সাম্প্রতিক
দেশে প্রথমবার লটারিতে সাব-রেজিস্ট্রার বদলি ফ্রান্সজুড়ে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে আহত কয়েকশ ডেঙ্গুতে ১০ মৃত্যু, হামের উপসর্গে আরও ৬ প্রাণহানি কাশ্মীর থেকে ১৫০ ‘অবৈধ বাংলাদেশিকে’ ফেরত পাঠানোর খবরে সীমান্তে সতর্ক বিজিবি রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিকে ঘেরাও করে পদত্যাগে বাধ্য করার অভিযোগ, পিএসকেও মারধর চট্টগ্রাম বন্দরে অনুমতি ছাড়া ছবি-ভিডিও ধারণে নিষেধাজ্ঞা শুধু মোকাবিলা নয়, বিজেপিকে ধ্বংস করে দেব: রাহুল গান্ধী ৩০ ব্যাংকের বন্ধ কার্ড ও ডিজিটাল সেবা দ্রুত চালুর নির্দেশ চট্টগ্রামে ৭০০ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কেন? সাংবিধানিকভাবে দায়মুক্তি পাচ্ছেন জুলাইযোদ্ধারা, ফিরছে তত্ত্বাবধায়ক-গণভোট: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
Skip to content

মবের শিকার শিক্ষক-শিক্ষার্থীরদের অভিযোগ তদন্ত করবে জাতিসংঘ, আসছেন কর্মকর্তা

৪,৫০০ শিক্ষককে জোর করে পদত্যাগ করানো হয়
জাতিসংঘের শিক্ষার অধিকারবিষয়ক বিশেষ প্রতিবেদক ফরিদা শহীদ। ছবি: সংগৃহীত

জাতিসংঘের শিক্ষা অধিকারবিষয়ক বিশেষ র‍্যাপোর্টিয়ার ফরিদা শাহিদ আগামী ২৩ নভেম্বর বাংলাদেশে আসছেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মবের শিকার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অভিযোগ তদন্ত করবেন তিনি। তার সফরে সহায়তা করবে জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিবিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কোর ঢাকা অফিস।

ফরিদা শাহিদ ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশে অবস্থান করবেন। এ সময়ে মবের শিকার শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং এসব ঘটনায় মারা যাওয়া শিক্ষকদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলার কথা রয়েছে তার।

‘পদবঞ্চিত প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও শিক্ষক জোট’-এর হিসাবে, মবের ঘটনায় প্রায় সাড়ে চার হাজার শিক্ষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে অন্তত আটজন শারীরিক ও মানসিক আঘাতের পর মারা গেছেন এবং পাঁচ শতাধিক আহত বা অসুস্থ হয়েছেন। এখনো ৯৪০ জন শিক্ষক বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না। ক্ষতিগ্রস্তদের অধিকাংশই বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক।

শিক্ষক নেতাদের অভিযোগ, জোরপূর্বক পদত্যাগ, শারীরিক লাঞ্ছনা, কর্মস্থলে যেতে বাধা, বেতন বন্ধ এবং এমপিও বা শিক্ষক ইনডেক্স বাতিলের মতো ঘটনা ঘটেছে। সরকারি নির্দেশনা জারি হলেও অনেক প্রতিষ্ঠান তা বাস্তবায়ন করেনি। ফলে দুই বছর ধরে অনেকে কর্মস্থলে ফিরতে পারছেন না।

জোটের নেতারা জানান, ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষকরা জাতিসংঘের শিক্ষা অধিকারবিষয়ক সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অভিযোগ পাঠিয়েছেন। এসব অভিযোগের সঙ্গে হেনস্তার বিবরণ, মামলা বা অভিযোগের তথ্য, ছবি, ভিডিও, অডিও এবং অন্যান্য প্রমাণ দিতে বলা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কতজন শিক্ষক অভিযোগ পাঠিয়েছেন, তা জানা যায়নি।

শিক্ষকদের পাশাপাশি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তৎকালীন সরকারি দলের ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত শিক্ষার্থীরাও মবের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অনেকে শ্রেণিকক্ষে ফিরতে পারেননি, আবার কেউ কেউ পরীক্ষা দিতে গিয়েও বাধার মুখে পড়েছেন।

শিক্ষকদের জোর করে পদত্যাগ করানোর ঘটনায় ২০২৪ সালের আগস্টে শিক্ষা মন্ত্রণালয় উদ্বেগ প্রকাশ করে। পরে জোরপূর্বক পদত্যাগ গ্রহণযোগ্য নয় জানিয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়। ২০২৫ সালে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষকদের বেতন-ভাতা চালু, চাকরি পুনর্বহাল এবং ইএফটির মাধ্যমে বেতন দেওয়ার নির্দেশনাও দেওয়া হয়। সর্বশেষ চলতি বছরের ১ জানুয়ারির পরিপত্রে বেতন-ভাতা প্রদানে বাধা দিলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের এমপিও স্থগিতের নির্দেশ দেওয়া হয়।

তবে শিক্ষক নেতাদের দাবি, এসব নির্দেশনার পরও অনেক শিক্ষক এখনো কর্মস্থলে ফিরতে পারেননি এবং অন্তত ৯৪০ জন বেতন-ভাতা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন।

ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষকদের কয়েকজন জানান, মবের চাপে তাদের পদত্যাগে বাধ্য করা, হামলা, মামলা এবং বেতন বন্ধের মতো ঘটনা ঘটেছে। তাদের দাবি, এর প্রভাব শুধু শিক্ষকদের ওপর নয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রশাসন, শৃঙ্খলা ও শিক্ষার পরিবেশের ওপরও পড়েছে।

শিক্ষক নেতারা আশা করছেন, জাতিসংঘের তদন্তে জোরপূর্বক পদত্যাগ ও মব-সহিংসতার পাশাপাশি শিক্ষার্থী এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ওপর এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবও উঠে আসবে।

এনএনবাংলা/