নাভি পিল্লাইয়ের নোবেল জয়ের পরই আইসিসির ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা

নোবেল শান্তি পুরস্কার ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। শুক্রবারের এ পদক্ষেপে ইউরোপীয় মিত্রদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
শুক্রবার আন্তর্জাতিক অপরাধবিচারে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ নোবেল শান্তি পুরস্কার পান দক্ষিণ আফ্রিকার আইন বিশেষজ্ঞ ও আইসিসির সাবেক বিচারক নাভি পিল্লাই। ২০০৩ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত তিনি আদালতের আপিল বিভাগে বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এক বিবৃতিতে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র কখনোই আইসিসিকে মার্কিন নাগরিকদের বিচার করতে দেবে না। আদালতের সঙ্গে লেনদেন বন্ধ করে এর সম্পদ ও কার্যক্রম পরিচালনার সক্ষমতা সংকুচিত করতেই এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুসহ দেশটির কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইসিসির গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এবং আফগানিস্তানে মার্কিন সেনাদের কর্মকাণ্ড নিয়ে আদালতের তদন্তের কারণে দীর্ঘদিন ধরেই ওয়াশিংটনের সঙ্গে আইসিসির বিরোধ চলছে।
২০০২ সালে যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার বিচার করতে প্রতিষ্ঠিত হয় আইসিসি, যার সদস্যরাষ্ট্র ১২৫টি। যুক্তরাষ্ট্র এই আদালতের সদস্য নয়। নিষেধাজ্ঞার ফলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ব্যাংকিং, বীমা ও সফটওয়্যার সেবা ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞা মোকাবিলায় আইসিসি ইতিমধ্যে বিকল্প সফটওয়্যার, ব্যাংকিং ও স্বাস্থ্যবীমা ব্যবস্থার প্রস্তুতি নিয়েছে। আদালতের কর্মকর্তারা ইউরোপীয় ইউনিয়নকেও নিষেধাজ্ঞার বহির্দেশীয় প্রভাব থেকে সদস্যদেশগুলোকে সুরক্ষা দেওয়ার উদ্যোগ নিতে আহ্বান জানিয়েছেন।
নোবেল কমিটি পুরস্কার ঘোষণার সময় বলেছিল, আন্তর্জাতিক আইন ও বিচারব্যবস্থা যখন রাজনৈতিক আক্রমণের মুখে, তখন যুদ্ধাপরাধীদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং নির্যাতিতদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার গুরুত্ব তুলে ধরে এ স্বীকৃতি।
এনএনবাংলা/
