দিল্লিতে ৩ বছর পর আলোচনায় বসছে বাংলাদেশ-ভারত

রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই প্রায় তিন বছর পর নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বাণিজ্যবিষয়ক যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের (জেডব্লিউজিটি) বৈঠক শুরু হয়েছে। দুই দিনের এ বৈঠকে পাটপণ্যে ভারতের নতুন অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক, বাংলাদেশে ভারতীয় সুতা আমদানির বিধিনিষেধ, বাণিজ্য ঘাটতি কমানো এবং রপ্তানি বাড়ানোর সুযোগসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে শুরু হওয়া বৈঠকটি শুক্রবার শেষ হবে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, অতিরিক্ত সচিব আয়েশা আক্তারের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের বাংলাদেশি প্রতিনিধিদল এতে অংশ নিচ্ছে।
এর আগে ১৫তম জেডব্লিউজিটি বৈঠক ২০২৩ সালের ২৬ ও ২৭ সেপ্টেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ওই বৈঠকে বন্দর ব্যবহারে বিধিনিষেধ প্রত্যাহার, পণ্য সরবরাহ, পণ্যের মান নির্ধারণ ও পারস্পরিক স্বীকৃতি, সড়ক ও রেল যোগাযোগ এবং প্রস্তাবিত সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (সেপা) নিয়ে আলোচনা হয়।
এবারের বৈঠকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলোর একটি হতে পারে বাংলাদেশের পাটপণ্যে ভারতের নতুন অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক। গত সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ ও নেপাল থেকে আমদানি করা জুট ইয়ার্ন/টুইন, হেসিয়ান ফ্যাব্রিক ও জুট স্যাকিং ব্যাগের ওপর ভারতের বিদ্যমান শুল্ক কাঠামো পুনর্নির্ধারণ করা হয়। একই সঙ্গে বাংলাদেশে ভারতীয় সুতা আমদানিতে আরোপিত বিধিনিষেধের বিষয়টিও আলোচনায় আসতে পারে।
এ পরিস্থিতিতে দুই দেশের ব্যবসায়ীদের স্বার্থে বাজারসুবিধা বাড়ানো এবং বাণিজ্যের পথে থাকা বাধা কমানোর বিষয়টি উভয় পক্ষই তুলতে পারে। বিশেষ করে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বড় বাণিজ্য ঘাটতি থাকায় এবারের বৈঠক ঢাকার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ভারত থেকে বাংলাদেশে ১ হাজার ৯৬ কোটি ডলারের পণ্য আমদানি হয়েছে। বিপরীতে বাংলাদেশ ভারতীয় বাজারে রপ্তানি করেছে ১৭৫ কোটি ডলারের পণ্য। অর্থাৎ দুই দেশের বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯২১ কোটি ডলার।
চীনের পর ভারত বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম আমদানি উৎস। শিল্পের কাঁচামাল, কাপড়, সুতা, তুলাসহ বিভিন্ন পণ্য বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা ভারত থেকে আমদানি করেন। বিপরীতে ভারতে বাংলাদেশের রপ্তানির পরিমাণ তুলনামূলকভাবে অনেক কম।
এ কারণে বৈঠকে রপ্তানি বাড়ানোর সুযোগ সম্প্রসারণ, শুল্ক ও অশুল্ক বাধা দূর করা এবং স্থলবন্দর দিয়ে পণ্য পরিবহণ আরও সহজ করার বিষয়ে বাংলাদেশ জোর দিতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানিতে কিছুটা ইতিবাচক প্রবণতাও দেখা গেছে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে ভারতে বাংলাদেশের রপ্তানি হয়েছে ৩৩৫ দশমিক ২ মিলিয়ন ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৭ দশমিক ৬৭ শতাংশ বেশি।
বৈঠকে চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ব্যবহারের সুযোগ বাড়ানো, স্থলবন্দরগুলোর অবকাঠামো ও সক্ষমতা উন্নয়ন এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহের বিষয়ও গুরুত্ব পেতে পারে। ২০২৩ সালের বৈঠকেও বন্দর, স্থলবন্দর, বহুমাত্রিক যোগাযোগ ও অত্যাবশ্যকীয় পণ্য সরবরাহ নিয়ে আলোচনা হয়েছিল।
দুই দেশের বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করাই এবারের বৈঠকে ঢাকার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
এনএনবাংলা/
