলে দেন তিনি।
আচমকা বাউন্সার আর ইনসুইঙ্গারে স্টিভেন স্মিথদের কাবু করেন শরিফুল। দ্বিতীয় দিনে সুইং ও মুভমেন্ট খুব একটা কাজে না এলেও দুর্দান্ত এক ইয়র্কারে ক্যামেরন গ্রিনকে ফেরান তিনি।
এনএনবাংলা/

