দেনমোহর স্ত্রীর আইনগত অধিকার, আদালতও তা মওকুফ করতে পারেন না’: হাইকোর্ট

দেনমোহর স্ত্রীর একটি স্বতন্ত্র ও আইনগত অধিকার, তাই আর্থিক অক্ষমতার অজুহাত দেখিয়ে স্বামী এই দায় থেকে অব্যাহতি পেতে পারেন না বলে পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে আদালত স্পষ্ট করেছেন, স্ত্রী স্বেচ্ছায় ও স্বাধীনভাবে দেনমোহরের পুরো বা কোনো অংশ মওকুফ না করলে আদালতেরও দেনমোহরের অর্থ কমিয়ে দেওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই।
সম্প্রতি বিচারপতি আবদুর রহমানের একক হাইকোর্ট বেঞ্চ ‘ইয়াকুব আলী বনাম সানজিদা নাসরিন’ মামলার সিভিল রিভিশনের পূর্ণাঙ্গ রায়ে এসব পর্যবেক্ষণ দেন। গত ৩ সেপ্টেম্বর ঘোষিত এই রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।
রায়ে বলা হয়, তাৎক্ষণিক দেনমোহর স্ত্রীর দাবি অনুযায়ী সঙ্গে সঙ্গেই পরিশোধযোগ্য। অন্যদিকে বিলম্বিত দেনমোহর নির্ধারিত থাকলেও তা অনির্দিষ্টকাল ঝুলিয়ে রাখার সুযোগ নেই। এমনকি দেনমোহর পাওয়ার জন্য স্ত্রীকে তালাক বা স্বামীর মৃত্যুর সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে—আইনে এমন কোনো বিধান নেই।
দেনমোহর মওকুফের বিষয়ে রায়ে উল্লেখ করা হয়, স্ত্রী চাইলে স্বেচ্ছায় পুরো বা কিছু অংশ মওকুফ করতে পারেন। তবে সেই সম্মতি হতে হবে সম্পূর্ণ স্বাধীন, সচেতন ও দ্ব্যর্থহীন। জবরদস্তি, চাপ, প্রতারণা বা অন্যায় প্রভাবের মাধ্যমে নেওয়া কোনো মওকুফ আইনের দৃষ্টিতে বৈধ নয়। কেউ স্ত্রী কর্তৃক দেনমোহর মওকুফের দাবি করলে, তা যে সম্পূর্ণ স্বেচ্ছায় করা হয়েছে—সেই প্রমাণের দায়ভারও দাবিদারকেই নিতে হবে।
তবে স্বামীর প্রকৃত আর্থিক সংকট প্রমাণিত হলে আদালত দেনমোহরের পাওনা অর্থ কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ দিতে পারেন। তবে এই কিস্তির ব্যবস্থা এমনভাবে করতে হবে যেন ডিক্রিধারী স্ত্রী ও সন্তানের ন্যায়সংগত অধিকার পূর্ণাঙ্গভাবে সুরক্ষিত থাকে।
এনএনবাংলা/ইএস
