সাম্প্রতিক
Skip to content

বৈধতার দাবিতে বনানীতে স্লিপার বাস মালিকদের সড়ক অবরোধ

ছবি: সংগৃহীত

সারা দেশে চলাচলরত স্লিপার বাসের বৈধতা ও সুনির্দিষ্ট নীতিমালার দাবিতে রাজধানীর বনানীতে সড়ক অবরোধ করেছেন বাংলাদেশ স্লিপার এসি বাস মালিক সমিতির নেতাকর্মীরা। এতে বনানী থেকে মহাখালীগামী যানবাহন চলাচলে ভোগান্তির সৃষ্টি হয়।

আজ রবিবার (২৩ আগস্ট) দুপুর ১টা ১০ মিনিটের দিকে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) সদর দপ্তরের সামনে সড়ক বন্ধ করে আন্দোলন শুরু করেন তারা।

আন্দোলনকারীরা স্লিপার বাস চলাচলের অনুমোদন ও বৈধতার দাবিতে এই কর্মসূচি পালন করছেন বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে ডিএমপির ট্রাফিক মহাখালী জোনের সহকারী কমিশনার ইশরাকুল কবীর বলেন, ‘স্লিপার কোচের মালিক ও কর্মচারীরা রাস্তায় বাস চালানোর অনুমোদনের দাবিতে বনানী সেতু ভবনের সামনের সড়কে আন্দোলন করছেন। এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য আমরা জানার চেষ্টা করছি। ঘটনাস্থলে পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত রয়েছেন।’

এ সময় ঘটনাস্থলে পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতি থাকলেও তাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

অবরোধের আগে সাংবাদিকদের কাছে নিজেদের দাবিগুলো তুলে ধরেন স্লিপার বাস মালিক সমিতির নেতারা। তাদের প্রধান দাবি, আদালতে চলমান মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তির আগে স্লিপার বাসের বিরুদ্ধে কোনো বলপ্রয়োগ বা নিষেধাজ্ঞা আরোপ না করা।

তারা আরও দাবি করেন, স্লিপার বাস খাতে বিনিয়োগ ও সংশ্লিষ্ট শ্রমিকদের কর্মসংস্থান সুরক্ষায় ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এ ধরনের বাস পরিচালনার জন্য সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে।

ফিটনেস সনদ ও রুট পারমিট নিয়ে বিদ্যমান জটিলতা দ্রুত নিরসনের পাশাপাশি আইনি প্রক্রিয়া চলাকালে অযৌক্তিক জরিমানা, তল্লাশি ও গাড়ি আটক বন্ধের দাবিও জানিয়েছেন তারা। একই সঙ্গে সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে বিআরটিএর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে স্লিপার বাসকে কার্যকর নিয়ন্ত্রক কাঠামোর আওতায় আনার প্রস্তাব দিয়েছেন মালিকরা।

সমিতির নেতাদের দাবি, এই খাতে শত শত কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে। চালক, হেলপার, সুপারভাইজার ও মেকানিকসহ হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থানও স্লিপার বাসের ওপর নির্ভরশীল। বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়া বাস চলাচল বন্ধ হলে মালিক ও শ্রমিক উভয়েই বড় ধরনের আর্থিক সংকটে পড়বেন।

তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, স্লিপার বাস পরিচালনা নিয়ে হাইকোর্টে রিট পিটিশন নং-১২৯০/২০২৫ বিচারাধীন রয়েছে। মামলাটির চূড়ান্ত নিষ্পত্তির আগে কোনো ধরনের বলপ্রয়োগ বা নিষেধাজ্ঞা না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

মালিক সমিতি বলছে, স্লিপার বাস বন্ধ না করে এর কারিগরি ও নিরাপত্তা মান নির্ধারণ করা প্রয়োজন। এ জন্য আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বিবেচনায় নিয়ে বিআরটিএর মাধ্যমে পৃথক নীতিমালা তৈরির প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।

এনএনবাংলা/এফএস