সাম্প্রতিক
বাংলাদেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে ইইউ: মাইকেল মিলার আখতারুজ্জামানের জামিন মেলেনি, কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ এলপিজি ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম বাড়ল ২৫২ টাকা সেপ্টেম্বরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪২৩, প্রতিদিন গড়ে ১৪ জন ভারত-পাকিস্তানের চেয়ে বেশি দিন বাঁচেন বাংলাদেশিরা: ডব্লিউএইচও ‘শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণে আদালতের পাশাপাশি ভারতের রাজনৈতিক সদিচ্ছাও প্রয়োজন’ এখনই বন্ধ হচ্ছে না পদ্মা ব্যাংক দেশে ৩৯৩৮ ভবন ঝুঁকিপূর্ণ, অতি ঝুঁকিতে ৬২২টি ‘৭ শর্ত মানলেই খুলবে হরমুজ’, যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের সাফ বার্তা এবার অটোগ্যাসের দামও বাড়াল বিইআরসি
Skip to content

এআই ক্যামেরায় শনাক্তে মোটরসাইকেলের সামনেও বসবে নম্বর প্লেট

ছবি: সংগৃহীত

ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনকারী মোটরসাইকেল শনাক্তে সামনে নম্বর প্লেট বসানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ঢাকার সড়কে ব্যবহৃত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ক্যামেরার মাধ্যমে মোটরসাইকেলের নম্বর সহজে শনাক্ত করতেই এ সিদ্ধান্ত। গত ১৮ জুলাই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পরিবেশদূষণ নিয়ন্ত্রণবিষয়ক সভায় সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয়। এটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষকে (বিআরটিএ)।

তবে সিদ্ধান্তটি বাস্তবায়নে বেশ কিছু কারিগরি প্রশ্ন রয়েছে। দেশের অনেক মোটরসাইকেলে সামনে নম্বর প্লেট বসানোর নির্দিষ্ট জায়গা নেই। নতুন করে প্লেট সংযোজন করলে মোটরসাইকেলের নকশা, বায়ুপ্রবাহ ও নিরাপত্তায় প্রভাব পড়বে কি না, তা নিয়েও রয়েছে সংশয়।

এসব বিষয় যাচাই করতে গত ১৩ আগস্ট সাত সদস্যের কমিটি গঠন করেছে বিআরটিএ। প্লেটের আকার, কোথায় বসানো হবে এবং এআই ক্যামেরায় সেটি কার্যকরভাবে শনাক্ত করা যাবে কি না—এসব বিষয়ে মতামত দেবে কমিটি। এতে বিআরটিএ, ডিএমপি ট্রাফিক বিভাগ, বুয়েট, অ্যাকসিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউট এবং মোটরসাইকেল উৎপাদন ও আমদানিকারকদের প্রতিনিধিরা রয়েছেন।

খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, অনেক পুরোনো ও বর্তমান মডেলের মোটরসাইকেলে সামনে প্লেট বসানোর ব্যবস্থা নেই। ফলে পরিবর্তন আনতে হলে সামনের অংশে বাতাসের চাপ বেড়ে উচ্চগতিতে নিয়ন্ত্রণে সমস্যা হতে পারে। আবার হেডলাইটের নিচে বা রেডিয়েটরের সামনে প্লেট বসালে ইঞ্জিনে বাতাস চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়ে অতিরিক্ত তাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পুরোনো সব মোটরসাইকেলে নিয়মটি কার্যকর হবে, নাকি শুধু নতুন মডেলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে, সেটিও এখনো স্পষ্ট নয়।

বর্তমানে ঢাকার বিভিন্ন সড়কে আইন লঙ্ঘন শনাক্তে এআই প্রযুক্তির ক্যামেরা ব্যবহার করছে ডিএমপি। গত ৭ মে পরীক্ষামূলকভাবে এ কার্যক্রম শুরু হয়। এসব ক্যামেরা আইন ভঙ্গকারী যান শনাক্ত করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংশ্লিষ্ট মালিকের নামে ডিজিটাল মামলা করতে পারে। পুলিশ এ কাজে ৩৬০ ডিগ্রি ঘুরে ছবি-ভিডিও ধারণ এবং চলন্ত যান শনাক্তে সক্ষম ‘পিটিজেড ক্যামেরা’ব্যবহার করছে।

তবে বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ বলছেন, শুধু সামনে নম্বর প্লেট বসালেই সমস্যার পুরো সমাধান হবে না। এ ক্ষেত্রে রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি আইডেন্টিফিকেশন (আরএফআইডি) প্রযুক্তি আরও কার্যকর হতে পারে। বুয়েটের অধ্যাপক সামছুল হকের মতে, প্রতিটি গাড়িতে আরএফআইডি চিপ থাকলে দূর থেকেই গাড়ি শনাক্ত করা সম্ভব। নম্বর প্লেট ঢেকে রাখা গেলেও রেডিও তরঙ্গের মাধ্যমে কাজ করা আরএফআইডি ট্যাগ সহজে আড়াল করা যায় না।

আরএফআইডির মাধ্যমে গাড়ির পরিচয় ও চলাচলের তথ্যও কেন্দ্রীয় তথ্যভান্ডারে সংরক্ষণ করা সম্ভব। বাংলাদেশে ১৯৯৮ সালে যমুনা সেতুতে টোল আদায়েও এ প্রযুক্তি ব্যবহারের অভিজ্ঞতা রয়েছে।

বিআরটিএর তথ্য অনুযায়ী, দেশে নিবন্ধিত মোটরসাইকেলের সংখ্যা প্রায় ৪৯ লাখ ৯৭ হাজার। প্রতি বছর বিক্রি হচ্ছে প্রায় পাঁচ লাখ নতুন মোটরসাইকেল। ফলে সামনে নম্বর প্লেট বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হলেও এর কারিগরি বাস্তবতা, নিরাপত্তা ও পুরোনো মোটরসাইকেলে প্রয়োগের বিষয়গুলো এখনো পর্যালোচনায় রয়েছে। কমিটির সুপারিশের পর এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এনএনবাংলা/