ফ্রান্সজুড়ে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে আহত কয়েকশ

স্কুলে পর্যাপ্ত জনবল, শিক্ষক সংকট ও জরাজীর্ণ ভবনের সমস্যা সমাধানের দাবিতে ফ্রান্সজুড়ে বিক্ষোভ করছেন শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে হাইস্কুল অবরোধের পাশাপাশি ট্রেড ইউনিয়নগুলোর নেতৃত্বে রাজপথেও বিক্ষোভ হয়েছে। এ সময় বেশ কয়েকটি এলাকায় পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
বার্তা সংস্থা এএফপির প্রকাশিত ছবিতে রোন অঞ্চলের শহর লিয়ঁতে বিক্ষোভকারীদের অগ্নিসংযোগ এবং রেনের ইল-এ-ভিলেনে পুলিশের জলকামান ও টিয়ারশেল নিক্ষেপের দৃশ্য দেখা গেছে। ফরাসি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকালে প্যারিসের বাইরের বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ৮৬ হাজার বিক্ষোভকারী জড়ো হন। খবর রয়টার্স ও এএফপির।
বড় পরিসরের এই বিক্ষোভের আগে প্যারিসের শহরতলিগুলোতে টানা দুই সপ্তাহ ধরে আন্দোলন চলছিল। পরে ধীরে ধীরে তা দেশের অন্যান্য এলাকাতেও ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন করেছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আন্দোলনটি এখন সহিংসতায় রূপ নিয়েছে।
ফ্রান্সের বিচার মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বরে বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ৫ হাজার ৬০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের ৮৭ শতাংশই অপ্রাপ্তবয়স্ক। এদের মধ্যে ১ হাজার ৮০০ জনের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কী ধরনের অভিযোগ আনা হয়েছে, তা জানানো হয়নি।
প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকোর্নুর দপ্তর জানিয়েছে, চলমান সংঘর্ষে অন্তত ৭১৫ জন পুলিশ সদস্য ও ২১৫ জন কিশোর আহত হয়েছে।
সোমবার উত্তর ফ্রান্সে দাঙ্গা পুলিশের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষের সময় এক কিশোরের হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ওই ঘটনার পর বিক্ষোভ আরও ছড়িয়ে পড়ে। রাজধানী প্যারিসের পাশাপাশি মার্সেই, স্ট্রাসবার্গ, ট্যুরস ও লিলের মতো শহরেও আন্দোলন শুরু হয়।

মঙ্গলবার প্যারিসে বিক্ষোভ করে শত শত শিক্ষার্থী। ছবি: এএফপি
শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করছেন, দেশটির হাইস্কুলগুলোতে আবাসন সংকট, শিক্ষক সংকট এবং জরাজীর্ণ ভবনের সমস্যা দীর্ঘদিনের। এসব সংকটের জন্য শিক্ষা খাতে অপর্যাপ্ত বিনিয়োগকে দায়ী করা হচ্ছে। বিক্ষোভ শুরুর পর সমস্যাগুলো সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকোর্নু।
শিক্ষার্থীদের দাবির মধ্যে রয়েছে—অনুপস্থিত শিক্ষকদের পরিবর্তে বিকল্প শিক্ষক নিশ্চিত করা, সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দীর্ঘ পাঠদানের সময়সূচি পুনর্বিবেচনা এবং দুপুরের খাবারের জন্য আরও বেশি সময় বরাদ্দ দেওয়া। প্রধানমন্ত্রী লেকোর্নু জানিয়েছেন, পুরোনো স্কুল ভবনগুলোর প্রয়োজনীয় সংস্কারের বিষয়টিও সরকার খতিয়ে দেখবে।
এদিকে প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁর সরকার ক্রমবর্ধমান বাজেট ঘাটতি কমানোর চেষ্টা করছে। এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের এই বিক্ষোভ সরকারের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছে। ঋণের বোঝা, ধীরগতির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং ব্যয় সংকোচনে সরকারের অনীহা নিয়েও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে।
এই আর্থিক চাপের মধ্যেই মঙ্গলবার ব্যয় কমানোর একটি পরিকল্পনা প্রকাশ করেছেন কট্টর ডানপন্থি নেতা ও প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী মেরিন লো পেন। তার প্রস্তাবে প্রতি বছর ২ হাজার ৫০০ কোটি ইউরো বা প্রায় ২ হাজার ৮০০ কোটি ডলার সরকারি ব্যয় কমানোর কথা বলা হয়েছে।
এনএনবাংলা/
