মোটরসাইকেলে এসে বিকাশকর্মীদের গাড়িতে গুলি, দুই বস্তায় থাকা তিন কোটি টাকা লুট

গাজীপুরের শ্রীপুরে মোটরসাইকেলে এসে বিকাশকর্মীদের বহনকারী প্রাইভেটকারের গতিরোধ করে গুলি চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এ সময় গাড়িতে থাকা তিনটি বস্তার মধ্যে দুটি বস্তা নিয়ে পালিয়ে যায় তারা। শুক্রবার সন্ধ্যায় শ্রীপুর-গোসিংগা আঞ্চলিক সড়কের কর্ণপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
হামলায় বিকাশের তিন কর্মকর্তা ও গাড়িচালকসহ চারজন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজনের পেটে গুলি লেগেছে। প্রাথমিকভাবে লুট হওয়া টাকার পরিমাণ প্রায় তিন কোটি টাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আহত ব্যক্তিরা হলেন মাওনা এলাকার বিকাশের ক্যাশ ম্যানেজার হিমেল (৩৫), ভালুকা এন্টারপ্রাইজ শ্রীপুরের ডিসিএম ফাহাদ হোসেন (৩০), মাওনা বিকাশের সুপারভাইজার রিফাত আহমেদ (২০) এবং গাড়িচালক লাল মিয়া (২৫)। তারা নরসিংদীর বিভিন্ন বিকাশ এজেন্টের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করে মাওনায় ফিরছিলেন।
হামলার শিকার ব্যক্তিদের ভাষ্য অনুযায়ী, নরসিংদীর বিভিন্ন এজেন্টের কাছ থেকে চার কোটি টাকা সংগ্রহ করে তিনটি বস্তায় রাখা হয়েছিল। শুক্রবার সন্ধ্যায় ঢাকা মেট্রো-গ ৩৫-০৭০১ নম্বরের প্রাইভেটকারটি মাওনার দিকে যাওয়ার পথে কর্ণপুর গ্রামের বনবেষ্টিত সড়কে পৌঁছালে ১০ থেকে ১৫টি মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তরা গাড়িটির পথ আটকে দেয়।
এরপর দুর্বৃত্তরা গাড়ির কাচ ভেঙে ভেতরে থাকা বিকাশের ক্যাশ ম্যানেজার হিমেলের পেটে গুলি করে। পরে তাকে গাড়ি থেকে নামিয়ে মারধর করা হয়। এ সময় অন্য দুই বিকাশকর্মী ও গাড়িচালককেও পিটিয়ে আহত করে হামলাকারীরা। একপর্যায়ে গাড়ির পেছনে রাখা তিনটি বস্তার মধ্যে দুটি নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় তারা।
ঘটনার পর স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় আহত চারজন শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান। সেখানে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে গুলিবিদ্ধ হিমেলের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক অনিক সরকার জানান, আহত চারজন হাসপাতালে এসেছিলেন। তাদের মধ্যে একজনের পেটে গুলির ক্ষত ছিল। তার অবস্থা বিবেচনায় উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাকি তিনজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম জানান, টাকা পরিবহনের সময় বিকাশকর্মীদের সঙ্গে কোনো নিরাপত্তাকর্মী ছিলেন না। এমনকি চার কোটি টাকা পরিবহনের জন্য পুলিশের নিরাপত্তাও নেওয়া হয়নি। তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এ ঘটনায় প্রাইভেটকারে থাকা তিন বিকাশকর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, টাকা লুটের পরিমাণসহ ঘটনার বিভিন্ন তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার এবং লুট হওয়া টাকা উদ্ধারে অভিযান চলছে।
এনএনবাংলা/
