কাশ্মীর থেকে ১৫০ ‘অবৈধ বাংলাদেশিকে’ ফেরত পাঠানোর খবরে সীমান্তে সতর্ক বিজিবি

ভারতের জম্মু ও কাশ্মীর থেকে ‘অবৈধভাবে’ বসবাসের অভিযোগে অন্তত ১৫০ বাংলাদেশিকে আটক করে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে বলে দাবি করেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য প্রিন্ট। সোমবার আটকের পর ভারতীয় বিমান বাহিনীর একটি বিশেষ বিমানে তাদের পশ্চিমবঙ্গের বাগডোগরা বিমানবন্দরে নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে তাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
দ্য প্রিন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, জম্মু ও কাশ্মীর থেকে প্রকাশ্যে নথিভুক্ত বড় পরিসরে বাংলাদেশিদের ফেরত পাঠানোর ঘটনা এটি প্রথম। ভারতের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, অঞ্চলটিতে বর্তমানে ৫০৪ জন বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন। ফেরত পাঠানো ১৫০ জনও এই তালিকায় ছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে।
কাশ্মীরে কর্মরত শ্রমিকদের নিবন্ধনের সময় আধার কার্ডের তথ্য যাচাই করতে গিয়ে তাদের জাতীয়তা নিয়ে অসঙ্গতি ধরা পড়ে। পরে বাংলাদেশে তথ্য পাঠিয়ে জাতীয়তা নিশ্চিত করা হয়। এরপর ভারতের ‘ফরেনার্স অ্যাক্ট’-এর আওতায় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয় বলে এক জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানিয়েছে দ্য প্রিন্ট।
ওই কর্মকর্তা জানান, বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর জন্য পশ্চিমবঙ্গে মালদা ও বাগডোগরা দুটি ট্রানজিট পয়েন্ট রয়েছে। তবে ১৫০ জনকে কোন সীমান্ত দিয়ে ফেরত পাঠানো হয়েছে, তা তিনি স্পষ্ট করেননি। একই সঙ্গে জম্মু ও কাশ্মীর থেকে আরও একটি দলকে আগামী ৭ অক্টোবর ফেরত পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
এদিকে এ খবরের পর সীমান্তে সতর্কতা বাড়িয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। পঞ্চগড় ১৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ মো. কায়েস বলেন, বিভিন্ন মাধ্যমে তারা বাংলাদেশিদের ফেরত পাঠানোর খবর পেয়েছেন। কোনোভাবেই যেন ‘পুশইন’ না হয়, সে বিষয়ে বিজিবি সতর্ক রয়েছে।
তিনি জানান, খবর পাওয়ার পর সীমান্তে গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল বাড়ানো হয়েছে। সীমান্ত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা নিয়ে কাজ করছে বিজিবি।
এনএনবাংলা/
