সাম্প্রতিক
নিত্যপণ্যের বাড়তি দামে অস্বস্তিতে ক্রেতারা ঢাকায় অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে নতুন পরিকল্পনা, কতটা কার্যকর হবে? রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলা: ৪ শিক্ষার্থীকে বহিষ্কারের সুপারিশ, তদন্তে আরও ৪ জন হামের উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু, ডেঙ্গুতে একজনের প্রাণহানি তিন ফিফটিতে বাংলাদেশের ৩১৭, প্রথম দিনেই নাটকীয় উত্থান-পতন শেখ হাসিনার আমলে দুই বিচার নিয়ে কী বলেছিলেন নাভি পিল্লাই? কংগ্রেসের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ-নেপালের মতো ‘নৈরাজ্য’ সৃষ্টির চেষ্টার অভিযোগ বিজেপির মোটরসাইকেলে এসে বিকাশকর্মীদের গাড়িতে গুলি, দুই বস্তায় থাকা তিন কোটি টাকা লুট নাভি পিল্লাইয়ের নোবেল জয়ের পরই আইসিসির ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা বাংলাদেশে দরিদ্র হওয়ার ঝুঁকিতে ছয় কোটি ২০ লাখ নিম্ন মধ্যবিত্ত
Skip to content

ছুটির দিনেও রাজধানীসহ সারাদেশে বেড়েছে লোডশেডিং

ছবি: সংগৃহীত

দেশের কয়েকটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন কমে যাওয়ায় ছুটির দিনেও রাজধানীসহ সারা দেশে লোডশেডিং বেড়েছে। শনিবার সন্ধ্যার মধ্যেই ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় দুই থেকে তিনবার লোডশেডিংয়ের তথ্য পাওয়া গেছে। একই সময়ে জাতীয় পর্যায়ে বিদ্যুৎ ঘাটতিও ১ হাজার ৯০০ মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যায়।

পাওয়ারগ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশের (পিজিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, শনিবার বিকেল ৫টায় দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ১৫৭ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে সরবরাহ ছিল ১৪ হাজার ২৭৩ মেগাওয়াট। ফলে ওই সময়ে ঘাটতি দাঁড়ায় ১ হাজার ৮৮৪ মেগাওয়াট।

এর এক ঘণ্টা আগে, বিকেল ৪টায় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ২৪ মেগাওয়াট এবং সরবরাহ ১৪ হাজার ৮৯ মেগাওয়াট। তখন ঘাটতি ছিল ১ হাজার ৯৩৫ মেগাওয়াট।

এর আগে বিকেল ৩টায় বিদ্যুৎ ঘাটতি ছিল ১ হাজার ৮৯১ মেগাওয়াট। ওই সময় চাহিদা ছিল ১৫ হাজার ৯৩৪ মেগাওয়াট, বিপরীতে সরবরাহ হয় ১৪ হাজার ৪৩ মেগাওয়াট। দিনের শুরুতে ঘাটতি তুলনামূলক কম থাকলেও দুপুরের পর তা দ্রুত বাড়তে থাকে। দুপুর ২টায় ঘাটতি ছিল ৬৬৭ মেগাওয়াট এবং দুপুর ১টায় ৭৮৬ মেগাওয়াট।

গতকাল রাতেও বিদ্যুৎ ঘাটতি ছিল উল্লেখযোগ্য। রাত ২টায় ১৬ হাজার ১৫ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ ছিল ১৩ হাজার ৯১৬ মেগাওয়াট। ফলে ঘাটতি দাঁড়ায় ২ হাজার ৯৯ মেগাওয়াট। রাত ৩টায় ঘাটতি আরও বেড়ে হয় ২ হাজার ৩৫ মেগাওয়াট। ওই সময় চাহিদা ছিল ১৫ হাজার ৮৯৮ মেগাওয়াট এবং সরবরাহ ১৩ হাজার ৮৬৩ মেগাওয়াট।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শনিবার দিবাগত রাত ১টায় আদানির বিদ্যুৎ উৎপাদন ৯৫৫ মেগাওয়াটে নেমে আসে। এর এক ঘণ্টা আগে রাত ১২টায় উৎপাদন ছিল ১ হাজার ৩০৪ মেগাওয়াট। অর্থাৎ, এক ঘণ্টার ব্যবধানে উৎপাদন কমেছে ৩৪৯ মেগাওয়াট। দিনের বড় অংশে আদানির বিদ্যুৎ সরবরাহ ৮০০ থেকে ৯০০ মেগাওয়াটের মধ্যে ছিল।

এ ছাড়া শনিবার পায়রা থেকে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট এবং নরিংকো ও মাতারবাড়ী থেকে মিলিয়ে প্রায় ৬০০ মেগাওয়াট কম বিদ্যুৎ পাওয়া গেছে। এসব বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন কমে যাওয়ায় জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ ঘাটতি তৈরি হয়।

ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ডিপিডিসি) সূত্র জানায়, শনিবার তাদের সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ চাহিদা ছিল ২ হাজার ৩৩৩ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে ঘাটতি ছিল ২৫০ মেগাওয়াট। ফলে এলাকাভেদে দুই থেকে তিন দফা লোডশেডিং করতে হয়েছে।

অন্যদিকে ঢাকা ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (ডেসকো) জানায়, তাদের এলাকায় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল প্রায় দেড় হাজার মেগাওয়াট। এর বিপরীতে ঘাটতি ছিল ৪০০ মেগাওয়াট। ফলে ডেসকোর আওতাধীন কোনো কোনো এলাকায় কমপক্ষে চার ঘণ্টা লোডশেডিং হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গ্যাস সরবরাহ বাড়লেও বিদ্যুৎ উৎপাদনে কয়লা ও অন্যান্য জ্বালানির সরবরাহ কম থাকায় জাতীয় গ্রিডে চাপ তৈরি হয়েছে। এ কারণে ছুটির দিনেও বিদ্যুৎ ঘাটতি সামাল দিতে রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং করতে হচ্ছে।

এনএনবাংলা/